[রামাদান স্পেশাল] আজকের আয়াত #৬: সুবিচার তাকওয়ার অন্যতম উপাদান (অনুবাদ)

“তোমরা যারা বিশ্বাস করো, আল্লাহর জন্য ন্যায়ের সাক্ষীরূপে অবিচল থেকো। কোনো সম্প্রদায়ের শত্রুতা যেন ন্যায়বিচার করতে তোমাদের প্ররোচিত না করে। তোমরা ন্যায়বিচার করবে। এটা তাকওয়ার অধিকতর কাছাকাছি। আর আল্লাহকে ভয় করো। তোমরা যা কিছু করো আল্লাহ নিশ্চয়ই তার খবর রাখেন।” (সূরাহ আল-মা’ইদাহ, ৫:৮)

ন্যায়বিচারের গুরুত্বের ব্যাপারে যেসব আয়াত রয়েছে এটি তার মধ্যে অন্যতম। এই আয়াতে আল্লাহ বলছেন যে, ন্যায়বিচার তাকওয়ার কাছাকাছি। অর্থাৎ ধার্মিকতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে ন্যায়বিচার। একজন মুসলিম অনেক নামাজ ও রোজা পালন করার পরও আল্লাহ কাছে ধার্মিক না-ই হতে পারেন, যদি তিনি ন্যায়পরায়ণ না-হন। যে ব্যক্তি মনে এই বিশ্বাস রাখবে যে তিনি যা করছেন আল্লাহ তার সবই জানেন এবং তাকে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে, তার সব কাজই তখন ন্যায়ানুগ হবে।

প্রাথমিক প্রজন্মের মুসলিমদের তাকওয়ার ধারণা থেকে আমাদের ধারণা যে কত দূরে সরে গেছে এই আয়াতটি আরও একবার সেটাই দেখিয়ে দিচ্ছে। নাফ্‌ল সালাত বা সিয়ামের চেয়ে তাঁরা ন্যায়বিচারকে বেশি গুরুত্ব দিতেন। কারণ ইসলামিক আইনের অন্যতম বুনিয়াদ হচ্ছে ন্যায়বিচার। এবং এটা প্রতিটি বিশ্বাসী ব্যক্তির উপর বাধ্যতামূলক।

প্রাথমিক প্রজন্মের ন্যায়নিষ্ঠ খালিফাহ্‌দের মধ্যে উমার ইব্‌ন আবদুল-‘আযিয অন্যতম। কিন্তু তারপরও তাঁর স্ত্রী তাঁর ব্যাপারে বলেছেন, “আল্লাহর শপথ, তিনি অন্যদের চেয়ে বেশি সালাত বা সিয়াম পালন করতেন না, কিন্তু আল্লাহর শপথ, আল্লাহকে ভয় করার ব্যাপারে আমি উমারের চেয়ে বেশি অন্য কাউকে দেখিনি।” উমার যদি সাধারণ মুসলিমের চেয়ে বেশি নামাজ-রোজা না-করে থাকেন, কিন্তু তারপরও কেন তিনি তাঁর সময়ের সবচেয়ে ধার্মিক ব্যক্তি হিসেবে গণ্য হতেন? এর কারণ হচ্ছে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ন্যায়ানুগ থাকার প্রতি তাঁর আন্তরিক চেষ্টা। এই উদহারণ থেকে সহজেই বোঝা যাচ্ছে, কতটা গুরুতরভাবে প্রাথমিক প্রজন্মের মুসলিমরা তাকওয়ার সঙ্গে ন্যায়বিচারের সংযোগ করতেন।

Photo credit: Jean-Etienne Minh-Duy Poirrier, via flickr[dot]com/photos/jepoirrier/2462476884
Photo credit: Jean-Etienne Minh-Duy Poirrier, via flickr[dot]com/photos/jepoirrier/2462476884
বর্তমানে আমরা যখন অবিচারের কথা শুনি, তখন আমরা সেটা শুধু রাজনৈতিক গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ রাখি। অনেক মুসলিমই মনে করেন এই আয়াতগুলো তাদের জন্য নয়। অথচ ন্যায়বিচার এমন একটি গুণ যা প্রতিটি মানুষের উপর বর্তায়। অবিচার বিভিন্ন ধরনে হতে পারে। অনেক মুসলিম আছেন যারা শাসকদের অত্যাচারের সমালোচনা করেন, অথচ উল্টোদিকে তারা নিজেরাই তাদের অধীনস্থ গুটিকয়েক মানুষের উপর অবিচার করে যাচ্ছেন।

সাধারণ মুসলিমরা যেভাবে অবিচার করেন তার কয়েকটি নমুনা:
১. পরিবারের সদ্যসের উপর অবিচার
২. কর্মচারীর সাথে বাজে আচরণ
৩. পরিবেশ ও পশুপাখির ক্ষতি করা
৪. ভুল করলেও নিজের পরিবারের কোনো সদস্যের পক্ষ নেওয়া
৫. নিজের সন্তান বা স্ত্রীদের মধ্যে একজনের উপর অপরকে প্রাধান্য দেওয়া
৬. অন্যের ব্যাপারে মিথ্যা অপবাদ ও কুৎসা রটানো

কাজেই অন্যের ব্যাপারে সমালোচনা করার আগে আমাদের উচিত নিজের দিকে তাকানো। আমরা যদি রাজনৈতিক ময়দানে সুবিচার দেখতে চাই, তাহলে আমাদের নিজের ঘর থেকে তা শুরু হওয়া উচিত। প্রকৃত ন্যায়নিষ্ঠতা ও আল্লাহর সাহায্য তখনই আমরা দেখব, যখন আমরা নিজেরা আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি সুবিচার করব।

মূল লেখক: Ismail Kamdar, Head Tututorial Assistant, Islamic Online University

ইংরেজিতে মূল লেখাটি পড়ুন এখানে: http://abumuawiyah.com/verse-of-the-day-6-0508-justice-is-essential-for-taqwa/   

বাংলা অনুবাদটি প্রথম প্রকাশিত হয় এখানে: https://www.facebook.com/masud.shorif/posts/10152885746836332   

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this:
search previous next tag category expand menu location phone mail time cart zoom edit close