রামাদান হোক কুরআনের মাস

Photo credit: Zaid Al Balushi, via flickr[dot]com/photos/zaidbalushi/577156166

Photo credit: Zaid Al Balushi, via flickr[dot]com/photos/zaidbalushi/577156166

ইমাম মালিক ইবনে আনাস (৯৩-১৭৯ হিজরি/ ৭১১-৭৯৫ খ্রিস্টাব্দ) ছিলেন তাঁর যুগের শ্রেষ্ঠ হাদিস বিশারদ ও ফকীহ। কিন্তু, রামাদান মাস আসলেই তিনি তাঁর হাদিসের স্ক্রলগুলো আলমারিতে তুলে রাখতেন, মুলতুবি করে দিতেন ফিকহী গবেষণা। কারণ, তিনি বিশ্বাস করতেন রামাদান হলো কুরআনের জন্য নির্ধারিত স্পেশাল মাস। এ মাসের সাথে কুরআনের সম্পর্ক এতটাই গভীর যে, যে সময়টুকু ইসলাম নিয়ে পড়াশুনা করা হবে, তার পুরোটা জুড়ে শুধু কুরআনই থাকবে। কোত্থেকে এই বুঝ পেলেন ইমাম মালিক?

আল্লাহ্ ﷻ সূরা বাকারায় বলেছেন:

“রামাদান মাস – যাতে কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে, যা মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক এবং সঠিক পথের সুস্পষ্ট নিদর্শন ও ভালো-মন্দের মধ্যে পার্থক্য নিরুপণকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে এই মাস পাবে, সে যেন রোজা রাখে …”। (২:১৮৫)

লক্ষ্যণীয় হলো:

১) রামাদান একমাত্র মাস যেটাকে নাম ধরে কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বুঝা গেলো এই মাসের মর্যাদা অন্য যে কোনো মাসের চেয়ে বেশী।

২) বাক্যটার স্বাভাবিক গঠণ হওয়ার কথা ছিলো – “রামাদানে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে”। কিন্তু আল্লাহ্ তা এভাবে বলেননি, তিনি শুরু করেছেন – “শাহরু রমাদান” বা “রামাদান মাস” দিয়ে, এরপর বলেছেন “– যাতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে”। রামাদান যে একটা মাসের নাম এটা তো সবারই জানা। তবু, আল্লাহ্ রামাদান শব্দের আগে “শাহরু” (মাস) ব্যবহার করে এই মাসের উপর বাড়তি গুরুত্ব প্রদান করেছেন।

৩) আল্লাহ্ রামাদানকে এত বিশেষ মর্যাদা দেয়ার কারণ কি? কারণ- এই মাসে তিনি কুরআন অবতীর্ণ করেছেন।

৪) মানুষের পাকস্থলির সাথে স্পিরিচুয়ালিটির একটা সম্পর্ক আছে। যখন মানুষের পাকস্থলি, মানুষের দেহকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত রসদ দেয়া হয় – তখন তার স্পিরিচুয়ালিটি মরে যায়, সে বিভোর হয়ে থাকে পার্থিব প্রাপ্তিতে। অন্যদিকে মানুষের পাকস্থলি, মানুষের দেহে যখন রসদের অভাব হয় – তখন খারাপ কিছু দেখার বাসনা, খারাপ কিছু বলার বাসনা, মন্দ কাজ করার বাসনা – এসব এমনিতেই মরে যায়, যা মানুষের স্পিরিচুয়াল গ্রোউথে সাহায্য করে।

৫) কুরআনের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলার অর্থই হলো নিজেকে স্পিরিচুয়ালি গ্রো করা। এই গ্রোউথকে ত্বরান্বিত করতে হলে দরকার পাকস্থলি আর দেহে সরবরাহ কমিয়ে দেয়া। এক মাস রোজার বিধান আমাদেরকে সেই সুযোগটা করে দেয়, যাতে করে আমরা কুরআনের সাথে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি।

৬) জীবনের শেষ ৯ বছরের প্রত্যেক রামাদানেই রাসূলুল্লাহ ﷺ তখন পর্যন্ত নাজিলকৃত কুরআনের পুরোটা তিলাওয়াত করে শুনাতেন জিব্রিল(আ)-কে। আবার জিব্রিল(আ)-ও পুরো কুরআন তিলাওয়াত করে শুনাতেন রাসূলুল্লাহ ﷺ কে। আর নবীজির ﷺ জীবনের সর্বশেষ রামাদানে তাঁরা একে অপরকে পুরো কুরআন ২ বার করে তিলাওয়াত করে শুনান।

৭) রামাদানে কুরআনের এই গুরুত্বের কারণে মুসলিম হিসাবে আমাদের উচিত হবে এই মাসে সব কিছুর উর্ধ্বে কুরআনের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলা, যে মসজিদে তারাবির নামাজের তিলাওয়াত সুন্দর হয় সেই মসজিদে যেয়ে নামাজ আদায় করা। যে মসজিদে রকেটের গতিতে তারাবীর নামাজ পড়ানো হয় সেই মসজিদকে ত্যাগ করতে হবে। আল্লাহর ﷻ কাছে কোয়ান্টিটির চাইতে কোয়ালিটি বেশী গুরুত্বপূর্ণ। ধীর-স্থিরতার সাথে যত বেশী তিলাওয়াত শুনা যায় ততই ভালো, আর পুরো কুরআন শুনতে পারলে তো সবচেয়ে ভালো – তাহলে আমাদের রামাদানে কুরআন শ্রবণ করার সুন্নাতটি আদায় হয়ে যাবে।

৮) বাজারে অনুবাদ-উচ্চারণসহ যে কুরআনগুলি পাওয়া যায় সেগুলি গড়ে প্রায় ৮৫০ পৃষ্ঠার হয়। অর্থাৎ, আমরা যদি দিনে ২৫-৩০ পৃষ্টা করে কুরআন পড়তে পারি, তাহলে পুরো কুরআন মাজিদই কিন্তু এই রামাদান মাসে পড়ে শেষ করা সম্ভব। আমরা যদি প্রতিদিনকার কিছু অপ্রয়োজনীয় কাজ এই রামাদানে বাদ দিতে পারি, তাহলে কুরআন পাঠের জন্য দিনে আধা ঘণ্টা বের করা খুব কঠিন কিছু হবে না। প্রতিদিন এরকম করতে পারলে – রামাদানে কুরআন পাঠের সুন্নাতটিও আমাদের আদায় হয়ে যাবে।

রামাদান হোক আমাদের সকলের জন্য কুরআনের মাস, সিয়ামের মাস; আমি যা করি, যে পরিস্থিতিতেই থাকি, আল্লাহ্ সবকিছুর খবর রাখেন – এই সত্য উপলব্ধির মাস।

রামাদান কারিম!

সূত্র: https://www.facebook.com/adnan.faisal/posts/10155638654140361

Advertisements

One thought on “রামাদান হোক কুরআনের মাস

  1. পিংব্যাকঃ এই রামযান থেকেই শুরু হোক কুরআনে কারিমের শিক্ষা | আমার স্পন্দন

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s