সূরা কাহফ-এর ছায়াতলে (আয়াত ২৯-৩১): ইসলাম গ্রহণ করতে কাউকে বাধ্য করা যাবে না

coastal-landscape

আগের আলোচনা: আয়াত ১-৬ | ৭-৮ | ৯-১২ | ১৩-১৪ | ১৫-১৬ | ১৭-১৮ | ১৯-২০ | ২১ | ২২ | ২৩-২৪ | ২৫-২৬ | ২৭ | ২৮

২৯। বলে দাও, তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সত্য এসে গেছে। এখন যার ইচ্ছা ঈমান আনুক এবং যার ইচ্ছা কুফর অবলম্বন করুক। আমি যালিমদের জন্য আগুন প্রস্তুত করে রেখেছি, যার প্রাচীর তাদেরকে বেষ্টন করে রাখবে। তারা পানি চাইলে তাদেরকে তেলের তলানি সদৃশ পানীয় দেওয়া হবে, যা তাদের চেহারা ঝলসে দেবে। কতই না মন্দ সে পানীয় এবং কতই না নিকৃষ্ট বিশ্রামস্থল!

৩০। তবে যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, তারা নিশ্চিত থাকুক, আমি সৎকর্মশীলদের কর্মফল নষ্ট করি না।

৩১। তাদেরই জন্য রয়েছে স্থায়ীভাবে থাকার উদ্যান, যার তলদেশে নহর প্রবহমান থাকবে। তাদেরকে সেখানে স্বর্ণকঙ্কনে অলংকৃত করা হবে। আর তারা উচ্চ আসনে হেলান দেওয়া অবস্থায় মিহি ও পুরু রেশমি কাপড় পরিহিত থাকবে। কতই না উৎকৃষ্ট প্রতিদান এবং কত সুন্দর বিশ্রামস্থল!

সংক্ষিপ্ত তাফসির:

বলে দিন, হে মুহাম্মাদ ﷺ, তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সত্য – অর্থাৎ, কুরআন – এসে গেছে। এখন যার ইচ্ছা ঈমান আনুক এবং যার ইচ্ছা কুফর অবলম্বন করুক।

সত্য পরিষ্কার হয়ে যাওয়ার পর ঈমান আনার জন্য কারও উপর শক্তি আরোপ করা যায় না। কিন্তু, যে ব্যক্তি ঈমান আনবে না আখিরাতে অবশ্যই তাকে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।

সত্য প্রত্যাখ্যানকারী এই যালিমদের জন্য আমি আগুন প্রস্তুত করে রেখেছি, যার প্রাচীর তাদেরকে বেষ্টন করে রাখবে। তারা পানি চাইলে তাদেরকে তেলের তলানি সদৃশ পানীয় দেওয়া হবে, যা তাদের চেহারা ঝলসে দেবে। কতই না মন্দ সে পানীয় এবং কতই না নিকৃষ্ট সে বিশ্রামস্থল!

তবে যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, তারা নিশ্চিত থাকুক, আমি সৎকর্মশীলদের কর্মফল নষ্ট করি না। তাদেরই জন্য রয়েছে স্থায়ীভাবে থাকার উদ্যান, যার তলদেশে নহর প্রবহমান থাকবে। তাদেরকে সেখানে স্বর্ণকঙ্কনে অলংকৃত করা হবে। আর তারা উচ্চ আসনে হেলান দেওয়া অবস্থায় মিহি ও পুরু রেশমি কাপড় পরিহিত থাকবে। কতই না উৎকৃষ্ট প্রতিদান এবং কত সুন্দর বিশ্রামস্থল! [কৃতজ্ঞতা: তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন এবং তাফসির আল-জালালাইন]

প্রাসঙ্গিক আলোচনা:

নবী মুহাম্মাদ ﷺ–এর প্রতি অবতীর্ণ কুরআন হলো মানবজাতির উদ্দেশ্যে আল্লাহর নাযিল করা সর্বশেষ আসমানি কিতাব, যা এর পূর্ববর্তী সময়ে নাযিল হওয়া সকল আসমানি কিতাবকে রহিত করে দিয়েছে। যে এই কিতাব মেনে চলল সে আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করল, আর যে মুখ ফিরিয়ে নিলো সে তাঁর অসন্তুষ্টি কামাই করল।

