পিছনে পড়ে যাওয়া থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা- ৩য় কিস্তি: পৃথিবী যখন অচেনা! (অনুবাদ)

১ম কিস্তি, ২য় কিস্তিLonely Planet Earth Wallpaper

সততার পরীক্ষা! রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে কা’ব ইবন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এলেন তার পিছনে থেকে যাওয়ার কারণ নিয়ে। দুরুদুরু বুকে কা’ব (রা) তার প্রিয় রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দিকে তাকালেন। একটু বুঝি হাসলেন নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! কিন্ত এই হাসিতো সবসময়কার হাসির মত না! একটু অন্যরকম বুঝি?

আমিও তাঁর কাছে গেলাম। যখন তাঁকে সালাম দিলাম, তখন তিনি রাগতঃ একটা হাসি দিলেন। তারপর বললেন, ‘‘সামনে এসো!’’ আমি তাঁর সামনে এসে বসলাম।

হাসির মাধ্যমে যে অসন্তুষ্টিও প্রকাশ করা যায়, তা বুঝানোর জন্য ইবনুল কাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) কবিতা উদ্ধৃত করে বলেনঃ

إذا رأيت نُيُوبَ اللَيثِ بارزة                            فلا تَظُنَنَ أن اللَيثَ مُبتسمُ
সিংহের দাঁত দেখে                              ভেবো না সে তোমায় দেখে হাসছে!

কা’বকে (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কাছে ডেকে নিয়ে কথা বলার মাধ্যমে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের কার্যকর আলাপচারিতার পদ্ধতি শিক্ষা দিয়েছেন। দূর থেকে কথা বলার চেয়ে কাছ থেকে বলাটা বেশি ফলপ্রসূ হয়।
এরপর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কা’বকে (রা) সেই প্রশ্ন করলেন যা গত কয়দিন ধরে কা’বকে কষ্ট দিচ্ছিলঃ

তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ ‘তুমি যাওনি কেন? ? উট কেননি?

সত্যবাদীতা থেকে যে সৎ সাহস আসে, সেই সাহসে বলীয়ান কা’ব (রা) বললেনঃ

আমি বললাম, ‘‘হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কসম! আমি যদি আপনি ছাড়া দুনিয়ার অন্য কোন লোকের কাছে বসতাম, তাহলে অবশ্যই কোন মিথ্যা ওজর পেশ করে তার অসন্তুষ্টি থেকে বেঁচে যেতাম। আল্লাহ আমাকে যথেষ্ট বাকপটুতা দিয়েছেন। কিন্তু আল্লাহর কসম! আমি জানি যে, যদি আজ আপনার সন্তুষ্টির জন্য মিথ্যা বলি, তাহলে খুব তাড়াতাড়িই আল্লাহ আপনাকে আমার উপর অসন্তুষ্ট করে দেবেন। আর আমি যদি সত্যি বলি, তাহলে আপনি আমার উপর অসন্তুষ্ট হবেন ঠিকই, কিন্তু আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রত্যাশী।

প্রগাঢ় বিশ্বাস! অনিশ্চয়তার লেশমাত্রও নেই কা’বের (রা) মধ্যে! কারণ তিনি জানতেন সত্য ছাড়া অন্য কিছু সেদিন তাকে রক্ষা করতে পারত না; সুতরাং তাকে যদি কিছুদিনের জন্য পরীক্ষায় পড়তেও হয়, তবু সত্যই তার একমাত্র অবলম্বন। কা’ব (রা) বিতার্কিক ছিলেন, ছিলেন বাকপটু। কিন্তু তার তাকওয়া সেদিন তাকে মিথ্যা বলা থেকে বাঁচিয়ে দিল। তার দক্ষতা সম্মন্ধে যেমন তার পূর্ণ ধারণা ছিল, একই সাথে নিজের সীমাবদ্ধতাও তিনি জানতেন। সব সময় বা সবখানে তো আর সব দক্ষতা কাজে আসে না! স্রষ্টা প্রদত্ত ক্ষমতা দিয়ে স্রষ্টার নাফরমানি করে তাঁর অসন্তোষ কুড়ানোর চেয়ে বড় মূর্খতা আর কি হতে পারে!

