পিছনে পড়ে যাওয়া থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা- ৪র্থ কিস্তি: নিঃশর্ত আনুগত্য (অনুবাদ)

১ম কিস্তি, ২য় কিস্তি, ৩য় কিস্তি

ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মুখ ফিরিয়ে নেয়া আমাদের বুক ভেঙ্গে দেয়। কিন্তু সেই বন্ধু যদি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হন, যার জন্য আপনি আপনার নিজেকে, নিজের বাবা-মা কে উৎসর্গ করে দিতে পারেন, তিনি যদি মুখ ঘুরিয়ে নেন, সেই বেদনা তো হৃদয়ে ছুরির আঘাতের থেকেও তীব্র হওয়াই স্বাভাবিক।???????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????

কা’ব ইবন মালিকের বর্ণনায় তার হৃদয়ের যন্ত্রণা ফুটে উঠেছেঃ

“… নামাযের পর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সাহাবীদের নিয়ে বসতেন, তখন আমিও সেখানে যেতাম। রাসুলুল্লাহকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাম দিয়ে ভাবতাম সালামের জবাবে রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঠোঁট নড়ল কিনা। এরপর আমি তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতাম আর লুকিয়ে লুকিয়ে তাঁকে দেখতাম। যখন আমি নামাযে ব্যস্ত হয়ে যেতাম, তখন তিনি আমার দিকে মুখ ফিরাতেন, কিন্তু আমি যখন তাঁর দিকে তাকাতাম, তিনি মুখ ঘুরিয়ে নিতেন।

মরিয়া হয়ে কা’ব তার প্রিয় রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চেহারা মুবারকের দিকে তাকিয়ে থাকতেন। তার আশা ছিল রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যদি একটিবারের জন্যেও তাকান, শুধু ঠোঁট নেড়ে হলেও সালামের উত্তর দেন।

কা’বের দুঃখের কারণ ছিল রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি আদেশ না মানা। আর এখন আমরা তো হরদম তার আদেশ- নিষেধ, পছন্দ- অপছন্দ অমান্য করি। তিনি যে এখন আমাদের মাঝে নেই, আমাদেরকে তিরস্কার করার জন্য! অথচ আমরা ভুলে যাই যে তাঁর সকল আদেশ- নিষেধ, ভালো লাগা- মন্দ লাগা, সবই সংরক্ষিত আছে তাঁর সুন্নাহর মধ্যে, যাতে আমরা মেনে চলতে পারি।

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “আমার উম্মতের সকলেই জান্নাতে যাবে; কেবল তারা ছাড়া যারা অস্বীকার করবে।” তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলঃ “হে আল্লাহ্‌র রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), কারা অস্বীকার করবে”? তিনি বললেনঃ “যেই আমার আনুগত্য করবে, সেই জান্নাতে যাবে আর যে আমাকে অমান্য করবে, সেই অস্বীকার করল।” (বুখারী)

রাসুলুল্লাহকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভালোবাসা প্রশংসনীয় কেবল নয়, প্রতিটি মুসলমানের জন্য অপরিহার্য কর্তব্য। কিন্তু আমাদের জন্য এর থেকেও বড় চিন্তা হওয়া উচিতঃ রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বেঁচে থাকলে তিনি আমাদের ভালোবাসতেনতো?

আমাদের একজন ধার্মিক পূর্বপুরুষ আল রাবী বিন খাইতামা ছিলেন উন্নত চরিত্রের অধিকারী। তার কথাবার্তা ছিল কোমল, তার উঠা বসা ছিল ভালো লোকজনের সাথে। আব্দুল্লাহ ইবন মাস’উদ (রা) রাসুলের (ঘনিষ্ঠ) সাহাবী হওয়ার কারণে তাঁর পছন্দ অপছন্দ ভালোভাবে জানতেন। তিনি আল রাবীকে একদিন ডেকে বললেন, “হে আবু ইয়াযীদ, আল্লাহ্‌র রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যদি তোমাকে দেখতেন, ভালোবাসতেন!”

