সূরা কাহফ-এর ছায়াতলে (আয়াত ২৩-২৪): আল্লাহ না চাইলে আমাদের চাওয়ায় কিছু হয় না

frost-on-bench-at-park

আগের আলোচনা: আয়াত ১-৬ | ৭-৮ | ৯-১২ | ১৩-১৪ | ১৫-১৬ | ১৭-১৮ | ১৯-২০ | ২১ | ২২ 

18:23

18:24

২৩। কোনো কাজ সম্পর্কে কখনো বলো না ‘আমি এ কাজ আগামীকাল করব’।

২৪। তবে (বলো) আল্লাহ যদি চান (তবে করব)। আর কখনো ভুলে গেলে নিজ প্রতিপালককে স্মরণ করো এবং বলো, আমি আশা করি আমার প্রতিপালক এমন কোনো বিষয়ের প্রতি পথনির্দেশ করবেন যা এর চেয়েও হিদায়াতের বেশি নিকটবর্তী হবে।

সংক্ষিপ্ত তাফসির:

হে নবী ﷺ! কোনো কাজ সম্পর্কে আপনি কখনো বলবেন না, ‘আমি এ কাজ আগামীকাল (অথবা ভবিষ্যতে কোনো দিন) করব’। এর পরিবর্তে বলুন, আল্লাহ যদি চান তবে তা করব। আর কোনো কারণে কথাটি বলতে ভুলে গেলে আপনার প্রতিপালকের কথা স্মরণ হওয়া মাত্রই বলুন, আল্লাহ যদি চান তবেই তা করব। 

আরও বলুন, আমি আশা করি আমার প্রতিপালক এমন কোনো বিষয়ের প্রতি পথনির্দেশ করবেন যা গুহায় অবস্থান নেওয়া এই যুবকদের বিস্ময়কর কাহিনীর চেয়েও হিদায়াতের বেশি নিকটবর্তী হবে। আর সেটি হলো আপনার নবুয়ত। [কৃতজ্ঞতা: তাফসির আল-জালালাইন এবং তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন]

প্রাসঙ্গিক আলোচনা:

জন্ম থেকে নিয়ে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি মুহুর্তে আমরা আল্লাহর উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। আমাদের দেহের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ তাঁরই ইচ্ছার অধীনে চলছে। তিনি ক্ষমতা না দিলে একটি সাধারণ কাজ করতেও আমরা অক্ষম। কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই যেকোনো সময়ে আমরা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারি। আমাদের কর্মক্ষমতা লোপ পেতে পারে। মস্তিষ্কে বিভ্রাট ঘটতে পারে। এমনকি, আগামী কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আমরা মারাও যেতে পারি।

আমরা চাইলেই সব হবে এমন কোনো কথা নেই। কিন্তু, আল্লাহ চাইলে সবই হয়।

অতএব, “আমি আগামীকাল এই কাজটি করব” অথবা “অমুক সময়ে তমুক কাজটি আমি করব” – এভাবে না বলে আমাদের বলা উচিৎ “আল্লাহ চাইলে আমি আগামীকাল এই কাজটি করব” অথবা “আল্লাহ চাইলে অমুক সময়ে তমুক কাজটি আমি করব”।

আল্লাহর হাতে আমাদের ভবিষ্যতকে এভাবে সোপর্দ করে দেওয়ার মাধ্যমে আমরা বুঝিয়ে দিচ্ছি যে, আমরা যা চাই না কেন, যেভাবে চাই না কেন, যখন চাই না কেন – তা হওয়া বা না হওয়া একান্তই তাঁর ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। মানুষ হিসেবে আমাদের কাজ চেষ্টা করে যাওয়া। আল্লাহ চাইলে আমাদের ইচ্ছার বাস্তবায়ন হবে। আর তাঁর ইচ্ছা ভিন্ন কিছু হলে তারই প্রকাশ ঘটবে।

আল্লাহর ইচ্ছার অধীনে আমাদের যাবতীয় ইচ্ছা ও আকাঙ্খাকে পুরোপুরি সমর্পন করে দিতে সক্ষম হলে জীবন সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি আমূল বদলে যাবে। কেবল তখনই আমরা অনুধাবন করতে পারব যে, আমাদের জীবনে যত সাফল্য এসেছে তা আমাদের কারও একক প্রচেষ্টার ফসল নয়। আল্লাহর সাহায্য না থাকলে আমরা কখনোই সাফল্যের মুখ দেখতে পারতাম না।

পক্ষান্তরে, আমাদের জীবনে যত ‘প্রতিকূলতা’ এসেছে তা আল্লাহর ইশারাতেই হয়েছে। আর আমরা যাকে প্রতিবন্ধকতা বলে এখন মনে করছি তা আমাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে কল্যাণকরও হতে পারে।

এই বাস্তবতাটি হৃদয়ঙ্গম করতে পারলে সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহন করেও আমরা বিনয়ী থাকতে পারব এবং কোনো বিষয়ে আপাতদৃষ্টিতে ব্যর্থ হলেও ভেঙে না পড়ে আমরা ধৈর্য ধারণ করতে শিখব। ইনশাআল্লাহ।

সর্বশেষ সম্পাদনা: ২৩শে জানুয়ারি, ২০১৭

Advertisements

7 thoughts on “সূরা কাহফ-এর ছায়াতলে (আয়াত ২৩-২৪): আল্লাহ না চাইলে আমাদের চাওয়ায় কিছু হয় না

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this:
search previous next tag category expand menu location phone mail time cart zoom edit close