[রামাদান স্পেশাল] আজকের আয়াত #৩: উদার ব্যক্তিত্ব (অনুবাদ)

“ধার্মিক তো তারাই যারা ভালো ও খারাপ উভয় সময়েই অকাতরে দান করে, নিজেদের মেজাজকে নিয়ন্ত্রণে রাখে আর মানুষকে ক্ষমা করে। আর আল্লাহ তো তাদেরকেই ভালোবাসেন যাদের চরিত্র উত্তম।” (সূরাহ আলি-‘ইমরান, ৩:১৩৪)

এই আয়াতটি এর আগের আয়াতের সঙ্গে সম্পর্কিত। আগের আয়াতে বলা হয়েছে তাকওয়াবান লোকদের জন্যই জান্নাত। সাধারণত আমরা যখন তাকওয়া শব্দটি শুনি তখন আমরা ‘ইবাদাত ও মানুষের বাহ্যিক দিকের কথাই চিন্তা করি। কিন্তু এ আয়াতটিতে তাকওয়ার একটি ভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে: ব্যক্তিত্ব ও চরিত্র।

তাকওয়ার নিদর্শনস্বরূপ এই আয়াতে মানুষের ব্যক্তিত্বের তিনটি দিকের উল্লেখ করা হয়েছে। এবং প্রতিটি দিকই ব্যক্তির উদারতার বিভিন্ন ধরন: দান করা, মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করা এবং মানুষকে ক্ষমা করা।

Photo credit: JD Hancock, via flickr[dot]com/photos/jdhancock/5545810212

Photo credit: JD Hancock, via flickr[dot]com/photos/jdhancock/5545810212

দান করাকে আল্লাহ প্রথমেই উল্লেখ করেছেন। তবে এর সঙ্গে শর্ত হিসেবে জুড়ে দিয়েছেন ভালো ও খারাপ উভয় সময়েই দান করাকে। সময় ভালো থাকলে এবং সম্পদ অতিরিক্ত থাকলে তো সহজেই দান করা যায়। তবে খারাপ সময়েও এটা ধরে রাখা তাকওয়ার অন্যতম লক্ষণ। এ ধরনের দানই নিস্বার্থ দান। অনেক ইসলামি বিদ্বানগণ একে বরং আরও বেশি পুরস্কারমূলক হিসেবে বিবেচনা করেছেন।

দ্বিতীয় যে বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেটা হচ্ছে নিজের মেজাজকে নিয়ন্ত্রণে রাখা। আল-কুরতুবি বলেছেন যে, আয়াতে যে শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে সেটা হচ্ছে ‘গাইত’। এর অর্থ মানুষের মেজাজ। কাজেই এই আয়াত আমাদের নির্দেশ করছে যে, আমরা যেন আমাদের আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখি; বিগড়ে না-যাই। এটা উদার মানসিকতার একটা ধরন। কারণ যে ব্যক্তি তাকওয়া সম্পন্ন সে ঠান্ডা-মাথার। সহজে বিগড়ে যায় না। দাওয়াহ দেওয়ার বেলায় এটা অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈশিষ্ট্য। কারণ, মানুষকে ইসলামের দিকে আহ্বান করতে গেলে অনেকেই আমাদের সঙ্গে এমন আচরণ করতে পারে যাতে হয়তো আমরা রেগে উঠতে পারি। কিন্তু তাকওয়ার গুণ থাকলে আমরা সেই অবস্থায় নিজেদের ধরে রাখতে পারব।

তৃতীয় গুণটি হচ্ছে অন্যের দোষকে উপেক্ষা করা। এর মানে হচ্ছে তাকওয়াবান লোক অন্যের কাছ থেকে নিখুঁত কাজ আশা করে না। কাজেই অন্যে যখন কোনো ভুল করে অথবা তার ক্ষতি করে তখন সেই কাজকে উপেক্ষা করে তাকে তখন সে সদুপদেশের মাধ্যমে দাওয়াহ দেয়। তাকওয়াবান লোক অন্যের ভুলকে ব্যক্তিগতভাবে নেয় না। বরং সে উদার মানসিকতার পরিচয় দেয়। তাকে ক্ষমা করে দিয়ে তার ভুলগুলোকে উপেক্ষা করার ইচ্ছা পোষণ করে।

উপরের তিনটি গুণ এটাই প্রমাণ করে যে, তাকওয়া শুধু আল্লাহর প্রতি আমাদের দায়িত্ব পূরণ করার নাম নয়। মানুষের সঙ্গে কীভাবে আমরা ব্যবহার করব তাকওয়ার মধ্যে সেটাও অন্তর্ভুক্ত। কাজেই তাকওয়ার অর্থকে আমরা যেন হাতেগোনা কিছু ধর্মীয় রীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখি। বরং সামগ্রিকভাবে ইসলামকে বুঝি ও সে অনুযায়ী চর্চা করি।

মূল লেখক: Ismail Kamdar, Head Tututorial Assistant, Islamic Online University

ইংরেজিতে মূল লেখাটি পড়ুন এখানে: http://abumuawiyah.com/verse-of-the-day-3-03134/

বাংলা অনুবাদটি প্রথম প্রকাশিত হয় এখানে: https://www.facebook.com/masud.shorif/posts/10152877811796332     

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s