তিনি কথা বলতে থাকলেন। এই কথাগুলোর মধ্য দিয়ে তার পরীক্ষা শুরু হল; কিন্তু আসলে এটি ছিল ক্ষমার পথে তার প্রথম পদক্ষেপ।

প্রকৃতপক্ষে, আল্লাহর কসম! আমার কোন অসুবিধা ছিল না। আল্লাহর কসম! আপনার সঙ্গ ছেড়ে পিছনে থাকার সময় আমি যতটা সমর্থ ও সচ্ছল ছিলাম ততটা আর কখনো ছিলাম না।’

প্রতিটি কথাই ছিল খাঁটি সত্য। এমন এক ব্যক্তির কথা এগুলো যিনি আল্লাহ ছাড়া আর কাউকেই ভয় করেননি। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে কা’ব (রা) মিথ্যা অজুহাত দূরে ঠেলে শুধু সত্যই বললেন।

আল্লাহ তাঁর বান্দাহদের প্রতি অশেষ মেহেরবান। বান্দাহর মন যদি নির্ভেজাল হয়, সে যদি সত্যবাদী হয়, তাহলে আল্লাহ্‌ তাকে গুনাহ থেকে বাঁচিয়ে রাখেন। বান্দাহর অন্তরের অন্তঃস্থলের খবরও আল্লাহ্‌ রাখেন। তিনি তাই জানেন তাঁর বান্দাহর নিয়ত সৎ কিনা। সেদিন আল্লাহই কেবল কা’বকে (রা) মিথ্যা থেকে বাঁচিয়েছিলেন, যেদিন অন্য অনেকেই মিথ্যা বলেছেন। আল্লাহ্‌র অশেষ করুণার বলেই সেদিন কা’ব এবং তার দুই সাথী (রা) অনন্ত শাস্তি থেকে রেহাই পান।

কা’বতো (রা) সত্য বললেন, কিন্তু তার প্রিয় নবীর (সাঃ) প্রতিক্রিয়া কী হল? তিনি কি রাগ করলেন স্পষ্টবাদিতার জন্য? তিনি কি তাকে নির্লজ্জ মনে করলেন? তিনি কি তাকে তিরস্কার করলেন? কোনটিই না! রাসুলুল্লাহর একমাত্র প্রতিক্রিয়া ছিলঃ

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ

أما هذا فقد صدق فقم حتى يقضي الله فيك

“এই লোক নিশ্চিতভাবে সত্য বলেছে। তুমি এখন যাও, এবং আল্লাহর ফয়সালার অপেক্ষা কর।

সত্যবাদীতার এই যে ছাড়পত্র কা’ব (রা) রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাছ থেকে পেলেন, তা তার উঁচু মর্যাদারই পরিচয় দেয়। এইরকম দুঃসময়ে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষের এই সাক্ষ্য যে কা’ব (রা)-এর জন্য প্রশান্তিদায়ক ছিল তা বলাই বাহুল্য। নিজেকে এরকম একটা কঠিন পরীক্ষার সম্মুখে কল্পনা করেই দেখুন! এমন পরিস্থিতিতে যদি সমাজের নেতৃস্থানীয় এবং গ্রহণযোগ্য কেউ আপনার পাশে দাঁড়ায়, কেমন লাগবে আপনার? আর এখানেতো স্বয়ং রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কা’বের (রা) সাক্ষী!

