মদিনার স্মৃতিকথা: ভালবাসি, অনেক বেশি ভালবাসি

দিনটি ছিল ১৪৩১ হিজরির ২৫শে যুল-কা’দাহ, ২০১০ খ্রিস্টাব্দের ২রা নভেম্বর। বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে মক্কার মিসফালাহ এলাকার হিজরাহ সড়কে অবস্থিত রিহাব আল রাওদাহ হোটেলের সামনে থেকে রওনা দিয়েছে আমাদের বাস। আমরা জনা চল্লিশেক মানুষ এক পুণ্যভূমি মক্কা থেকে চলেছি আরেক পুণ্যভূমি মদিনার দিকে।

মদিনা নামটা শুনলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে আসে একটা সবুজ গম্বুজের ছবি, যার ঠিক নিচেই শুয়ে আছেন সর্বশ্রেষ্ঠ মানবসন্তান, সর্বশেষ রাসুল, উত্তম চরিত্রের সর্বোত্তম আদর্শ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)| মদিনার সঙ্গে প্রতিটি মুসলিমেরই আছে নাড়ির টান, আবেগের সম্পর্ক। আর তেমনটি হবে নাই বা কেন? রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে নিজের চোখে দেখার সৌভাগ্য আমাদের হয়নি, কিন্তু তিনি যে রাস্তা দিয়ে হেঁটেছেন সেই রাস্তা দিয়ে হাঁটতে পারাটাও কি কম সৌভাগ্যের? তিনি যেখানে নামায আদায় করতেন, ঠিক সেখানেই বা তার আশেপাশে নামায আদায় করতে পারাটাও কি কম আবেগের? তাঁর জীবদ্দশায় তাঁকে সামনাসামনি সালাম দিতে পারিনি, তাঁর হাতে হাত মেলাতে পারিনি, কিন্তু ঠিক যে জায়গা থেকে এই নশ্বর দুনিয়ার বাঁধন ছিন্ন করে তিনি তাঁর “রফিকুল-আ’লা” আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কাছে চলে গেলেন, যেখানে তাঁর পবিত্র দেহ শুয়ে আছে, একেবারে তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে তাঁকে “আস-সালামু আলাইকা ইয়া রাসুলাল্লাহ” বলতে পারাটাও কি কম স্বস্তিদায়ক?

সেই আবেগকে সম্বল করেই আমরা চলেছি। মরুভূমির পাহাড়ি রাস্তা ধরে যতই সামনে এগুচ্ছিলাম, আমাদের উত্তেজনা ততই বাড়ছিল। আমাদেরকে বহনকারী বাসটি যখন মদিনা শহরের সীমানায় ঢুকল তখন সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হয়ে গেছে। মদিনায় ঢোকার মুখে শহরের রাস্তাঘাট আর বাড়িঘর দেখে কেন জানি আমাদের দেশের কোনো বড় মফস্বল শহরের কথা মনে হচ্ছিল। বাড়িগুলো বাইরে থেকে বেশ সাদামাটা দেখাচ্ছিল, রাস্তায় লোক চলাচলও ছিল মক্কা শহরের চাইতে অনেক কম। একটু পরে হাতের বামদিকে নজর আটকে গেল সেখান থেকে বেশ দূরে অবস্থিত মসজিদ আন-নববীর সুউচ্চ সাদাটে মিনারগুলোর দিকে। আমার মনের মধ্যে তখন কী চলছিল তা প্রকাশের কোনো ভাষা আমার জানা নেই, এ তো অনাবিল প্রশান্তির আনন্দদায়ক এক অনুভূতি, এ তো অন্তর নরম করা পরম স্বস্তির এক অনুভূতি। এই সেই শহর যেখানে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অরাজক আরবের বুকে একটি নতুন সভ্যতা, একটি নতুন আদর্শের বীজ সফলভাবে বপন করে গেছেন!

কেউ প্রকাশ্যে স্বীকার করুক বা না করুক, মদিনাতে আসলে সবার মনটাই পড়ে থাকে সেই সবুজ গম্বুজটার দিকে, তার ছায়াতলে শুয়ে থাকা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দিকে। কখন যে সেখানে যাওয়ার সৌভাগ্য হবে? কখন যে সেখানে গিয়ে বলব, “আস-সালামু আলাইকা ইয়া রাসুলাল্লাহ!”

