এরাই তারা যাদেরকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের জান্নাত দেওয়া হবে

“এরাই তারা যাদেরকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের জান্নাত দেওয়া হবে, তাদের ধৈর্য্যর সাথে চেষ্টার জন্য। সেখানে তাদেরকে সাদরে অভ্যর্থনা এবং সালাম দিয়ে গ্রহণ করা হবে। অনন্তকাল সেখানে থাকবে তারা। কী সুন্দর সুখের বাসস্থান, বিশ্রামের জায়গা!” [সূরা আল-ফুরকান, ২৫:৭৫-৭৬]

Photo credit: flickr[dot]com/photos/qin1109/14516069496

Photo credit: flickr[dot]com/photos/qin1109/14516069496

কারা এরা? নিশ্চয়ই এরা অনেক উপরের লেভেলের কেউ। এরা নিশ্চয়ই ইসলামের জন্য বিরাট সব কাজ করেন, ফেইসবুকে ‘জিহাদ’ করেন, নাস্তিকদের নিয়ে ‘উচ্চমার্গের লেখালেখি’ করেন, পৃথিবীর যাবতীয় মুসলিম, দাঈ, স্কলারদের সম্পর্কে তাদের ‘জ্ঞান-গম্ভীর মতামত’ প্রদান করেন, গল্পের আসরে রাজনীতি, জিহাদ নিয়ে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন? বা এরা নিশ্চয়ই নবী, রাসুল, সাহাবীগণ, যাদের সমান হওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়?

না। দেখুন, কারা এরা—

পরম করুণাময়ের বান্দা তারাই, যারা বিনম্রভাবে পৃথিবীতে চলাফেরা করে, আর অজ্ঞ-মূর্খরা তাদেরকে কটু কিছু বললে তারা ভদ্রভাবে শান্তিপূর্ণ উত্তর দেয়।

যারা রাতে তাদের রব্বের প্রতি কখনো সিজদায়, কখনো দাড়িয়ে থাকে।

যারা আকুলভাবে বলে, “ও রব্ব, আমাদের কাছ থেকে জাহান্নামের শাস্তিকে সরিয়ে দিন! এর শাস্তি যে নিরন্তর বড় কষ্টের!

সেটা যে এক জঘন্য থাকার জায়গা!”

এরা মাত্রাতিরিক্ত খরচ করে না, আবার কৃপণতাও করে না, ভারসাম্য বজায় রাখে।

এরা আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে উপাসনা করে ডাকে না। ন্যায়সঙ্গত কারণ ছাড়া কাউকে হত্যা করে না, যাকে হত্যা করা আল্লাহ অবৈধ করেছেন। আর এরা ব্যাভিচার করে না। যে এসব করবে, সে তার জরিমানা দেবে।

ওর শাস্তি কিয়ামতের দিন দ্বিগুন হবে। সেখানে সে অপমানিত-ঘৃণিত অবস্থায় চিরকাল থাকবে।

তবে সে ছাড়া, যে তাওবাহ করেছে, বিশ্বাস করেছে, এবং ভালো কাজ করেছে। আল্লাহ বরং এদের খারাপ কাজগুলোকে বদলে দেবেন ভালো কাজে। আল্লাহ তো অত্যন্ত ক্ষমাশীল, নিরন্তর করুণাময়!

যে তাওবাহ করে এবং ভালো কাজ করে, সে সত্যিই আল্লাহর কাছে ফিরে আসে।

[পরম করুণাময়ের বান্দা তারাই], যারা কখনো মিথ্যা সাক্ষী-মত দেয় না। এরা কোনো অনর্থক কাজে জড়িয়ে পড়লে, সাথে সাথে আত্ম-সন্মান বজায় রেখে সরে যায়।

এদেরকে তাদের রব্বের নিদর্শন মনে করিয়ে দিলে, কখনই তারা না-দেখা বা না-শোনার ভান করে না।

এরা প্রার্থনা করে, “ও রব্ব, আমাদের স্ত্রী এবং সন্তানদের মধ্যে থেকে আমাদের জন্য চোখের শীতলতা দিন। আর আপনার প্রতি যারা সচেতন-নিবেদিত, আমাদেরকে তাদের জন্য অনুসরণ করার মতো উদাহরণ বানিয়ে দিন।”

এরাই তারা, যাদেরকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের জান্নাত দেওয়া হবে, তাদের ধৈর্য্যর সাথে চেষ্টার জন্য। সেখানে তাদেরকে সাদরে অভ্যর্থনা এবং সালাম দিয়ে গ্রহণ করা হবে।

অনন্তকাল সেখানে থাকবে তারা। কী সুন্দর সুখের বাসস্থান, বিশ্রামের জায়গা!

