[রামাদান স্পেশাল] আজকের আয়াত #১: অনুশোচনা (অনুবাদ)

“আদাম তখন (ক্ষমা চাওয়ার জন্য) তার প্রভুর কাছ থেকে কয়েকটি কথা শিখে নেয়। এরপর তিনি (আল্লাহ) তার অনুশোচনা গ্রহণ করেন। কারণ, তিনি তো ক্ষমাশীল, সবচেয়ে দয়ালু।” (সূরাহ আল-বাকারাহ, ২:৩৭)

বিগত বছর ধরে আমরা যে পাপের বোঝা আমাদের উপর জমিয়েছি, সে কারণে অনেকেই রামাদানে নিজেকে বদলাতে সংকোচ বোধ করেন। আমরা মনে করি, আমরা হয়তো আল্লাহর দয়া ও ক্ষমার যোগ্য নই। এই অপরাধবোধ আমাদেরকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে বাধা দেয়। আল্লাহর প্রতি আমাদের ‘ইবাদাত থেকে ফিরিয়ে রাখে। অপরাধের জন্য মনে মনে দোষী অনুভব করা অবশ্যই ভালো একটা দিক। এটা প্রমাণ করে যে, আমাদের ঈমান এখনো মরে যায়নি। কারণ, আমরা জানি আমরা ভুল করছি। কিন্তু সেই অপরাধবোধ যেন আল্লাহর দয়া থেকে আমাদের নিরাশ না করে।

আল-কুর’আনে প্রথমে যে-কাহিনি বর্ণিত হয়েছে সেটা হচ্ছে আদাম (তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক) ও শাইতানের কাহিনি। মানবজাতির সূচনালগ্নের ব্যাপারে এই কাহিনি প্রায় সবারই জানা। আল্লাহ আদামকে সৃষ্টি করে ফেরেশতাদের আদেশ দিয়েছিলেন তাকে সিজদাহ করতে। কিন্তু জিন ইবলীস সিজদাহ করতে অস্বীকৃতি জানায়। এভাবেই শয়তানে পরিণত হয় ইবলীস। আদামকে জান্নাতে পাঠানো হয়। হাওয়া(ইভ)কে সৃষ্টি করা হয়। কিন্তু তারা দুজনেই নিষিদ্ধ ফল খেয়ে আল্লাহর আদেশ অমান্য করেন এবং পরিণতিতে পৃথিবীতে আসেন।

এই আয়াতে বলা হয়েছে যে, পৃথিবীতে পাঠানোর পর অনুশোচনা করার জন্য আদামকে আল্লাহ দু’আ শিখিয়েছিলেন। [দু’আটির উল্লেখ আছে সূরাহ আল-আ’রাফের ২৩নং আয়াতে।] আল্লাহ তাদের অনুশোচনা গ্রহণ করেন। এবং এর মাধ্যমে আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, তিনি সব অনুশোচনা গ্রহণ করেন। তিনি সবচেয়ে দয়ালু। কাজেই আমাদের মধ্যে যারাই বিভিন্ন পাপে জড়িয়ে আছি তাদের সবার জন্য আল-কুর’আনের শুরুতেই আশাব্যঞ্জক এক কাহিনির উল্লেখ করা হয়েছে।

Photo credit: Schristia, via flickr[dot]com/photos/schristia/2495519499

Photo credit: Schristia, via flickr[dot]com/photos/schristia/2495519499

মানুষকে নিখুঁত করে সৃষ্টি করা হয়নি। সে পাপ করবেই। শুরু থেকেই মানুষ অপরাধ করে আসছে, তাদের প্রভুকে অমান্য করছে। কিন্তু ন্যায়নিষ্ঠ আর খারাপ মানুষের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে অনুশোচনা। অনুশোচনাই খারাপ থেকে ভালোকে আলাদা করে। কারা সত্যিকার অর্থেই আল্লাহকে ভালোবাসে, তাঁর দয়া কামনা করে আর কারা তাঁর কোনো পরোয়া করে না সেটা আন্তরিক অনুশোচনার মাধ্যমেই বোঝা যায়। দুপক্ষই অপরাধ করে, কিন্তু যারা তাওবাহ করে কেবল তারাই আছে সঠিক পথে।

আল্লাহর পথে অভিযাত্রায় আমাদের ভুল হবে। পাপ হয়ে যাবে অজান্তেই। এটা আমাদেরকে পরীক্ষা করার একটা অংশ। আমরা যে মানুষ; ফেরেশতা নই এটা তারই প্রমাণ। এই অবস্থায় আমাদের পরীক্ষা হচ্ছে আমরা কি আদামের পথ বেছে নিয়ে অনুশোচনা করব, নাকি শয়তানের পথ বেছে নিয়ে লাগাতার অপরাধ করে যাবো।

রামাদানের শুরুতেই আসুন আন্তরিকভাবে অনুশোচনা করে নিজেদের পাপের বোঝাকে ঝেড়ে ফেলি। আমাদের অপরাধগুলো শনাক্ত করি, সেগুলোর জন্য মনে অপরাধবোধ জাগাই, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং প্রতিজ্ঞা করি যে, সেই অপরাধগুলো আর করব না। ভবিষ্যতে আবার সেই অপরাধে জড়িয়ে পড়বেন কি না সেটা নিয়ে ঘাবড়ানোর দরকার নেই। বর্তমান নিয়ে ভাবুন। এটা রাহমাতের মাস। এর পরিপূর্ণ ফায়দা নিন। অনুশোচনার জন্য একে ব্যবহার করুন। আল-কুর’আন নিয়ে পড়াশোনা করুন। নিজেকে একজন শ্রেয় মুসলিমে বদলে ফেলুন। আল্লাহ যেন আমাদের অতীতের সব অপরাধ মার্জনা করে দেন, সেটাই আমার চাওয়া।

মূল লেখক: Ismail Kamdar, Head Tututorial Assistant, Islamic Online University

ইংরেজিতে মূল লেখাটি পড়ুন এখানে: http://abumuawiyah.com/verse-of-the-day-1-0237-repentance/

বাংলা অনুবাদটি প্রথম প্রকাশিত হয় এখানে: https://www.facebook.com/masud.shorif/posts/10152872734126332   

Advertisements

One thought on “[রামাদান স্পেশাল] আজকের আয়াত #১: অনুশোচনা (অনুবাদ)

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s