সেবারই মদিনাতে আমার প্রথমবার যাওয়া, তাই কোথা থেকে কোথায় কিভাবে যেতে হবে তা ধরতে খানিকটা সময় লেগে গেল। পরেরদিন দিনের বেলায় মসজিদ আন-নববীর ১ নম্বর গেট “বাব আস-সালাম” দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়লাম। আমার সামনে-পেছনে সবার গন্তব্য একটাই, সবার উদ্দেশ্য একটাই – পরম প্রেমাষ্পদের সাথে মিলিত হওয়ার তীব্র আকাঙ্খা। সেখানে কেউ বিড়বিড় করে কুর’আন তিলাওয়াত করছেন, কেউ একমনে দু’আ করে চলেছেন, কেউ অবিরতভাবে দরুদ পড়ে চলেছেন, কেউবা আবার চরম আবেগে ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন। ভিড়ের মধ্যে মানুষের স্রোত আস্তে আস্তে সামনের দিকে এগুচ্ছে। “রিয়াদুল জান্নাহ”-কে হাতের বামদিকে রেখে যিয়ারতকারীদের ভিড় সোজা এগিয়ে চলেছে। অবশেষে এল সেই কাঙ্খিত মুহুর্তটি। আমার হাতের ঠিক বামদিকেই মাত্র কয়েক গজ দূরে গ্রিল দিয়ে ঘেরা সেই ঘরটির ভেতরেই কবরের মধ্যে শুয়ে আছেন “সাইয়িদুল-মুরসালিন”, “খাতামুন-নাবিইয়িন”, “রাহমাতুল্লিল ‘আলামিন” রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)| জীবনে প্রথমবার সেখানে দাঁড়িয়ে বললাম, “আস-সালামু আলাইকা ইয়া রাসুলাল্লাহ!” এর ঠিক পরেই এল রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দুই ঘনিষ্ঠতম সাহাবী এবং ইসলামের প্রথম দুই খলিফা আবু বকর আস-সিদ্দিক এবং উমার বিন আল-খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে সালাম দেওয়ার পালা। ততক্ষণে আমি এক ঘোরের মধ্যে চলে গিয়েছি।

“বাব আল-বাকী” দিয়ে যখন বাইরে বেরিয়ে এলাম তখন আমার দৃষ্টি ঝাপসা, দুই চোখ দিয়ে অবিরতভাবে গড়িয়ে চলেছ অশ্রু। এই তীব্র আবেগ, এই বাঁধভাঙ্গা অশ্রু কোনো যুক্তির বাধন মানে না, এ তো অন্তরের ভেতরকার ভালবাসার স্বতঃস্ফুর্ত বহিঃপ্রকাশ। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুনিয়া থেকে চলে গেছেন তখন থেকে ১৪২১ বছর আগে, তারপরও তাঁর প্রতি ভালবাসা যদি আমার যুক্তির সব বাঁধ ভেঙ্গে দেয়, তাহলে তাঁর সাহাবীরা, যারা তাঁকে সামনাসামনি ঈমান সহকারে দেখেছেন তাঁদের তখনকার মনের অবস্থাটুকু একটু ভেবে দেখুন। আল্লাহু আকবার! সাহাবীরা আসলেই সৌভাগ্যবান।

তারপরেও আশায় বুক বেধে রই। ইনশা আল্লাহ, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে আমাদের দেখা হবে হাশরের ময়দানে। ইনশা আল্লাহ, তাঁর পবিত্র হাত থেকেই আল-কাউসারের পানি পান করে সেই কঠিন দিনের তৃষ্ণা মেটানোর সৌভাগ্য আমাদের হবে। ইনশা আল্লাহ, তাঁর বিশেষ সুপারিশে আল্লাহ আমাদের ভুলত্রুটিগুলো ক্ষমা করে দিয়ে আমাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। ইনশা আল্লাহ, জান্নাতে তাঁর সাথে আমাদের নিয়মিত সাক্ষাৎ হবে।

পরবর্তীতে “বাব আল-বাকী”-এর সামনে দাঁড়িয়ে আমি দেখেছি যারা সেখান থেকে বেরিয়ে আসছেন তাদের বেশিরভাগেরই আমার মতো অবস্থা। যার গায়ের রঙ যাই হোক না কেন, যিনি যে ভাষাভাষী হোন না কেন, যিনি যে দেশের নাগরিক হোন না কেন – সেখানে সবার পরিচিতির ভিন্নতা একাকার হয়ে গেছে, আর তা হলো তারা সবাই রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উম্মাতের সদস্য।

