রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে ভালবাসতে হবে সাহাবীদের মতো করে

ভালবাসা শব্দটা শুনতে খুব মধুর লাগে তাই না…! অবশ্য ভালবাসা বলতে আমরা এখন অবিবাহিত ছেলেমেয়েদের মধ্যকার হারাম মেলামেশাকেই শুধুমাত্র বুঝে থাকি। যখন যেটা imagesCA3S425Wপ্রচলিত আমরা তখন সেটাকেই মাথায় নিয়েই চলে থাকি। তবে, আমরা মা-বাবা, সন্তান, বন্ধুদের ভালবাসি; কিন্তু তাদের জন্য আমরা কতটুকু ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত? ভালবাসা কতটুকু গভীর হতে পারে তা এই লেখায় আমি আপানাদেরকে বোঝাতে চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ। যার মাধ্যমে ভালবাসা ব্যাপারটা কত মহৎ এবং তা আমাদের কোথায় নিয়ে যেতে পারে তা ফুটে উঠবে।

আয়েশা (রাঃ) একদিন রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে খুব ভাল মেজাজে দেখতে পেয়ে বললেন, “আল্লাহর কাছে আমার জন্য দুআ করুন” – তখন তিনি বললেন “ও আল্লাহ! আয়েশার অতীতের এবং ভবিষ্যতের সমস্ত গুনাহ, যা সে গোপনে এবং প্রকাশ্যে করেছে সব ক্ষমা করে দাও।” রাসূলুল্লাহ (সাঃ) দেখলেন আয়েশা (রাঃ) এই দুআর পরে অত্যন্ত খুশি, তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন “আল্লাহর কসম, এই দুআ আমি আমার উম্মতের জন্য সবসময় করে থাকি।”1

আমি এই হাদীস দ্বারা প্রমাণ করতে চাইছি যে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাঁর উম্মতদের কতই না ভালবাসতেন! আর তাই তিনি তাঁর সমস্ত উম্মতের ভালর জন্য প্রতিনিয়ত দুআ করতেন, সর্বদা মঙ্গল কামনা করতেন, এমনকি কষ্ট করে ইসলাম প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনে যুদ্ধ করেছেন এবং চির শান্তির স্থান জান্নাতে যাওয়ার সমস্ত উপায় জানিয়ে দিয়ে গেছেন।

তাই মনের মাঝে প্রশ্ন জাগে যে মুসলিম হিসেবে আমরা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে কতটুকু খাঁটিভাবে ভালবাসতে পেরেছি? যদি পেরেই থাকি তবে তার প্রমাণ কি কুরআন এবং সুন্নাহের অনুসরণের মাধ্যমে দিতে যথাসাধ্য চেষ্টা করছি? আল্লাহ আমাদের সাহায্য করুন।

আসুন সাহাবীগণ তাঁদের কথায় ও কাজে নবীজীকে কি পরিমাণ ভালবেসেছেন তার কিছু নিদর্শন দেখার চেষ্টা করি যার মাধ্যমে বুঝতে পারব ভালবাসা কতটুকু গভীর হতে পারে এবং তা কত মহৎ।

ইসলামের প্রথম খলীফা আবু বকর (রাঃ) নিজের জীবনের পরোয়া না করে নবীজির সাথে বেরিয়ে পড়লেন মদীনায় হিজরতের উদ্দেশ্যে এবং পথিমধ্যে কয়েকটি রাত তাঁরা সাওর পর্বতে অবস্থান নেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) গুহার মধ্যে আবু বকর (রাঃ)-এর কোলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লেন। হঠাৎ আবু বকর (রাঃ)-এর পায়ে গুহার বিষাক্ত পোকা কামড় দেয়; কিন্তু ব্যাথা তীব্র হওয়া সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর ঘুমের ব্যাঘাত ঘটবে বলে তিনি এতটুকু নড়লেন না। তবে যন্ত্রনায় তিনি কাঁদছিলেন এবং তাঁর চোখের পানি এসে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর মুখের উপর পড়ে, যাতে তাঁর ঘুম ভেঙ্গে যায়। আপনার কাছে হয়ত ঘটনাটি খুব সামান্য মনে হতে পারে, তবে একবার ভেবে দেখুন ছোট একটি পিঁপড়ার কামড় সহ্য করে স্থির হয়ে থাকতে পারবেন কিনা।2

