[রামাদান স্পেশাল] আয়াত #৯: শয়তানের খাসলত (অনুবাদ)

“(আল্লাহ) বললেন, ‘আমি যখন তোমাকে আদেশ দিলাম তখন কে তোমাকে বাধা দিল যে, তুমি সিজদাহ করলে না?’ সে (শয়তান) বলল, ‘আমি তো তার চেয়ে বড়: আপনি আমাকে আগুন দিয়ে সৃষ্টি করেছেন আর ওকে সৃষ্টি করেছেন কাদা দিয়ে।’” (সূরাহ আল-আ’রাফ, ৭:১২)

আদাম ও শয়তানের কাহিনিতে মানবজাতির জন্য অনেক শিক্ষা রয়েছে। তাই এদের কাহিনি কুর’আনে অনেকবারই এসেছে। কাহিনির এই অংশে মানবজাতির সৃষ্টি ও খারাপের সূচনার ব্যাপারে বলা হলেও শেখার জন্য এখানে আরও অনেক বিষয় আছে। কোন চিন্তাধারার অনুসরণ করে শয়তানে পরিণত হয়েছে ইবলীস, সে ব্যাপারে ধারণা দেওয়া হয়েছে এখানে। কেন সিজদাহ করল না, আল্লাহ যখন এই প্রশ্ন শয়তানকে জিজ্ঞেস করেন, তখন তার উত্তর ছিল সৃষ্টিগত কারণে সে আদামের চেয়ে শ্রেয়।

Photo credit: Kashfi Halford, via flickr[dot]com/photos/kashklick/146989949

Photo credit: Kashfi Halford, via flickr[dot]com/photos/kashklick/146989949

শয়তানের এই অবাধ্যতার মূল কারণ হচ্ছে অহংকার। আজকের বিশ্বে বর্ণবাদের যে থাবা আমরা দেখি এটা সেই ধরনের অহংকার। বর্ণবাদ হচ্ছে এমন একটি রোগ, যেখানে মানুষ ধারণা করে, সে অন্যের চেয়ে দেখতে ভিন্ন বলে সে-ই সেরা। শয়তান হলো জিন আর আদাম মানুষ—তার এই চিন্তা থেকে বর্ণবাদের চিন্তা আলাদা কিছু না। এগুলো কোনোভাবেই মানুষের যোগ্যতার মাপকাঠি হতে পারে না। কারণ কে দেখতে কীরকম হবে, কে কোথায় জন্মাবে কিংবা সে কীসের তৈরি—এগুলোর কোনো কিছুর উপর তার কোনো হাত নেই।

শয়তানের চেয়ে আদাম এজন্যই শ্রেয়, কারণ আদাম তার অপরাধের জন্য আল্লাহর কাছে অনুতপ্ত হয়েছিল। অন্যদিকে শেষদিন পর্যন্ত গোঁয়াড়ের মতো শয়তান তার পথে লেগেই থাকবে। আল্লাহর দৃষ্টিতে সৃষ্টির সেরা হওয়ার জন্য মাপকাঠি এটাই: আমরা আমাদের ভুলগুলো বুঝে আল্লাহর কাছে অনুতপ্ত হই, ন্যায়ের দিকে ফিরে যাই।

এই আয়াতের আরেকটি দিক আছে যেটা অনেকেই হয়তো এড়িয়ে যান: শয়তানের কুফরি। শয়তান কীভাবে অবিশ্বাসী হলো? সে আল্লাহকে বিশ্বাস করত, কিন্তু তারপরও তাঁর অবাধ্য হয়েছে। অনুশোচনা করেনি। কিন্তু আমরা জানি এটা কুফ্‌র নয়। এটা একটা অপরাধ। আসল কুফ্‌র হচ্ছে তার নিজের কথাতেই: “আমি তার চেয়ে বড়”। শয়তানের এই কথা বলার মানে হচ্ছে, “আমি আদামের সামনে মাথানত করিনি, কারণ আমি তার চেয়ে সেরা। কাজেই তার সামনে আমাকে মাথানত করতে বলে এবং তাকে সেরা বলে আপনি (আল্লাহ) ভুল করেছেন।” অর্থাৎ শয়তানের কুফরিটা হচ্ছে সে ভুল করাকে আরোপ করেছে আল্লাহর দিকে এবং মনে করেছে সে আল্লাহর চেয়ে বেশি জানে।

আজকের দিনে অনেক মুসলিমরা কি তা-ই করছে না? আল-কুর’আন ও সুন্নাহ্‌য় এমন অনেক বিধি পাই যেগুলোর ব্যাপারে ঐকমত্য আছে। অথচ এগুলো আমাদের প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে যায় বলে, কিংবা আধুনিক কালচারের সঙ্গে যায় না বলে আমরা এগুলোকে ভুল দাবি করি, যেমন: সমকামিতা নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারটি। এর মাধ্যমে আমরা কিন্তু আসলে শয়তানের পদাঙ্কই অনুসরণ করছি। ইসলাম মানে সমর্পণ। মানুষ কোনোকিছু পছন্দ করুক আর না-ই করুক, কোনো বিষয়ে আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন, এবং আল্লাহর বিধিই সেরা।

মূল লেখক: Ismail Kamdar, Head Tututorial Assistant, Islamic Online University

ইংরেজিতে মূল লেখাটি পড়ুন এখানে: http://abumuawiyah.com/verse-of-the-day-9-0712-satans-attributes/  

বাংলা অনুবাদটি প্রথম প্রকাশিত হয় এখানে: https://www.facebook.com/masud.shorif/posts/10152894940336332

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s