আমাদের আনুগত্যের মাত্রা কতখানি? সুন্নাহ আমরা কতটুকু মেনে চলি? আমাদের দেখে কি তিনি খুশী হবেন? ভালোবাসবেন আমাদের?

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যদিও মহান চরিত্রের অধিকারী ছিলেন, তাও তিনি কা’ব (রা) থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন; তার সালামের জবাব দেয়া বন্ধ করে দিলেন। তাঁর এটা করার কারণ ছিল এই তিনজনের ব্যাপারে আল্লাহ্‌র আদেশ, আর কিছুই না।

আল্লাহ্‌র রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই আচরণ থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে ইমাম, নেতা বা স্কলার (যাকে অনেক লোক মেনে চলে) যদি চান তাহলে সংশোধনের উদ্দেশ্যে কাউকে বয়কট করতে পারেন। তবে যদি ইতিবাচক প্রভাব না ফেলে, দোষী ব্যক্তির যদি সংশোধন না হয়, তাহলে এই ব্যবস্থা বন্ধ করে দিতে হবে।

ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে কা’ব এর দিন কাটতে থাকল।

“অবশেষে যখন লোকেদের কঠোর ব্যাবহার অনেক দিন স্থায়ী হয়ে গেল, তখন একদিন আমি আবূ ক্বাতাদাহ (রাদিয়াল্লাহুআনহু)এর বাগানের দেওয়াল ডিঙিয়ে ঢুকলামসে (আবূ ক্বাতাদাহ) আমার চাচাতো ভাই এবং আমার সবচেয়ে পসন্দের লোকছিলআমি তাকে সালাম দিলামকিন্তু আল্লাহর কসম! সে আমাকে সালামের জওয়াব দিলনাআমি তাকে বললাম, হে আবূ ক্বাতাদাহ! আমি তোমাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, তুমি কি জান না যে, আমি আল্লাহ তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে ভালবাসি?সে চুপ থাকলআমি দ্বিতীয়বার তাকে কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, এবারেও সে চুপ থাকলআমি তৃতীয়বার তাকে কসম দিয়ে প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি করলে সে বলল, আল্লাহ তাঁর রাসূলই বেশী জানেন

দুজনই একজন আরেকজনকে ভালবাসতেন। কিন্তু আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসুলের ভালোবাসা তাদের পারস্পরিক ভালোবাসা আর আত্মীয়তার বন্ধন থেকে অনেক বেশি ছিল।

রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চোখের আড়ালে আবু ক্বাতাদাহ (রা) চাইলেই তার প্রিয় ভাইয়ের সাথে কথা বলতে পারতেন।কিন্তু মদীনার এই প্রজন্ম যে রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজ হাতে গড়া! তাদের আনুগত্য তো কোন মানুষের আনুগত্য ছিল না; তারা নিঃশর্ত অনুগত ছিলেন কেবল মাত্র আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার। রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চোখের আড়ালে রাসুলকে অমান্য করার ওজুহাত খোঁজা তাদের রীতি বা অভ্যাস ছিল না।

তাদের মুরাকাবা বা সতর্কতা যে কি প্রচণ্ড মাত্রার ছিল তা এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে। তাদের কাছে আল্লাহ্‌র আনুগত্য শুধু রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও অন্য সাহাবার উপস্থিতিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। আল্লাহ্‌র আনুগত্য তাদের অস্থি- মজ্জায় মিশে ছিল অস্তিত্বের অংশ হিসেবে। এটা ছিল তাদের সব সময়ের সঙ্গী। নিষিদ্ধ বস্তু বা বিষয় থেকে তারা বিরত থাকতেন একদম নির্জনেও। কারণ আল্লাহ্‌তো সর্বজ্ঞানী, সর্বদ্রষ্টা।

