আমি আল্লাহর অবাধ্য হয়ে যাচ্ছি! (অনুবাদ)

অনুবাদকের মন্তব্য: ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক, প্রতিটি মুসলিমের দ্বারা আল্লাহর কিছু অবাধ্যাচরণ হয়েই যায়। কিন্তু, এমনটি কেন হয়? উস্তাযা ইয়াসমিন মুজাহিদ তাঁর একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস আপডেটে এই সমস্যার গোড়ার কারণটি চিহ্নিত করতে চেষ্টা করেছেন। আমার মনে হয়েছে যে, আমাদের সবারই এই বিষয়গুলো নিয়ে উন্নতির অবকাশ আছে। নিচের অনুবাদটি তাঁর লেখার একটি ভাবানুবাদ। পাদটীকাগুলো আমার নিজের।

০০০

এক বোন হিজাব নিয়ে বেশ মুশকিলে আছেন। হিজাব ধরে রাখবেন না ছেড়ে দেবেন তা নিয়ে তিনি সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন। ব্যাপারটি নিয়ে তিনি আমার কাছে পরামর্শ চাইলেন। তাকে দেওয়া আমার জবাবটি এখন আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে যাচ্ছি।

আশা করা যায় যে, আমরা যারা কোনো না কোনো ভাবে, কোনো না কোনো বিষয়ে, আল্লাহর অবাধ্যাচরণ করে যাচ্ছি তারা সবাই তাকে দেওয়া এই পরামর্শসমূহ থেকে উপকৃত হব।

“আমার মনে হয় যে, হিজাব মূল সমস্যা নয়। আপনার এই সমস্যার পিছনের কারণটা অন্য কোথাও লুকিয়ে আছে। খুব সম্ভবত, সমস্যাটি আল্লাহর সাথে আপনার সম্পর্ক এবং আপনার অন্তরের অবস্থার সাথে সম্পর্কিত। হিজাবের প্রতি আপনার আগ্রহ হারিয়ে ফেলাটা এর একটি উপসর্গ মাত্র।

আল্লাহর সাথে আমাদের সম্পর্ককে মজবুত করার মধ্যেই আমাদের যাবতীয় সমস্যার প্রকৃত সমাধান নিহিত রয়েছে।

১ – আপনার নামাযের দিকে নজর দিন। এটিই হলো আল্লাহর সাথে আপনার সম্পর্কের মূল ভিত্তি। এই ভিত্তিটিকে মজবুত রাখতেই হবে।

২ – কুরআনকে আঁকড়ে ধরুন। আমাদের অন্তরকে প্রাণবন্ত ও সজীব রাখতে হলে আল্লাহর কালাম, অর্থাৎ কুরআনের সাথে একটি নিবিড় সম্পর্ক বজায় রাখার কোনো বিকল্প নেই

৩ – নিয়মিত তওবা করতে থাকুন। বারে বারে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে থাকুন। তওবা ও ইস্তিগফার আমাদের অন্তরের মরিচাসমূহকে দূর করে দেয়।

৪ – বন্ধু ও সাথী নির্বাচণের ব্যাপারে সতর্ক হোন। যাকে তাকে আপনার বন্ধু ও সাথী বানাবেন না। এমন বন্ধু ও সাথী নির্বাচণ করুন যারা আপনাকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং যারা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের ব্যাপারে একে অন্যকে সহায়তা করে। যারা আল্লাহ থেকে এবং আল্লাহর স্মরণ থেকে আপনাকে ভুলিয়ে রাখে তাদেরকে আপনার বন্ধু ও সাথী বানাবেন না।”

—————————————————————————————————————-

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার প্রশ্ন করলেন, “যদি তোমাদের কারও বাড়ির সামনে নদী থাকে এবং সে দৈনিক পাঁচবার [তাতে] গোসল করে, তবে কি তার শরীরে কোনো ময়লা থাকবে?” সাহাবীরা বললেন, “না।” তিনি বললেন, “এটাই পাঁচ ওয়াক্ত [ফরয] নামাযের উদাহরণ।” [বুখারি ও মুসলিম]

নামাযের হকসমূহ সঠিকভাবে আদায় করে নিয়মিত নামায আদায় করে যেতে থাকলে সেই নামাযই আমাদেরকে যাবতীয় খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখবে, কেননা আল্লাহ নিজেই প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, “নিশ্চয় নামায অশ্লীল ও গর্হিত কার্য থেকে বিরত রাখে।” [কুরআন ২৯:৪৫]

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “কুরআন পাঠকারী মুমিনের দৃষ্টান্ত হচ্ছে ঠিক কমলালেবুর মতো: যার ঘ্রাণ উত্তম এবং স্বাদও উত্তম। আর যে মুমিন কুরআন পড়ে না তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে ঠিক খেজুরের মতো: যার [উত্তম] ঘ্রাণ তো নেই, তবে স্বাদ মিষ্ট। [অন্যদিকে] কুরআন পাঠকারী মুনাফিকের দৃষ্টান্ত হচ্ছে সুগন্ধিময় [তুলসি] গাছের মতো: যার ঘ্রাণ উত্তম কিন্ত স্বাদ তিক্ত। আর যে মুনাফিক কুরআন পড়ে না তার উদাহরণ হচ্ছে ঠিক মাকাল ফলের মতো: যার [উত্তম]  ঘ্রাণ নেই, স্বাদও তিক্ত।” [বুখারি ও মুসলিম]

তওবার শর্ত তিনটি: (ক) অতীতের কৃত গুনাহের জন্য আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হওয়া, (খ) সেই গুনাহের জন্য অন্তর থেকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং (গ) ভবিষ্যতে সেই গুনাহের কাজে আর লিপ্ত না হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্প করা। গুনাহটি যদি আল্লাহর সাথে সংশ্লিষ্ট না হয়ে আল্লাহর কোনো বান্দার সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে থাকে তাহলে এই তিনটি শর্ত পূরণ করার পাশাপাশি যার হক নষ্ট করা হয়েছে তার হক ফিরিয়ে দিতে হবে এবং পাশাপাশি তার কাছে মাফ চাইতে হবে। যারা তওবার এই শর্তসমূহ পূরণ করে আল্লাহর দিকে ফিরে যেতে সক্ষম হবে তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আল্লাহ বলেছেন, “আর যে তওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে অতঃপর সৎ পথে অটল থাকে, আমি তার প্রতি অবশ্যই ক্ষমাশীল।” [কুরআন ২০:৮২]

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “সৎ সঙ্গী ও অসৎ সঙ্গীর উদাহরণ হলো কস্তুরী বহনকারী [আতরওয়ালা] ও হাপরে ফুৎকারকারী [কামারের] ন্যায়। কস্তুরী বহনকারী [আতরওয়ালা] হয়ত তোমাকে কিছু দান করবে অথবা তার কাছ থেকে তুমি কিছু খরিদ করবে অথবা তার কাছ থেকে সুবাস লাভ করবে। আর হাপরে ফুৎকারকারী [কামার] হয়ত তোমার কাপড় পুড়িয়ে দেবে অথবা তুমি তার কাছ থেকে দুর্গন্ধ পাবে।” [বুখারি ও মুসলিম]

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this:
search previous next tag category expand menu location phone mail time cart zoom edit close