একটি শিশুর ভাবনা আর আমাদের রমযান মাস

একটু ভেবে দেখুন আপনার আশেপাশে যদি কোন শিশু থাকে তাহলে সে সারাদিন কি করে। সে খুব খুশি থাকে আশেপাশের সব ব্যাপার নিয়ে, এটা-সেটা ধরতে চায়। খুব কৌতুহলী কি করছে তার মা রান্নাঘরে। আর খাওয়ার টেবিলে ডালের থালা ধরে টান দেওয়ার জন্য ক্লান্তহীন চেষ্টা। ব্যাপারটাকে জোড়া লাগানোর চেষ্টা করেছি একজন লেখকের একটি বক্তব্যের সাথে, তার মতে একটি শিশুর কাছ থেকে একজন বয়স্কের তিনটি জিনিস শেখার আছে।

১ – খুশি হওয়া যে কোন কারণে (To be happy for no reason):ramadan-iftar[1]

আমাদের খুশি হওয়া উচিত, কারণ এত সুন্দর একটি মাস আর এই মাসে এত মহিমাময় এক রাত্রি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের উপহার দিয়েছেন। সূরা কদর এর দুটি আয়াত উল্লেখ করলাম –

“শবে-কদর সমন্ধে আপনি কি জানেন?” – وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ
“শবে-কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ” – لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ

আর এই মাসে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা জান্নাতের সমস্ত দরজা খুলে দেন এবং বান্দাদের উপর রহমত বর্ষিত করতে থাকেন। আর এত কষ্ট করে একমাস পালন শেষে ঈদুল ফিতর যা এমন এক খুশির দিন, যে দিন ছোট-বড় আর ধনী-গরীব সবাই একসাথে আনন্দে মেতে উঠে। একবার একটু উপলব্ধি করুন যে এত সুন্দর উপহারগুলো আপনি অন্য কোনও মাসে পেয়েছেন কিনা। শিশুরাতো যে কোন কারণে খুশি হয়, কিন্তু আপনার কাছে রমযানের আগমনে খুশি হওয়ার অনেক কারন আছে। এই হাদিসটি পড়লে আপনার খুশি আরও কয়েক ডিগ্রী বেড়ে যাবে –

সাহল বিন সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: “জান্নাতের এক প্রবেশদ্বার রয়েছে যার নাম ‘রাইয়্যান’। কেয়ামতের দিন ঐ দ্বার দিয়ে রোযাদারগণ প্রবেশ করবে। তারা ছাড়া তাদের সাথে আর কেউই ঐ দ্বার দিয়ে প্রবেশ করবে না। বলা হবে: ‘কোথায় রোযাদারগণ?’ সুতরাং তারা ঐ দরজা দিয়ে (জান্নাতে) প্রবেশ করবে। অতঃপর যখন তাদের সর্বশেষ ব্যক্তি প্রবেশ করবে, তখন সে দ্বার রুদ্ধ করা হবে। ফলে সে দ্বার দিয়ে আর কেউই প্রবেশ করতে পারবে না।” [বুখারী ও মুসলিম]

২ – সব সময় কৌতুহলী থাকা (To always be curious):

আপনার মনে হতে পারে কৌতুহলী হওয়ার মতো কি আছে? অথবা আপনি বলতে পারন প্রতি বছরেইতো রোজা আসে এতে আবার নতুন কি? একটু কৌতুহলী হয়েই দেখুননা এইবার, দেখবেন ভাল লাগছে। সাহাবারা কোমর বেঁধে নেমে পড়তেন এই মাস এলে ইবাদতের প্রতিযোগিতায়। আর আমাদের জন্য হয়ে গেছে রমযান মাস একটা পার্টির মওসুম। আমার কথা হচ্ছে কমপক্ষে আমরা ইফতার, সেহরি, তারাবী, আর অফিস থেকে তাড়াতাড়ি বাসায় এসে পরিবারের সাথে সময় কাটানো, ঈদের সালামি এই সব বিষয় নিয়ে তো কৌতুহলী হতে পারি। কারন এই জিনিসগুলো অন্য মাসের বদৌলতে আমাদের কাছে আর আসেনা। কিন্তু আপনি যদি আসলেই কৌতুহলী হতে ইচ্ছা পোষন করেন তাহেল সূরা বাকারাহ এর ১৮৩ নম্বর আয়াতটি একটু পড়ুন। আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা বলছেন –