[সূরা আল-ফুরকান আয়াত ৬৩-৭৬]

যারা বুদ্ধিমান, তারা এটা পড়ার পর জলদি একটি টু ডু লিস্ট বানিয়ে ঘরে টাঙিয়ে রাখবে—

১) কেউ বাজে কথা বললে, ভদ্রভাবে শান্তিপূর্ণ উত্তর দেব।

২) রাতের বেলা আল্লাহর ইবাদতে সময় দেব।

৩) নিয়মিত জাহান্নামের শাস্তির কথা মনে মনে কল্পনা করবো। আর আল্লাহর কাছে তা থেকে মুক্তি চাইবো।

৪) লোকদেখানো খরচ করবো না। কিপটামিও করবো না।

৫) আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ডাকবো না, কারো উপর ভরসা করবো না।

৬) খুব ভালো করে নিজে কিতালের ফিকহ না শিখে, শুধুই কারো মুখের কথায় অন্য কাউকে হামলা করবো না, পাছে আমার জন্য হারাম কাউকে আক্রমণ হয়ে যায়।

৭) ব্যাভিচারের ধারেকাছেও যাবো না। টিভি থেকে সব আজেবাজে চ্যানেল মুছে দেব। মোবাইল, কম্পিউটারে চেষ্টা করলেও যাতে পর্ণ দেখা না যায়, সেজন্য সফটওয়ার ইনস্টল করবো। [সফটওয়ারের লিংক এখানে]

৮) আগে যত পাপ করেছি, তার জন্য বার বার তাওবাহ করবো। আর এত বেশি ভালো কাজ করব যেন, কিয়ামতের দিন কোনো আফসোস না থাকে।

৯) বন্ধুবান্ধব, আত্নীয়স্বজন ফালতু গল্পের আসর বসালে, ফেইসবুকে চ্যাট শুরু করলে, ফালতু কিছু শেয়ার করলে, তা থেকে সন্মান বজায় রেখে সরে যাবো।

১০) কেউ ইসলাম সম্পর্কে কিছু বললে, ফেইসবুকে ইসলামের উপর কোনো পোস্ট পড়লে, কখনই পাশ কাটিয়ে যাবো না। পড়ে-শুনে আন্তরিকভাবে চিন্তা করবো: আমার ভেতরে কী কী পরিবর্তন আনতে হবে?

১১) কখনো এমন কোনো কথা বলবো না, এমন কিছু ছড়াবো না, যা আমি নিশ্চিত নই যে তা সত্য।

১২) প্রতিদিন দু’আ করবো: “ও রব্ব, আমাদের স্ত্রী এবং সন্তানদের মধ্যে থেকে আমাদের জন্য চোখের শীতলতা দিন। আর আপনার প্রতি যারা সচেতন-নিবেদিত, আমাদেরকে তাদের জন্য অনুসরণ করার মতো উদাহরণ বানিয়ে দিন।”

১১) আমি ধৈর্য্যের সাথে উপরের ব্যাপারগুলো আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেই যাবো।

সূত্র: https://www.facebook.com/photo.php?fbid=10152599263001910&set=a.10151017384571910.423771.694141909

সহায়ক পাঠ:

Advertisements

6 thoughts on “এরাই তারা যাদেরকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের জান্নাত দেওয়া হবে

  1. পিংব্যাকঃ [রামাদান স্পেশাল] আজকের আয়াত #১৯: ন্যায়নিষ্ঠ পরিবার (অনুবাদ) | আমার স্পন্দন

  2. পিংব্যাকঃ পর্ণগ্রাফি আসক্তি: ভয়াবহতা ও মুক্তির উপায় | আমার স্পন্দন

  3. পিংব্যাকঃ আমাদের রামাদান বৃথা যাবে না যদি … | আমার স্পন্দন

  4. পিংব্যাকঃ আল্লাহর অবাধ্য বান্দার মৃত্যু, কবর, হাশর, হিসাব, পুলসিরাত এবং জাহান্নাম যেমনটি হতে পারে | আমার স্প

  5. পিংব্যাকঃ যে-মানুষটি মারা গেল তার কী হলো? সে কোথায় গেল? | আমার স্পন্দন

  6. পিংব্যাকঃ ঈমান বাড়ানোর সহজ চারটি উপায় | আমার স্পন্দন

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s