ইসলামের দ্বিতীয় খলীফা উমার (রাঃ) একবার রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে বললেন, “আমি আপনাকে সবচেয়ে বেশি ভালবাসি, শুধুমাত্র নিজের জীবন ছাড়া”, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) উত্তরে বললেন “উমার, তোমার অন্তর যতক্ষণ আমাকে সম্পূর্ণরূপে ভাল না বাসবে ততক্ষণ তুমি পাক্কা মুসলিম হয়ে উঠতে পারবেনা” পরক্ষণেই তিনি বললেন, “আমি আপনাকে এখন সব কিছুর চাইতে বেশি ভালবাসি।” এগুলো শুধু বলার জন্যই তিনি বলেননি, কারণ তিনি দশটি বছর যেভাবে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর পদাংক অনুসরণের মাধ্যমে ন্যায়নিষ্ঠার সাথে রাষ্ট্র পরিচালনা করে গেছেই তার দ্বারাই এর প্রমাণ মেলে।

ইসলামের তৃতীয় খলীফা উসমান (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নির্দেশে মক্কার ভেতরে প্রবেশ করলেন, তিনি সেখানে কুরাইশদের ইসলামের দাওয়াত দেন এবং কুরাইশদের সাথে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করেন যাতে মদিনা থেকে আগত মুসলিমদের তাওয়াফ করতে অনুমতি দেওয়া হয়। কুরাইশরা তখন ছিল মুসলমানদের প্রধান শত্রু, তাছাড়া এর মধ্যেই তাদের সাথে দুটি বড় যুদ্ধ; বদর ও উহুদ সংঘটিত হয়। একবার ভেবে দেখুন জীবনের বিপদ আছে জানা সত্ত্বেও সমস্ত ভয় উপেক্ষা করে শত্রুদের মাঝে তিনি চলে গেলেন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর নির্দেশে পালন করতে। এত সাহসী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়েছিল রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর প্রতি প্রকৃত ভালাবাসার কারণে।3

ইসলামের চতুর্থ খলীফা আলী (রাঃ) ছিলেন রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর চাচাতো ভাই এবং শিশুদের মধ্যে সর্বপ্রথম মুসলিম। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যখন আল্লাহর হুকুমে এক দুপুরে মদীনায় হিজরতের উদ্দেশ্যে রওনার দিবেন তখন আলী (রাঃ)-কে তাঁর বিছানায় শুয়ে থাকতে বললেন যেন শত্রুরা তাঁকে খুঁজতে এসে বুঝতে না পারে এবং অন্যদের রেখে যাওয়া সমস্ত আমানতগুলো যেন ঠিকঠাক মত বুঝিয়ে দেন সেকথাও বলে জান। কারণ মক্কার শত্রুরা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করছিলেন। আলী (রাঃ) এত ভয়ানক পরিস্থিতের মাঝেও নবীজির নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছিলেন রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর প্রতি সত্যিকার ভালাবাসার কারণে।4

এরকম অনেক উদাহারণ দেওয়া যাবে নবীজীর জীবন থেকে। হয়তবা আমরা আমাদের প্রিয় নবী রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে এভাবে ভালবাসতে পারবনা , কিন্তু আমরা যদি চেষ্টাও করতে থাকি তাঁকে ভালবাসার এবং অনুসরণ করার তাহলে ইনশাআল্লাহ শেষ বিচারের দিনে রাসূলুল্লাহের (সাঃ)-এর সাথে থাকতে পারব। আর জান্নাতে যাওয়ার পথও আল্লাহ আমাদের জন্য সহজ করে দিবেন। এবার বুঝলেন তো ভালবাসা ব্যাপারটা কত মহৎ এবং তা আমাদের কোথায় নিয়ে যেতে পারে?

সংগ্রহঃ
1. Tirmidhi
2,3,4. When the Moon Split: Sheikh Safiur Rahman Mubarakpuri

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s