দুআ: একটি সহজ ও কার্যকর অস্ত্র

সাম্প্রতিক সময়ে মুসলিম বিশ্বের পরিস্থিতি বেশ খারাপ আকার ধারণ করেছে। কিছুদিন পরপরই বিভিন্ন মুসলিম ভূখণ্ডে – যেমন গাজা, সিরিয়া ইত্যাদি জায়গাতে – দেখা যাচ্ছে নিপীড়ন আর নির্যাতন। বোমাবাজি, আধুনিক রকেট ক্ষেপণ ইত্যাদি এরকম আরও অনেক শব্দ ব্যবহার করা যায় কিন্তু আমি এর চেয়ে আর বেশি কিছু বলতে চাইনা। সংবাদমাধ্যমগুলো অথবা সোশ্যাল মিডিয়ার দিকে তাকালে আপনি এসবের ব্যাপকতা সহজেই দেখতে পারবেন। তবে এতসবের পরেও আমরা যারা ভাবছি যে এক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করণীয় নেই তাদেরকে আমি বলব, আপনারা এখনও সেই সহজ অস্ত্রের সন্ধান পাননি অথবা এর ব্যাপকতা সম্পর্কে এখন পর্যন্ত আপনাদের ধারণা নেই।

Photo credit: pixabay[dot]com/en/rose-red-flower-treasure-chest-557692/
Photo credit: pixabay[dot]com/en/rose-red-flower-treasure-chest-557692/
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা মুমিন বান্দাদের এই সুন্দর অস্ত্রের ব্যবহার সৃষ্টির শুরু থেকেই শিখিয়ে দিয়েছেন, এই সহজ অস্ত্রটি হচ্ছে “দুআ”। কুর’আনে সূরা ফাতিহার দিকে তাকালেই এই ব্যাপারটি আরও পরিষ্কার হয়ে যায়। আর আদম (আঃ) যখন বেহেশত থেকে বের হয়ে গেলেন তখন তিনিও আল্লাহর কাছে দুআ করেছিলেন তাঁর ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, আর সেই দুআ আল্লাহই তাঁকে শিখিয়ে দিয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বদরের যুদ্ধের আগে সারা রাত ধরে আল্লাহর কাছে দুআ করেছেন মুসলিমদের রক্ষার জন্যে।

দুআ হচ্ছে এমন এক ব্যবস্থা যার জন্য কোনো লাইসেন্স বা পাসপোর্ট দরকার হয় না, সরাসরি আল্লাহর কাছে তা পৌঁছে যায়। যে কেউ যে কোনো সময়ে দুআ করতে পারেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা দুআ সম্বন্ধে কুর’আনে উল্লেখ করেছেন  যে তিনি বান্দার দুআ কবুল করেন এবং তিনি বান্দার খুব কাছেই আছেন –

“আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে, বস্তুতঃ আমি রয়েছি সন্নিকটে। যারা প্রার্থনা করে, তাদের প্রার্থনা কবুল করে নেই, যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে। কাজেই আমার হুকুম মান্য করা এবং আমার প্রতি নিঃসংশয়ে বিশ্বাস করা তাদের একান্ত কর্তব্য। যাতে তারা সৎপথে আসতে পারে।” [আল কুর’আন ২:১৮৬]

আমি এখানে যে মূল ব্যাপারটির দিকে জোর দিতে চাচ্ছি তা হলো, একজন মুসলিম অন্য মুসলিমের কষ্ট দেখে চুপচাপ হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারে না। আর তাই যদি হয় তবে নিশ্চয় আমাদের ঈমানের মধ্যে দুর্বলতা রয়ে গেছে। অন্ততপক্ষে অন্তর দিয়ে হলেও মুসলিমদের প্রতি এই নির্যাতনের ব্যাপারটিকে ঘৃণা করতে হবে। আর যারা এই ধারণা নিয়ে বসে আছেন যে এত বড় সমস্যার মধ্যে আমরা নাক গলালেই বা কী হবে আমি তাদেরকে বলব, আপনাকে কিছুই করতে হবে না, আপনি শুধু তাদের জন্য দু’হাত তুলে দুআ করুন। আপনার মনে যা আসে তাই আপনি বলুন, যেমন ধরুন:

“হে আল্লাহ, আপনি রাহমানুর রাহিম, আপনি সারা পৃথিবীর মুসলিমদের উপর আপনার রহমত বর্ষণ করুন। যারা নির্যাতিত হচ্ছেন তাদেরকে আপনি রক্ষা করুন, আর যারা নির্যাতন করছে তাদেরকে আপনি হেদায়েত দান করুন। আর যদি তাদের জন্যে হেদায়েত না থাকে তাহলে তাদেরকে আপনার অসীম শক্তি দিয়ে ধ্বংস করে দিন”

একটু ভেবে দেখুন, আপনার পরিবারের কোনো সদস্য যদি ওইসব মুসলিম ভূখণ্ডগুলোতে অথবা অন্য যে কোনো জায়গায় যে কোনো দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে অবস্থান করত তবে আপনার মনের অবস্থা কেমন থাকত? সহীহ মুসলিমে নু’মান বিন বাশির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন –

“পারস্পরিক ভালবাসা, স্নেহ, সমব্যথা এসবের ক্ষেত্রে মুমিনদের সাদৃশ্য অনেকটা এরকম যেন একটি শরীর; যেমনটি যদি শরীরের কোনো অঙ্গ ব্যথা করে তখন কিন্তু পুরো শরীর ব্যথা করে, অনিদ্রা অথবা জ্বরের কারণে।”

লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩ই ডিসেম্বর, ২০১২ তারিখে অধুনালুপ্ত “হৃদয়ে ইসলাম” ব্লগে।

Advertisements

1 thought on “দুআ: একটি সহজ ও কার্যকর অস্ত্র

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this:
search previous next tag category expand menu location phone mail time cart zoom edit close