আরেকদিনের কথা না বললেই নয়। সেদিন যুহরের ওয়াক্ত হওয়ার ঘন্টাখানেক আগে আমি হোটেল থেকে রওনা দিয়েছি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে যিয়ারতের উদ্দেশ্যে। যা ঘটবার নয় তাই ঘটল। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কবরের ঠিক সামনে, কর্তব্যরত একজন ব্যক্তি ইশারায় আমাদেরকে বসতে বললেন। ততক্ষণে যুহরের নামাযের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে “বাব আস-সালাম” যিয়ারতকারীদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সাদা রঙের যে অনুচ্চ পার্টিশনটি গ্রিল দিয়ে ঘেরা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কবর এবং মসজিদ আন-নববীর নামাযের এলাকাকে পৃথক করেছে সেই পার্টিশনটির ওপর হেলান দিয়ে আমি নিশ্চিন্তে বসে পড়লাম। একেবারে আক্ষরিক অর্থেই সেখান থেকে ঠিক পেছনে, মাত্র কয়েক গজ দূরে শুয়ে আছেন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)| আমার মতো আপাদমস্তক পাপে জর্জরিত একজন নগণ্য মানুষকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তখন থেকে নিয়ে যুহরের নামায শেষ হওয়া পর্যন্ত এক ঘন্টারও বেশি সময় এরকম একটি বিশেষ জায়গায় কাটানোর সুযোগ করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! এই একটি ঘন্টায় কত কিছু যে ভেবেছি। আমার পেছনে ওই ওখানেই তো থাকতেন আমাদের প্রিয় রাসুল, ওই যে ডানদিকে ওখানেই তো তিনি সাহাবীদেরকে নিয়ে জামাতে নামায আদায় করতেন, সেটিই তো ছিল ইসলামের মূল শিক্ষাকেন্দ্র, সেখানে বসেই তো তিনি কত যুদ্ধের পরিকল্পনা করেছেন, এখানেই তো কুর’আন নাযিল হতো, এই রাস্তা দিয়েই তো তিনি তাঁর বাসা থেকে “বাকী” কবরস্থানে যিয়ারত করতে যেতেন – আরো কত ভাবনা। হাদিস, সিরাহ আর তাফসিরের বইয়ে পড়া একের পর এক ঘটনা মনের মুকুরে ভেসে উঠছিল।

এতক্ষণ ধরে আমি যা যা বললাম তার মধ্যে যুক্তির চেয়ে আবেগের প্রাধান্যই হয়ত বেশি। সাহাবীদের মধ্যে এবং সালাফুস-সালিহীনদের মধ্যেও রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে নিয়ে এরকম আবেগ ছিল, বরং এর চাইতে বেশিই ছিল। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবীদের মধ্যে থাকা অবস্থায় উযু করলে তাঁর উযুতে ব্যবহৃত পানি তাঁর পবিত্র শরীর থেকে গড়িয়ে মাটিতে পড়ার আগেই সাহাবীরা তা ধরে নেওয়ার চেষ্টা করতেন, এমনকি তাঁর মুখ থেকে নিঃসৃত থুতুও মাটিতে পড়তে দিতেন না। কোনো কোনো সাহাবী তাঁর পবিত্র শরীর থেকে বের হওয়া ঘাম পর্যন্ত পাত্রে ভরে সংরক্ষণ করে রাখতেন। বিদায় হজের সময়ে তাঁর পবিত্র মাথা থেকে ফেলে দেওয়া চুলগুলোও সাহাবীদের মধ্যে বিতরণ করে দেওয়া হয়েছিল। সাহাবীদের এই কাজগুলো আবেগ না হলে আবেগ আর কাকে বলে?