কা’ব উঠে পড়লেন। আল্লাহ্‌ যা চান তা হবেই, আর যা চান না, তা কখনোই হবে না। কা’ব নিজের জন্য তাই আল্লাহর সিদ্ধান্ত মেনে নিলেন। কিন্তু মনটা তার বড় ছোট হয়ে গেল। সত্য বললেন ঠিকই, কিন্তু ব্যাপারটাতো মীমাংসা হলো না। কি সিদ্ধান্ত আসবে আল্লাহ্‌ আর তাঁর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাছ থেকে? কবে? এর কোন উত্তর তার জানা ছিল না।

আমি উঠে পড়লাম। আমার পিছন পিছন বনু সালামাহ (গোত্রের) কিছু লোক এল এবং বলল, ‘আল্লাহর কসম! এর আগে তুমি কোন পাপ কাজ করেছ বলে আমাদের জানা নেই। অন্যরা যেমন অজুহাত দিয়েছে, তুমি সেটা করতে পারলেনা। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তোমার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলেই তো তোমার জন্য যথেষ্ট হতো।’ কা‘ব বলেন, ‘আল্লাহর কসম! তারা আমাকে সত্য বলার জন্য এতো কথা শোনাল যে আমার ইচ্ছা হল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে প্রথমবার মিথ্যা বলেছি বলে স্বীকার করি। আমি তাদের কাছে জানতে চাইলাম,‘আমার ভাগ্যে যা ঘটেছে, এমনটি কি আর কারো সাথে ঘটেছে?’ তারা বললো,‘হ্যাঁ। আরো দু’জন তুমি যা বলেছ তাই বলেছে এবং তাদেরকে সেই কথাই বলা হয়েছে যা তোমাকে বলা হয়েছে।’ আমি বললাম, ‘তারা কারা?’ তারা বলল, ‘‘মুরারাহ ইবনে আর-রাবী‘ আল-আমরী ও হিলাল ইবনে উমাইয়্যাহ আল-ওয়াক্বেফী।’ এই দু’জন যাদের নাম তারা বলল, তারা ধার্মিক লোক ছিলেন, দুজনই বদর যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন; এরা ছিলেন আমার জন্য অনুকরণীয় আদর্শ। এদের নাম শুনে আমি আর সিদ্ধান্ত বদলাইনি।

কা’ব যখন কথা পরিবর্তনের জন্য রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে ফেরত যাবেন বলে ভাবছেন, তখন আল্লাহ্‌ কা’বকে (রা) আবারো পা ফসকানো থেকে রক্ষা করলেন।

কা’ব (রা) তখন সান্তনা খুঁজছেন, দুঃখের সাথী পাওয়া যায় কিনা দেখছেন। যখন তিনি জানলেন যে আরো দুজন ন্যায়নিষ্ঠ সাহাবী একই অবস্থায় আছেন, তিনি খানিকটা হাল্কা বোধ করলেন। নিজের অবস্থানে অটল থাকলেন।

এই ব্যাপারটাতেও আমাদের জন্য শিক্ষা আছেঃ দুঃখের সময় সমব্যথী, যে কিনা একইরকম অবস্থায় আছে, খুঁজে পেলে দুঃখ লাঘব হয়। এটা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি!
এটাই হয়তো কা’বের (রা) প্রতি আল্লাহর দয়া ছিলো যে এমন এক কঠিন সময়ে তিনি সঙ্গী পেলেন। এতে করে হয়তো তার দৃঢ় থাকা সহজ হয়েছিল।

আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা’লা বিশ্বাসীদের বলেনঃ

শত্রুর পিছু নিতে দুর্বলতা দেখিয়ো না। যদি তোমরা কষ্ট পেয়ে থাক, তারাও তো তোমাদের মতই কষ্ট পেয়েছে। কিন্তু তোমরাতো আল্লাহর কাছে তা প্রত্যাশা কর, যা তারা করে না। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়। (সূরা আন নিসাঃ ১০৪)

আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত এক হাদীসে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
“তোমার থেকে যারা নিচের স্তরে রয়েছে তাদের দিকে তাকাও। যারা তোমার থেকে উপরের স্তরে তাদের দিকে তাকিয়ো না। কারণ উপরের দিকে তাকালে আল্লাহ্‌ তোমাকে যে নিয়া’মাত দিয়েছেন তা তোমার কাছে গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে। (মুসলিম) (আক্ষরিক অনুবাদ করা হয়নি- অনুবাদক)

দুনিয়ার পরীক্ষায় সমব্যথী থাকলে দুঃখ কমে কিন্তু মনে রাখতে হবে আখেরাতে কিন্তু সমব্যথীতে কোন কাজ হবে না। আল্লাহ্‌ বলেনঃ

 

 

 

যেহেতু তোমরা অন্যায় করেছিলে, তাই শাস্তির অংশীদার থাকার পরেও আজ তোমাদের কোন উপকার হবে না। (সূরা আল যুখরুফঃ ৩৯)

কা’ব এবং তার দুই সাথী (রা) যদিও ঠিক পথ বেছে নিলেন, তবু কিন্তু তাদের কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হল। কা’ব (রা) বলছেনঃ

(এরপর) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদেরকে পিছনে অবস্থানকারীদের মধ্যে শুধুমাত্র আমাদের তিনজনের সাথে কথা বলতে সবাইকে নিষেধ করে দিলেন।’আমরা অন্যদের এড়িয়ে চলতে লাগলাম এবং তাদেরও আমাদের প্রতি আচরণ বদলে গেল। অবস্থা এমন হল যে আমার চেনা পৃথিবীই আমার কাছে অচেনা হয়ে গেল। এইভাবে আমরা ৫০ রাত কাটালাম। আমার দুই সাথী ঘর থেকে বের হওয়া বন্ধ করে দিলেন এবং অবিরাম কান্নাকাটি করতে থাকলেন। তিনজনের মধ্যে আমি বয়সে সবচেয়ে ছোট এবং শক্ত সমর্থ ছিলাম। তার ফলে আমি ঘর থেকে বের হয়ে মুসলিমদের সাথে নামায পড়তাম আর বাজারে ঘোরাফেরা করতাম। কিন্তু কেউই আমার সাথে কথা বলত না।

মুসলিম সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়াটা একটা কঠিন পীড়াদায়ক পরীক্ষা ছিল কা’বের (রা) জন্য। এতোই কষ্টকর ছিল যে পৃথিবীটাই তার কাছে অচেনা লাগছিল।

ইবনুল কাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মতে পাপের প্রায়শ্চিত্তে এই যে দুঃখবোধ, এটা আসলে হৃদয়ের সজীবতার লক্ষণ। সজীব হৃদয়ের কারো কাছে জড় বস্তুকেও এমন সময় অচেনা লাগে। সে একাকীত্বের জ্বালা অনুভব করে। জীবনটা তার নীরস হয়ে যায়।

মুনাফিকদের জন্য এই অচেনা অনুভূতি আরো তীব্র হয়। কিন্তু হৃদয় তাদের রোগাক্রান্ত। সুতরাং পাপ তাদের আর পীড়া দেয় না। কত বড় হতভাগা!

সত্যিকারের বিশ্বাসীর জীবন্ত হৃদয় পাপের ভারে উদ্বিগ্ন হয়। সে ভীত হয়। আব্দুল্লাহ ইবন মাস’উদ (রা) বলেনঃ “বিশ্বাসীর কাছে তার পাপ এমন যেন সে পাহাড়ের পাদদেশে বসে আছে, আর পাহাড় এখনই তার উপর ভেঙ্গে পড়বে। অপরদিকে পাপীর কাছে তার পাপ নাকের ডগায় বসা মাছির মত, যা সে হেলায় তাড়িয়ে দেয়।” (বুখারী)

বিশ্বাসীর ভালো কাজ তাকে প্রশান্তি দেয়। সে নিরাপদ বোধ করে।

 

 

 

বল, আল্লাহর দয়া ও মেহেরবাণীতে- এতেই তাদের সন্তুষ্ট থাকা উচিৎ। (সূরা ইয়ুনুস- ৫৮)