আবু ক্বাতাদাহ (রা)জানতেন যে কা’ব (রা) আল্লাহ্‌ ও তার রাসুলকে ভালোবাসেন।তা সত্ত্বেও কা’ব যখন তাকে আল্লাহ্‌র কসম দিয়ে জানতে চাইলেন তখন তার উত্তর ছিল, “আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসুলই বেশী জানেন।” এটা আসলে কা’বের (রা) প্রশ্নের জবাব ছিলনা, অথবা এটা বলার মাধ্যমে তিনি কা’বের সাথে কথোপকথন করেছেন এটাও বলা যাবে না।

এ কথা শুনে আমার চোখ থেকে পানি ঝরতে লাগল এবং যেভাবে গিয়েছিলাম আমি সেইভাবেই দেওয়াল ডিঙিয়ে ফিরে এলাম

যুবক এবং শক্ত- সবল হওয়ার পরও কা’ব এর পক্ষে পরীক্ষাটা অসহনীয় হয়ে গিয়েছিল। মুসলিম সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা তার অসহ্য লাগছিল। কিন্তু পরীক্ষার মাত্রাতো কমলোই না, বরং বেড়ে গেল!

এর মধ্যে একদিন আমি মদীনার বাজারে হাঁটছিলামএমন সময় শাম এর এক নাবাতীকে (অর্থাৎ খ্রীস্টান কৃষক)যে মদীনায় খাদ্যদ্রব্য বিক্রি করতে এসেছিল, বলতে শুনলাম, কে আমাকে কা’ব ইবন মালিককে দেখিয়ে দেবে?” লোকেরা আমার দিকে ইঙ্গিত করতে লাগলফলে সে ব্যক্তি আমার নিকটে এসে আমাকে  ‘গাসসানএর বাদশার একটি  চিঠি দিলচিঠিতে লিখা ছিলঃ

— অতঃপর, আমি খবর পেয়েছি যে, আপনার সাথী (অর্থাৎ, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনার সাথে রুঢ় ব্যবহার করেছেনআল্লাহ আপনাকে লাঞ্ছিত বঞ্চিত অবস্থায় থাকার জন্য সৃষ্টি করেন নিআপনি আমাদের কাছে চলে আসুন; আমরা আপনাকে সমবেদনা জানাব

কা’ব ইবন মালিক (রা) শাম এর এক রাজার কাছ থেকে আমন্ত্রণ পেয়েছেন! এক অবিশ্বাসী রাজা যে তাকে মদীনার ‘লাঞ্ছনা- গঞ্জনা’ থেকে মুক্তি দিয়ে ‘নিরাপত্তা’ দিতে চায়!

কী জবাব দিলেন কা’ব?

চিঠি পড়ে আমি নিজেকে বললাম, ‘এইটাও একটা পরীক্ষা।’

কী আশ্চর্য মানুষ! তিনি ভাবতে পারতেন যে আল্লাহ্‌র কাছ থেকে বহু প্রতীক্ষিত পরিত্রাণ এসে গেছে। ৩৩ বছর বয়সে নতুন জীবনের সন্ধানে নতুন দেশে পাড়ি দিতে পারতেন তিনি। কিন্তু তার একনিষ্ঠতার কারণে আল্লাহ্‌ তাকে বুঝিয়ে দিলেন যে এটাও তার পরীক্ষারই অংশ। আল্লাহ্‌ তাকে আবার হোঁচট খাওয়া থেকে রক্ষা করলেন।

আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেনঃ

 

কিছু লোক বলে, আমরা আল্লাহর উপর বিশ্বাস এনেছি; কিন্তু আল্লাহর পথে যখন তারা নির্যাতিত হয়, তখন তারা মানুষের নির্যাতনকে আল্লাহর আযাবের মত মনে করে।(সূরা আল- আনকাবূতঃ ১০)

ইবন আব্বাস (রা) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন “এর অর্থ হচ্ছে আল্লাহ্‌র রাস্তায় পরীক্ষা এলে এরা ইসলাম ত্যাগ করে ফেলে।” (তাফসীর ইবন কাসির)

আল্লাহ্‌র পথে পরীক্ষা আসলে কীভাবে অবিচল থাকতে হবে, আমরা এখানে সেই শিক্ষা পাই। সত্যের পথে চলতে গিয়ে যদি বাধা আসে, তাহলে কি আমরা সেই পথে হাঁটাই বন্ধ করে দিব? নাকি আমরা এই মহান সাহাবীর অনুসরণ করে ধৈর্য ধরে আল্লাহ্‌র করুণার অপেক্ষা করব?