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেদিন মৃত্যুবরণ করলেন সেদিন তাঁর মুয়াযযিন বিলাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যখন পরবর্তী ওয়াক্তের নামাযের জন্য আযান দিতে উঠলেন তখন “আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ” পর্যন্ত পৌছে তাঁর গলা আটকে গেল, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথা তাঁর মনে পড়ে গেল, তিনি আর সেই আযান শেষ করতে পারলেন না। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুপস্থিতে মদিনা শহরটি বিলাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে খালি খালি লাগতে লাগল। পরবর্তীতে জিহাদে অংশ নিতে তিনি মুসলিম সৈন্যবাহিনীর সঙ্গে বৃহত্তর সিরিয়া অঞ্চলে চলে গেলেন। সেখানে থাকা অবস্থায় একদিন তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে স্বপ্নে দেখলেন, যেখানে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে মদিনাতে যিয়ারতে যেতে বললেন। মদিনাতে এসে বিলাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলেন না। তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কবরকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন। এই হলেন বিলাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু), যিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দাওয়াতের একেবারে শুরুর দিকে ইসলাম গ্রহণ করেছেন, ইসলাম গ্রহণের ‘অপরাধে’ মক্কার কুরাইশ সর্দারদের দ্বারা দিনের পর দিন অমানবিক নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন, দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সুখে-দুঃখে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পাশে থেকেছেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি তাঁর সাহাবীদের অগাধ বিশ্বাস, নিঃস্বার্থ আনুগত্য আর ভক্তিভরা ভালবাসার আসলেই কোনো তুলনা হয় না।

০০০

মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আল্লাহর রাসুল হিসেবে বিশ্বাস করা, তাঁর প্রতি নাযিল হওয়া দীনকেই একমাত্র সঠিক জীবনবিধান হিসেবে মেনে নেওয়া, তাঁকে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালবাসা ঈমানের অবিচ্ছেদ্য দাবী। এক্ষেত্রে আবেগবিহীন আনুগত্য বা আনুগত্যবিহীন আবেগ – উভয় আচরণই নিন্দনীয়।

কিছু লোক আছেন যারা মুখে সুন্নাহ অনুসরণের দাবী করেন ঠিকই, কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি তীব্র ভালবাসার কারণে স্বতঃস্ফুর্তভাবে প্রকাশিত অনেক আচরণকে তারা বিদ’আহ, এমনকি শির্ক-এর তকমা পর্যন্ত দিয়ে দিচ্ছেন। এরা ইসলামকে কিছু আদেশ আর নিষেধের গন্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছেন, আবেগের মূল্য সেখানে নেই বললেই চলে। কিন্তু আবেগ ছাড়া আনুগত্য যে বড়ই বর্ণহীন, বড়ই পানসে! সাহাবীরা তো আবেগ দিয়েই রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আনুগত্য করে গেছেন।

অন্যদিকে কিছু লোক আবার আবেগের আতিশয্যে যা করার কথা নয় তাও করে বসছেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ মুখে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি ভালবাসার তুবড়ি ফোটান ঠিকই, কিন্তু বাস্তবে তাঁর দেখানো রাস্তায় নিজের জীবনকে সাজানো থেকে পিছপা থাকেন। কেউ আবার ভক্তি আর প্রশংসার আতিশয্যে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য শোভা পায় এমন গুণে গুণান্বিত করে শির্ক-এর কাজ করে ফেলেন। কিন্তু আনুগত্য বাদ দিয়ে শুধুই আবেগ দেখানো তো বড়ই ঠুনকো, বড়ই মেকি! সাহাবীরা তো সুন্নাহ মানার মাধ্যমেই রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি তাঁদের আবেগকে বাস্তবে রূপ দিয়ে গেছেন।

০০০

চরমপন্থা নয়, চাই ভারসাম্যপূর্ণ আচরণ – যেখানে আবেগও থাকবে, আনুগত্যও থাকবে। তবেই আমরা সাহাবীদের মতো রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সত্যিকার অর্থে ভালবাসতে পারব।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের সবাইকে গোষ্ঠীগত আনুগত্যের উর্ধে উঠে বস্তুনিষ্ঠভাবে বিষয়টি বোঝার তৌফিক দিন সেই কামনা রইল।

Advertisements

1 thought on “মদিনার স্মৃতিকথা: ভালবাসি, অনেক বেশি ভালবাসি

  1. অনেক সুন্দর লিখেছেন। জাযাকুমুল্লাহু খায়রান ওয়া বারাকাল্লাহু ফীকুম। ইতিহাস যখন আবেগ আর ভালোবাসার সঙ্গে মিশে একাকার হয়ে যায় তখন সেটা আর কেবল কালো কালিতে লেখা কিছু প্রাণহীন হরফ থাকে না, হয়ে ওঠে হারাকাহপূর্ণ সচল অনুভূতির সঞ্চারণ। আল্লাহ আপনার লেখায় আরও বারাকাহ দিক। আমীন।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this:
search previous next tag category expand menu location phone mail time cart zoom edit close