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
“হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা মুত্তাকী হতে পার।”

এই আয়াতটি পড়ে আপনার নিশ্চয় কৌতুহল হওয়ার কথা যে আপনি কিভাবে মুত্তাকী হতে পারবেন রমযান মাসের রোজা পালনের মাধ্যমে। আপনার কৌতুহল মেটাতে স্কলারসদের কিছু wisdom রমযান মাসের ব্যপারে এখানে শেয়ার করলাম (AL-KAUTHAR এর কোর্স থেকে নেওয়া) –

555081_360489194052110_1004474958_n[1]– It teaches a Muslim the principle of sincere love
– Engenders hope and optimism
– Imbues virtue of effective devotion
– Cultivates vigilance and conscience
– Instills patience and selflessness
– Teaches moderation and will power
– Is a spiritual cleansing
– New way of wise saving & sound budgeting
– Improves adaptability ও Disciplining
– Unites the Ummah (Muslim Brotherhood)
– Prescription for self-reassurance and self-control from Allah (SWT)

৩ – কোন কিছুর পেছনে ক্লান্তহীন ভাবে লেগে থাকা (To fight tirelessly for something):

আপনার কি মনে হচ্ছে আপনি কি বিষয় নিয়ে লেগে থাকবেন এই মাসে? মজার মজার ইফতার নিয়ে নাকি ঈদের জামা কাপড় কেনাকাটা নিয়ে ব্যস্ত থেকে? একবার জিবরীল (আঃ) রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর কাছে এসে তিনটি বিষয়ে অভিশাপ করেছিলেন (যারা এর প্রতি খেয়াল রাখেনা) এবং রাসুলুল্লাহ এতে সম্মত হয়েছেন এবং প্রতিবার বলেছেন “আমিন”। আর এর প্রথম কথাটিই ছিল রমযান নিয়ে যা ছিল এইরকম –

“ধ্বংস হোক সে, যে এই রহমতের মাস রমযান পেল এবং ক্ষমা ছাড়াই চলে যেতে দিল”

এর থেকে স্পষ্ট করে বলা যায় এই মাসে আল্লাহর কাছ থেকে সমস্ত গুনাহের আন্তরিক ক্ষমা চাওয়া আর পাপ মুক্তির জন্য ক্লান্তহীনভাবে চেষ্টা করা খুবই জরুরী, আর এই মাসটি হচ্ছে তার জন্য অন্যতম। তাই আপনিও শিশুর মত আল্লাহর কাছে ক্লান্তিহীনভাবে কাঁদতে থাকবেন আপনার গুনাহ মাফের জন্য। বেশি বেশি এই দুআ করতে থাকুন এই রমযান মাসে (Quran Weekly এর ভিডিও থেকে নেওয়া):

আল্লাহুম্মা আদখিলনি জান্নাতুল ফিরদাউস । আল্লাহ আমাকে জান্নাতুল ফিরদাউসে প্রবেশ করার তওফিক দান করুন”
আল্লাহুম্মা আজিরনী মিনান-নার । আল্লাহ আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিন”

বিঃদ্রঃ এখানে প্রথম পয়েন্টটি লেখক Paulo Coelho এর উক্তি থেকে নেওয়া, বাকি দুইটি একটু পরিবর্তিতরূপ দেওয়া হয়েছে লেখার সুবিধার জন্যে। অবশ্য পরিবর্তিতরূপটি নেওয়া হয়েছে ফেসবুক থেকে যেখানে বলা হয়েছে এই পয়েন্ট গুলোও লেখকেরই উক্তি।

References:

  1. http://en.wikipedia.org/wiki/Paulo_Coelho
  2. http://www.alkauthar.org/index.php
  3. http://www.youtube.com/watch?v=QM1D57SGNhM – Do You Want Paradise? – Omar Suleiman – Quran Weekly
Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s