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “যদি তোমার ভালো কাজ তোমাকে খুশী করে, আর খারাপ কাজ কষ্ট দেয়, তাহলে তুমি বিশ্বাসী।” (আহমাদ, ইবন মাজাহ)।

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে মুসলিম সমাজকে এই তিন সাহাবীকে বয়কট করতে বললেন, এটা তাদের সত্যবাদীতার আরেকটি প্রমাণ। যারা মিথ্যা ওজুহাত দিয়েছিল, তাদের কিন্তু এমন কোন পরীক্ষায়ই পড়তে হলনা। যেহেতু আল্লাহর কাছে এই তিনজনের স্থান অনেক উঁচুতে, তাই তিনি তাদেরকে এমন জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়ার মত শক্ত পরীক্ষায় ফেললেন। প্রশ্ন উঠতে পারে যে মিথ্যাবাদীরা তাহলে এতো সহজে পার পেয়ে গেল কেন? উত্তরে বলা যেতে পারে যে মুনাফিকদের ভণ্ডামির শাস্তি হিসেবে সামাজিক বয়কট করাটা গুরুপাপে লঘুদণ্ড হয়ে যেত। কপটতা বা ভণ্ডামি মানসিক অসুস্থতা । বয়কটে এর কোন প্রতিকার হওয়ার না।

iStock_000016288715Smallসর্বজ্ঞানী আল্লাহ্‌র অপার করুণা যে তিনি তার খাঁটি বান্দাহদের ভুলের শাস্তি আখেরাতের আগে দুনিয়াতেই দিয়ে দেন। এতে করে খাঁটি বিশ্বাসী হৃদয় সতর্ক হয়, সচেতন হয়। আনাস (রা) বর্ণনা করেন যে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “যখন আল্লাহ্‌ তাঁর বান্দাহর ভালো চান, তখন পৃথিবীতেই তাকে তার পাপের শাস্তি দিয়ে দেন। আর যখন বান্দাহর খারাপ চান, তখন তার হিসাব নিতে তিনি কোন তাড়াহুড়া করেন না। পুনরুত্থান দিনেই তিনি তার হিসাব নিবেন।”(তিরমিযী)

ইবন আল কাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ আল্লাহ্‌ যাকে ভালোবাসেন না, তাকে তিনি পাপের মধ্যে ছেড়ে দেন। তাকেপাপ করা সত্ত্বেও দুনিয়ার প্রাচুর্য দান করেন। যে ব্যক্তি স্রষ্টা সম্বন্ধে উদাসীন, নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত, সে ভাবে এসব প্রাচুর্য বুঝি তার প্রাপ্য। সে জানেনা এই প্রাচুর্য আদতে তার জন্য অধঃপতন, যা তাকে পরকালীন শাস্তির দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। (যাদ আল মা’দ) (ভাবানুবাদ)

৫০ টি দিন! কা’ব আর তার সাথীরা (রা) সমাজচ্যুত। পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ প্রজন্মের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা নিশ্চয়ই অন্য রকম কষ্টদায়ক ছিল। সত্যনিষ্ঠ এই তিনজন হয়তো জীবনে কিছু যাতনা ভোগ করলেন ঠিকই, কিন্তু সফল পরিণাম তাদের পক্ষেই ছিল।

মূল লেখা এখানেঃ http://muslimmatters.org/2010/06/02/lessons-in-staying-behind-part-3-when-the-earth-is-strange/

Advertisements

One thought on “পিছনে পড়ে যাওয়া থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা- ৩য় কিস্তি: পৃথিবী যখন অচেনা! (অনুবাদ)

  1. পিংব্যাকঃ পিছনে পড়ে যাওয়া থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা- ৪র্থ কিস্তিঃ নিঃশর্ত আনুগত্য (অনুবাদ) | আমার স্পন্দন

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s