[রামাদান স্পেশাল] আজকের আয়াত #২: হালাল ও পবিত্র খাদ্য (অনুবাদ)

“মানুষ, পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র খাদ্য খাও; আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কোরো না। সে কিন্তু তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।” (সূরাহ আল-বাকারাহ, ২:১৬৮)

কিছু আরব গোত্র কোনো প্রমাণ ছাড়াই অনেক পশুকে হারাম ঘোষণা করেছিল। এই পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ এই আয়াত অবতীর্ণ করেন। এই গোত্রগুলো বিনা কারণে তাদের লোকদের জীবনকে কঠিন করে তুলেছিল। এই আয়াত এবং অনুরূপ অন্যান্য আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের কাছে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, খাওয়ার জন্য সবকিছুই হালাল। কেবল সেগুলো ছাড়া যেগুলো আল্লাহ নিজে কুর’আনে উল্লেখের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করেছেন, কিংবা নাবির (তাঁর উপর বর্ষিত হোক আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ) মাধ্যমে নিষিদ্ধ করেছেন। ইমাম আল-কুরতুবির মতে এই আয়াতে শুধু বিশ্বাসীদেরকে নয়, বরং গোটা মানবজাতিকেই নির্দেশ করা হয়েছে। কারণ, “মানুষ,” শব্দটির মধ্যে মুসলিমদের সঙ্গে সঙ্গে তৎকালীন আরব পৌত্তলিকদেরও নির্দেশ করা হয়েছে।

আয়াতের দ্বিতীয় অংশে শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ না-করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। ইব্‌ন কাসীরের মতে, এটা হচ্ছে প্রমাণবিহীনভাবে কোনো জিনিসকে নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে পৌত্তলিক আরবদের রীতি। ভিত্তিহীনভাবে কোনো কিছু নিষিদ্ধ করার এই রীতি অনুসরণের মাধ্যমে শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করা হয়। এবং এটা আরও বিভিন্ন প্রান্তিক প্রবণতার দ্বারকে উন্মুক্ত করে। কারণ মানুষ নিজেই যখন নিজের নিয়ম বানাতে থাকে, তখন এভাবে নিয়ম বানাতে বানাতে একসময় নিজেই নিজের ধর্ম বানিয়ে বসে।

Photo credit: Alpha, via flickr[dot]com/photos/avlxyz/5087983142
Photo credit: Alpha, via flickr[dot]com/photos/avlxyz/5087983142
হালাল খাবারের ব্যাপারটিকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো কারণ নেই। সফলতার জন্য এটি যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, সেটা আল-কুর’আনে বহু জায়গায় উল্লেখ করা হয়েছে। তাফসীর আল-কুরতুবিতে ইমাম আল-কুরতুবি প্রাথমিক প্রজন্মের এক বিদ্বানের উক্তিতে উল্লেখ করেছেন যে, “তিনটি জিনিসের উপর সফলতা নির্ভর করে: হালাল খাওয়া, [আল্লাহর] আদেশ পালন করা এবং নাবিকে অনুসরণ করা।” (তাঁর উপর বর্ষিত হোক আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ) সফলতার সূত্র হিসেবে অন্যান্য জিনিসের সঙ্গে এখানে হালাল খাবারকে স্থান দেওয়া হয়েছে।

আল্লাহ সঙ্গে কে কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সেটা বোঝা যায় হালাল খাবার খাওয়া থেকে। কীভাবে? এটা ইসলামিক আধ্যত্মিকতার একটা মৌলিক অংশ। দেখা যায়, যেসব মানুষ হালাল খাবারের বেলায় সচেতন তারা আল্লাহর অন্যান্য আদেশ মানার বেলায়ও সচেতন। অন্যদিকে যারা এ ব্যাপারে সচেতন না, তারা আল্লাহর অন্যান্য আদেশ পালনের ব্যাপারেও শৈথিল্য দেখায়।

আধ্যাত্মিকতার দিক থেকে এই আয়াতটি আমাদেরকে দুটো মৌলিক বিষয় শিক্ষা দেয়: ১. আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার জন্য আমরা যা খাচ্ছি সেটাকে হালাল হতে হবে। ২. ভিত্তিহীনভাবে কোনো কিছুকে হারাম ঘোষণা করা যাবে না। একদল যারা ভিত্তিহীনভাবে সবকিছুকে হারাম ঘোষণা করে আর আরেক দল যারা হালাল-হারামের থোড়াই কেয়ার করে উভয় দলের থেকে উপরোক্ত পন্থ হচ্ছে মধ্যম পন্থা। আমাদের ঈমানকে ধরে রাখার জন্য এবং দুনিয়া ও আখিরাতে সফল হওয়ার জন্য এটা একটা ভারসম্যপূর্ণ পন্থা।

মূল লেখক: Ismail Kamdar, Head Tututorial Assistant, Islamic Online University

ইংরেজিতে মূল লেখাটি পড়ুন এখানে: http://abumuawiyah.com/verse-of-the-day-2-02168-halal-and-pure-food/ 

বাংলা অনুবাদটি প্রথম প্রকাশিত হয় এখানে: https://www.facebook.com/masud.shorif/posts/10152875119981332   

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this:
search previous next tag category expand menu location phone mail time cart zoom edit close