[রামাদান স্পেশাল] আজকের আয়াত #৪: আর্থিক জবাবদিহিতা (অনুবাদ)

“এতিমদেরকে তাদের সম্পদ দিয়ে দাও। (তোমাদের) খারাপ জিনিসকে (তাদের) ভালো জিনিস দিয়ে বদল কোরো না। এবং তোমাদের সম্পদের সাথে মিশিয়ে তাদের সম্পদ খেয়ো না। এটা অবশ্যই একটা বড় পাপ।” (সূরাহ আন-নিসা, ৪:০২)

পৌত্তলিক আরবরা এতিমদের সাথে কীরূপ আচরণ করত, তার পরিপ্রেক্ষিতে এই আয়াত অবতীর্ণ হয়। ইসলামের সংজ্ঞামতে এতিম হচ্ছে সেই ব্যক্তি যার বাবা মারা গিয়েছেন। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের শিশুদের শারী’আহতে এতিম হিসেবে গণ্য করা হয়। বাবা মারা যাওয়ার পর পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ কোনো ব্যক্তি সেই এতিমের ও তার সম্পদের দেখভালের দায়িত্ব নিত। এটাই ছিল আরবদের রীতি। তবে অনেক অভিভাবকই এই আমানত নষ্ট করত। এতিমের সম্পদকে নিজের সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করত। এবং এতিমেরা যখন প্রাপ্তবয়স্ক হতো তখন তাদের সম্পদ ফিরিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানাত। এরূপ আচরণকে নিষিদ্ধ ও নিন্দা করার জন্যই মূলত এই আয়াতের অবতরণ।

Photo credit: Philip Brewer, via flickr[dot]com/photos/bradipo/1435739708
Photo credit: Philip Brewer, via flickr[dot]com/photos/bradipo/1435739708
ব্যাপক অর্থে আয়াতটি সেসব পরিস্থিতির জন্যও খাটে যেখানে অন্যের সম্পদকে আমানত হিসেবে দেখভাল করার কাউকে গুরুভার দেওয়া হয়েছে। এধরনের আমানতকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে। যারা এর খেয়ানত করে নাবি (তাঁর উপর বর্ষিত হোক আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ) তাদেরকে ভণ্ডদের খাসলতের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এই আয়াত থেকে আমরা এই শিক্ষাই পাই যে, নিজেদের সম্পদ তো বটেই, অন্যের সম্পদও যদি আমানত হিসেবে রাখা হয়, তাহলে সেগুলো আমরা কীভাবে দেখভাল করছি, সেজন্যও আমাদের জবাবদিহি করতে হবে।

আমরা কীভাবে সম্পদ অর্জন ও ব্যয় করছি সে ব্যাপারে জবাবদিহিতা ইসলামে ন্যায়নিষ্ঠতা ও ধার্মিকতার অন্যতম লক্ষণ। কত সম্পদ অর্জন করছি সে ব্যাপারে আমাদের জবাবদিহি করতে হবে না। কিন্তু কীভাবে সেটা অর্জন ও ব্যয় করছি সে ব্যাপারে আমাদের জবাবদিহি করতে হবে। এজন্য আল্লাহর সাথে আমাদের সম্পর্কের ব্যাপারে জবাবদিহিতার বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যে ব্যক্তি সম্পদের অপব্যবহার করে, সে ক্ষমতা এবং অন্যান্য জিনিসেরও অপব্যবহার করে। অন্যদিকে যে ব্যক্তি জানে সম্পদ আল্লাহর পক্ষ থেকে উপহার ও পরীক্ষা, সে তার উপার্জনকে সৎ রাখবে। এবং নিজের খরচকে রাখবে পরিশুদ্ধ।

এতিমদের অভিভাবকের উদাহরণ থেকে আমরা এই শিক্ষাও পাই যে, আমরা যেন ক্ষমতার অপব্যবহার না-করি। সাধারণত এতিমরা অসহায় থাকে। ফলে যারা তাদের উপর অত্যাচার করে, তাদের সম্পদ কেড়ে নেয়, তাদের সঙ্গে তারা পেরে ওঠে না। এ ধরনের লোকের বিরুদ্ধে এই আয়াত এক কঠোর সতর্কবার্তা। আল্লাহ যদি আপনাকে কারও উপর কর্তৃত্ব দেন, হোক সেটা পরিবারের কোনো সদস্য, কর্মচারী বা এতিম, কীভাবে আপনি তাদের সঙ্গে আচরণ করছেন সে ব্যাপারে আপনি আল্লাহর কাছে দায়বদ্ধ। যদি কখনো ক্ষমতার অপব্যবহারের চিন্তা আপনার মাথায় এসে থাকে, তাহলে এই আয়তটা নিয়ে চিন্তাভাবনা করে দেখুন।

মূল লেখক: Ismail Kamdar, Head Tututorial Assistant, Islamic Online University

ইংরেজিতে মূল লেখাটি পড়ুন এখানে: http://abumuawiyah.com/verse-of-the-day-4-0402-financial-accountability/ 

বাংলা অনুবাদটি প্রথম প্রকাশিত হয় এখানে: https://www.facebook.com/masud.shorif/posts/10152880142441332   

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this:
search previous next tag category expand menu location phone mail time cart zoom edit close