এইটা আপাতদৃষ্টিতে একটা বড় পরীক্ষা ছিল কিন্তু আদতে এটা ছিল বড় এক আশীর্বাদ। এই লোভনীয় আমন্ত্রণের প্রতি কা’বের (রা) প্রতিক্রিয়া থেকে মুসলমানরা বুঝতে পারলেন যে কা’বের (রা) ঈমানের কোন হেরফের হয়নি বয়কটের কারণে। যত শক্ত পরীক্ষাই হোক না কেন, একবারের জন্যেও কা’ব (রা) ধর্মত্যাগের কথা ভাবেন নি। তিনি ঐশ্বর্য আর প্রতিপত্তির লোভে দৌড়ানো দুর্বল ঈমানদার ছিলেন না।

আল্লাহ্‌ বলেনঃ

মানুষ কি মনে করে যে, তারা একথা বলেই অব্যাহতি পেয়ে যাবে যে, আমরা বিশ্বাস করি এবং তাদেরকে পরীক্ষা করা হবে না? আমি তাদেরকেও পরীক্ষা করেছি, যারা তাদের পূর্বে ছিল। আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন যারা সত্যবাদী এবং নিশ্চয়ই জেনে নেবেন মিথ্যুকদেরকে। (সূরা আল-আনকাবূতঃ ২-৩)

fulপরীক্ষার মাধ্যমেই বিশ্বাসের পরিচয় পাওয়া যায়। আল-হাসান আল-বাসরি বলেছেনঃ সুখের সময় মানুষের আসল অবস্থা গোপন থাকে। পরীক্ষায় পড়লে পরে তার আসল পরিচয় বের হয়ে আসেঃ বিশ্বাসীর বিশ্বাস আর ভণ্ডের ভণ্ডামি।

এই পরীক্ষার মাধ্যমে আল্লাহ্‌ প্রকাশ করে দিলেন যে কা’বের (রা) মনে ভণ্ডামির (মুনাফিক) লেশমাত্রও নেই, তিনি আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসুলের (সা) উপর অকৃত্রিম বিশ্বাস রাখেন। এই পরীক্ষা আসলে ছিল তার উপর আল্লাহ্‌র কল্যাণ বৃষ্টি, যা তার শুষ্ক হৃদয়ে হিমেল পরশ দিয়ে যায়।

বাগানে যখন আগাছা আক্রমণ করে তখন আগাছার ভিড়ে সুন্দর ফুলটিও ঢাকা পড়ে যায়। সেগুলোকে খুঁজে বের করা মালীর কাজ। একবার বের হলেই কিন্তু ফুল তার স্বভাবজাত সৌরভ ছড়াবে। আমাদের জীবনকে ফুলেল করে তুলবে, সহজ করবে। আল্লাহ্‌ তার অপরিসীম জ্ঞানের আলোকে আমাদের পরীক্ষা নেন। এই পরীক্ষা থেকে কা’ব (রা) যেমন অনেক কিছু শিখেছিলেন, তেমনি আমাদেরকেও প্রতিটি পরীক্ষা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। পরীক্ষা নিয়ে এমন চিন্তা করলেই পরীক্ষার কষ্ট কমে আর আল্লাহ্‌র প্রতি কৃতজ্ঞতা বাড়ে।

নিজের পরীক্ষার জ্বালাময় যন্ত্রণা লাঘবের জন্য কা’ব (রা) আগুন জ্বালালেন! সে আগুন বিশ্বাস আর নিঃশর্ত আনুগত্যের!

চিঠিটি আমি চুল্লীতে ফেলে তাতে আগুন ধরিয়ে দিলাম।

 

মূল লিখা এইখানেঃ http://muslimmatters.org/2010/06/10/lessons-in-staying-behind-%E2%80%93-part-4-unconditional-obedience/

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s