শিশু সন্তানকে নম্রতা শেখানো

sand-shellsশিশু সন্তানকে নম্রতা শেখানো খুব সহজ কাজ, আবার খুব কঠিনও। কিভাবে? খুব সহজ কারণ শিশুকে যাই শেখাবেন তাই শিখবে। আর খুব কঠিন এই জন্য যে, ওই একই আচরণগুলি আপনাকেও চর্চা করতে হবে। তবে, আপনার জন্য কঠিন তখনি হবে যদি আপনি সেটা মন থেকে না চান। আর খুবই সহজ হবে যদি মন থেকে চান। আর তাই আপনার সন্তানকে যদি নম্রতা ভদ্রতা শেখাতে চান তাহলে আগে নিজেকে পাল্টাতে হবে। নইলে আপনার শিশু বিভ্রান্ত হবে। যাকে বলে সে কন্‌ফিউজ্ড্‌ থাকবে আপনার শেখানো বিষয়গুলিতে।

(১) এই যেমন ধরুন, আপনি চাইছেন যে আপনার সন্তান বড়দের দেখলে সালাম দিক বা কেউ সালাম দিলে সঠিক উপায়ে সে সেই সালামের উত্তর দিক। খুব সহজ পদ্ধতি এই যে, আপনি নিজে সালাম দিন এবং সালামের উত্তর দিন। এই আচরণটি শিশুকে বলে বলে শেখাবার দরকার নেই।

সালাম নিয়ে কিছুটা বিস্তারিত:

ভাবছেন, আপনার শিশুকে সালাম শেখাবার জন্য কাকে প্রতিদিন এত এত সালাম দেবেন? আর প্রতিদিনতো আমাদের বাসায় মেহমান বা প্রতিবেশি আসে না, তাই না? আমি বলব, মেহমান বা প্রতিবেশির দরকার নেই। আপনি প্রতিদিন আপনার সন্তানকেই সালাম দিন, আপনার স্ত্রী/স্বামীকেই সালাম দিন, বাসায় আর যারা আছেন তাদের ভেতর সালামের আদান-প্রদান করুন, ব্যাস্‌ আর কিছুই লাগবে না। যদি এইভাবে করেন তাহলে বাচ্চার কানের কাছে এই ধরনের কথা বলে ঘ্যানোর ঘ্যানোর করতে হবে না:
– সুনাতা আম্মু, আংকেল/আন্টিকে সালাম দাও।
– এই সুনাতা, দাদুভাইকে সালাম দাও।
– ইত্যাদি, ইত্যাদি।

আবার হয়ত ভাবছেন, আপনার বাচ্চার বয়স মাত্র ৬ মাস বা ১ বছর। ও সালামের কি বুঝবে? বরং যখন কথা বলা শিখবে, আরো একটু বড় হোক, তখন সালাম দেয়া যাবে। এক্ষেত্রে আমি বলব, আপনার মাঝে কিছুটা ভুল ধারণা আছে। দেখুন, আপনার বাচ্চার বয়স কত সেটা ভাববার দরকার নেই, জাষ্ট তাকে শুদ্ধভাবে সালাম দিন।

(২) মানুষ মাত্রই নেগেটিভ আচরণের কাজ করবে সেটা মাথায় রাখবেন। তার মানে, আপনার শিশু যখনই কোনো নেগেটিভ আচরণের কাজ করছে/করবে তখন সাথে সাথে হুংকার চিৎকার দেবার কিছু নেই। আর মাইর-থাপ্পড়তো অবশ্যই নয়। চিৎকারও দিতে নিষেধ করছি, আবার মাইর দিতেও নিষেধ করার পরামর্শ দিচ্ছি, তবে করতে বলছিটা কি, তাইতো? ওয়েল, তার কাজটি যে ভালো কাজ নয় সেটা তাকে বোঝান। বানিয়ে বানিয়ে গল্প বলুন যে ছোট বেলায় আপনি অমন বাজে কাজটা করতে গিয়ে আপনার বা আপনার কোনো বন্ধুর কি হয়েছিলো। এভাবে মোটিভেট করুন।

(৩) তার বিভিন্ন ভালো কাজের প্রশংসা করুন। আপনার শিশুটি যে খুবই ভালো মেয়ে/ছেলে সেটা তাকে বলুন। সে যখনই কোনো ভালো কাজ করবে অমনি তার কাজের প্রশংসা করুন।

(৪) আপনি যদি কোনো প্রকার ভুল করে ফেলেন তবে সরি/দু:খিত বলুন। আপনি সরি বলার অভ্যেস না করলে সেও বলবে না। সে ধরেই নেবে যে সরি বলা খুবই অপমানজনক কাজ। আর তাই আমরা অনেক সময় যখন কোনো শিশুকে সরি বলতে বলি সে কিন্তু নাছোড় বান্দার মতো রাগ করে থাকে বা জিদ দেখায়, কিন্তু তাও সরি বলেনা। আবার হয়ত যখন বলে তখন সে চিৎকার করে কেঁদে বলে। যেন তার সকল মান-সম্মান শেষ হয়ে গেল। তাই আপনিও সরি বলুন আপনার বিভিন্ন ভুলে। এবং বিশেষ করে আপনার শিশু সন্তানকে শুনিয়ে শুনিয়েই বলুন। আপনি তার মা-বাবা বলে সন্তানকে সরি বলা যাবে না এমন ধারণা আপনার মাঝে থেকে থাকলে তা ঝেড়ে ফেলুন।

(৫) শিশুকে যখন কিছু আদেশ দেবেন তখন ‘Please, দয়াকরে’ এই ধরনের শব্দের সাথে তাকে আদেশ করুন। যাকে বলে Polite হয়ে বলা আর কি।

(৬) যদি আপনি হন বাসার বড় কর্তাদের একজন তবে আপনার প্রভাব শিশুর উপর একটু বেশিই পড়তে পারে। আর তাই আপনি কিভাবে বাসার আর সকল সদস্যদের সাথে আচরণ করছেন সেটাও খুব জরুরী।

লেখাটি নেওয়া হয়েছে এখান থেকে: https://learningfrommylife.wordpress.com/2010/11/24/শিশু-সন্তানকে-নম্রতা-শেখ/

Advertisements

3 thoughts on “শিশু সন্তানকে নম্রতা শেখানো

  1. পিংব্যাকঃ শিশু সন্তানের নৈতিক শিক্ষা নিয়ে প্রস্তাবনা: প্রথমে মনুষ্যত্বের মৌলিক পাঠের গাঁথুনি, এর উপর ধর্ম

  2. পিংব্যাকঃ শিশু আক্রমণাত্মক আচরণ করলে যেভাবে তাকে সামলাতে হবে | আমার স্পন্দন

  3. পিংব্যাকঃ শিশুকে সদাচার ও শিষ্টাচার শেখানো | আমার স্পন্দন

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s