প্রসঙ্গ: ফাতওয়া ওয়েবসাইট (অনুবাদ)

Islamic Online University-এর হেড টিউটোরিয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট Abu Muawiyah Ismail Kamdar-এর একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস আপডেট থেকে অনুদিত।

Photo credit: flickr[dot]com/photos/stewart/99129170/
Photo credit: flickr[dot]com/photos/stewart/99129170/
আমার ফিক্‌হ ক্লাসে একটি প্রশ্ন প্রায়ই ঘুরে ফিরে আসে। প্রশ্নটি হচ্ছে ইসলাম বোঝার জন্য ফাতওয়া ওয়েবসাইটের উপর নির্ভরশীলতা। উর্‌ফ বা স্থানীয় সংস্কৃতির গুরুত্ব এবং এর সাথে সম্পর্কিত সাধারণ নীতি আল-আদাত মুহাক্কামাহ (স্থানীয় সংস্কৃতিই নির্ধারণী কারণ) সংক্রান্ত বিষয়গুলো যে মড্যুলে আমি শেখাই সেখানে এই প্রশ্নগুলো বেশি ওঠে।

সমস্যা হচ্ছে ফাতওয়াগুলোকে মানুষজন কুর’আন ও সুন্নাহর সমকক্ষ মনে করে এবং নিজ নিজ এলাকার মানুষের উপর সেসব ফাতওয়া প্রয়োগে বেশ কঠোর হয়ে পড়ে। এধরনের মনোভাবের সমস্যা অনেক। আর এগুলোর সম্পর্ক রয়েছে মৌলিক উসূল আল-ফিক্‌হ (ফিক্‌হের মূলনীতি)-এর সঙ্গে:

১. এসব ফাতওয়ার অধিকাংশয়ই সেইসব ‘আলিমের স্থানীয় সংস্কৃতির উপর ভিত্তি করে দেওয়া। কাজেই এগুলোর অনেকগুলোরই হয়তো কোনো প্রয়োগ নেই ভিন্ন কোনো জায়গায়।

২. এসব ফাতওয়ার অধিকাংশই সাধারণ গোছের। নির্দিষ্ট কোনো পরিস্থিতিতে এগুলো প্রয়োগযোগ্য না-ও হতে পারে।

৩. আবার অন্যদিকে এসব ফাতওয়ার অনেকগুলো হয়তো কেবল নির্দিষ্ট কোনো পরিস্থিতির জন্য প্রযোজ্য। ফলে সেটা বাকি উম্মাহ্‌র জন্য খাটে না।

৪. ফিক্‌হের প্রকৃতিই হচ্ছে নমনীয়তা। কাজেই পরিস্থিতি, সংস্কৃতি ও ব্যক্তিভেদে এর পরিবর্তন হতে পারে। প্রত্যাদেশ বা ওয়াহ্‌য়ির মতো এসব ফাতওয়াকে আঁকড়ে ধরে থাকার ফলে অনেক মুসলিমই ইসলামকে অনেক কঠোর করে ফেলেন। নিজ নিজ এলাকার মানুষের জন্য ইসলামকে অবাস্তবিক করে তোলেন। সৃষ্টি করেন অপ্রয়োজনীয় সমস্যা ও সংঘর্ষ। সাউদি আরাবিয়া কিংবা ভারতে যে ফাতওয়া দেওয়া হচ্ছে সেই ফাতওয়া একইসঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা আমেরিকার স্থানীয় সংস্কৃতির পার্থক্যের কারণে প্রযোজ্য না-ই হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে আমার পরামর্শ হচ্ছে:

১. স্থানীয় সংস্কৃতি বোঝেন এবং ফিক্‌হি ব্যাপারে ইজতিহাদের ক্ষেত্রে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্থানীয় বিদ্বান (‘আলিম)দের অনুসরণ করা গেলে সবচেয়ে ভালো হয়।

২. সাধারণ ইস্যু যেগুলো উর্‌ফ কিংবা অন্যান্য নিয়ামকের উপর ভিত্তি করে বদলায় না এমনক্ষেত্রে ফাতওয়া ওয়েবসাইটগুলো রেফার করা যেতে পারে।

৩. কোনো ফাতওয়া অনুসরণের বেলায় আমরা যেন একথাটা মাথায় রাখি যে, এটা কোনো প্রত্যাদেশ নয়। এটা একজন ‘আলিমের অভিমত। এটা ভুল হওয়ারও আশঙ্কা থাকতে পারে। এবং পরিস্থিতির বদলের সঙ্গে এই ফাতওয়ারও পরিবর্তন হতে পারে। কোনো নির্দিষ্ট ‘আলিম বা বিদ্বানের ব্যাপারে গোঁড়া হওয়া যাবে না। যারা অন্য কোনো বিদ্বানের ফাতওয়া অনুসরণ করেন তাদেরকে অপদস্থ বা এই কারণে তাদের থেকে আলাদা হওয়া যাবে না।

সহজ ভাষায়: কোনো মানুষের মতামতকে আল্লাহর প্রত্যাদেশের সমান ভাববেন না। মতের মিল না হলেও আমরা যেন সব জ্ঞানের ছাত্র ও বিদ্বানদের শ্রদ্ধা করি।

সূত্র: https://www.facebook.com/masud.shorif/posts/10152838548496332

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this:
search previous next tag category expand menu location phone mail time cart zoom edit close