কুরআনকে মানা বা না মানার ব্যাপারে আল্লাহ মানুষকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে রেখেছেন। আল্লাহ যেখানে স্বাধীনতা দিয়েছেন সেখানে জোর করে মানুষকে ইসলাম মানতে বাধ্য করার কোনো সুযোগ নেই। ইসলামকে মানুষের সামনে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা পর্যন্তই আমাদের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ। এরপর যার ইচ্ছা সে মানবে, যার ইচ্ছা সে প্রত্যাখ্যান করবে।

তবে, এই স্বাধীনতার মানে এই নয় যে ইসলাম সত্য একথাটি বুঝেও ঈমান না আনলে আমাদেরকে কোনো প্রকার জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে না। মৃত্যু পরবর্তী জীবনে এজন্য অবশ্যই কঠিন শাস্তির মুখোমুখি আমাদের হতে হবে। সূরা কাহফ-এর আলোচ্য ২৯তম আয়াতের শেষ অংশে আল্লাহ পরিষ্কার বলে দিয়েছেন যে, জেনে-বুঝে ইসলামকে প্রত্যাখ্যানকারী অবিশ্বাসীদের জন্য অপেক্ষা করছে জাহান্নাম। সেখানকার মর্মন্তুদ শাস্তির কিছু ভয়াবহ বিবরণও এখানে তুলে ধরা হয়েছে।

পক্ষান্তরে, যারা নবী মুহাম্মাদ ﷺ–এর প্রতি অবতীর্ণ সত্যকে সত্য বলে মেনে নিয়েছেন তাদের জন্য অপেক্ষা করছে জান্নাত। সেখানকার কিছু উপভোগের বিবরণ উদাহরণ হিসেবে সূরা কাহফ-এর আলোচ্য ৩১তম আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে। এর বাইরেও তাদের জন্য এমন সব নিয়ামত সেখানে থাকবে যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান যার কথা শোনেনি, কোনো হৃদয় যা কল্পনাও করেনি। অনন্তকালীন সেই সুখ নিশ্চিত করার কথা সর্বদা মাথায় রেখেই দুনিয়ার এই জীবনটা আমাদের অতিবাহিত করা উচিৎ।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে জান্নাতের জন্য কবুল করে নিন।

***

পাদটীকা:

কোনো মানুষকে বল প্রয়োগ করে ইসলাম মানতে বাধ্য করা যাবে না এর মানে এই নয় যে কেউ ইসলাম সম্পর্কে বা ইসলামের সম্মানিত কোনো প্রতীক সম্পর্কে কুৎসা রটনা করবে অথবা মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেবে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার কোনো প্রতিকার করা যাবে না। ইসলাম না মানা এবং ইসলাম ও মুসলিমদের হেয় প্রতিপন্ন করা সমার্থক নয়।

সর্বশেষ সম্পাদনা: ২৯শে জানুয়ারি, ২০১৭

Advertisements

3 thoughts on “সূরা কাহফ-এর ছায়াতলে (আয়াত ২৯-৩১): ইসলাম গ্রহণ করতে কাউকে বাধ্য করা যাবে না

  1. পিংব্যাকঃ সূরা কাহফ-এর ছায়াতলে (আয়াত ৩২-৩৬): প্রাচুর্যের পরীক্ষা | আমার স্পন্দন

  2. পিংব্যাকঃ সূরা কাহফ-এর ছায়াতলে (আয়াত ৩৭-৪১): সম্পদ, সামাজিক মর্যাদা ও ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয় | আমার স্পন্দন

  3. পিংব্যাকঃ সূরা কাহফ-এর ছায়াতলে (আয়াত ৪২-৪৪): জীবনে হঠাত নেমে আসা বিপদ যখন বিপথে যাওয়া থেকে আমাদেরকে বাঁচায়

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s