[রামাদান স্পেশাল] আজকের আয়াত #১০: সত্যিকার বিশ্বাসীদের গুণাবলি (অনুবাদ)

“বিশ্বাসী তো তারাই, আল্লাহর স্মরণে যাদের হৃদয় কাঁপে। তাঁর আয়াতগুলো যখন তাদের সামনে তিলাওয়াত করা হয়ে তখন তাদের বিশ্বাস আরও বাড়ে। আর তাদের প্রভুর উপরই তারা আস্থা রাখে।” (সূরাহ আল-আনফাল, ৮:২)

আল-কুর’আনে বিশ্বাসীদের যেসব গুণাবলি উল্লেখ করা হয়েছে, তার মধ্যে এই অংশটা আমার সবচেয়ে পছন্দের। সত্যিকার ধার্মিকতা কীসে তার সঙ্গে জিহাদের কথা উল্লেখ করে এই সূরাহ শুরু। আয়াতটি আমাদের সময়ের সঙ্গে খুবই প্রাসঙ্গিক। কেননা সহিংসতা ও যুদ্ধাবস্থাকে মহিমান্বিত করার এক অপচেষ্টা ইদানিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অথচ ইসলামের সাধারণ আহ্বান শান্তির দিকে। ইসলামে অত্যাচারের সময় যুদ্ধকে অনিবার্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে যুদ্ধের সময়টাতেও নৈতিক মূল্যবোধ ধরে রাখার ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে এখানে।

ইসলামে যেখানে সাধারণ নাগরিক, নারী, শিশু, বৃদ্ধ, যাজক শ্রেণির লোক এমনকি অর্থহীনভাবে সম্পদ-পশু-পরিবেশের ক্ষতি করতে নিষেধ করা হয়েছে সেখানে ইসলামের নামে হত্যা কীভাবে ন্যায্য হতে পারে? জিহাদের আইন খুব স্পষ্ট। এখানে ক্ষয়ক্ষতিকে ন্যূনতম পর্যায়ে রাখার কথা বলা হয়েছে এবং যত শিগগিরই সম্ভব শান্তি স্থাপন করতে বলা হয়েছে। সব মানুষের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠা ইসলামের মূল আহ্বান। ইসলামি আইনের পাঁচটি বুনিয়াদি উদ্দেশ্যের অন্যতম হচ্ছে মানবজীবনের সুরক্ষা।

সূরাহটি অবতীর্ণ হয়েছে যুদ্ধকালীন সময়ে আচরণবিধির প্রসঙ্গে। তারপরও এর শুরু হয়েছে বিশ্বাসীদের গুণাবলি বর্ণনা করে। আল্লাহ বলছেন যে সত্যিকার বিশ্বাসী তারাই, যাদের অন্তর কাঁপে আল্লাহর কথা স্মরণ করা হলে। কারণ তাদের অপরাধের কথা তখন মনে পড়ে যায় এবং একদিন যে এর হিসেব দিতে হবে সেজন্য তাদের হৃদয় নড়ে ওঠে। তাযকিয়া বা আত্মশুদ্ধির জন্য অন্তর নরম হওয়া প্রাথমিক লক্ষণ। এর বিপরীত হচ্ছে অন্তর শক্ত হয়ে যাওয়া যেটা অধুনা বিভিন্ন চরমপন্থী দলগুলোর মধ্যে দেখা যায়।

Photo credit: Ibrahim, via en[dot]wikipedia[dot]org/wiki/Fanous#/media/File:Fanous_Ramadan.jpg

Photo credit: Ibrahim, via en[dot]wikipedia[dot]org/wiki/Fanous#/media/File:Fanous_Ramadan.jpg

সত্যিকার বিশ্বাসীদের গুণাবলি বর্ণনা করতে যেয়ে আল্লাহ আরও বলেছেন যে, যখন কুর’আন আবৃত্তি করা হয় তখন তাদের বিশ্বাস আরও বেড়ে যায়। মানুষের মধ্যে কতটা ঈমান আছে তার এক নিদর্শন এটা: কুর’আনের তিলাওয়াত, মর্মবাণী তাদের হৃদয়কে নাড়া দেবে, আত্মাকে উজ্জীবিত করবে। কোনো মৃত হৃদয়ের ক্ষেত্রে এটা সম্ভব না। আমরা যদি চাই কুর’আন আমাদের জীবনে প্রভাব ফেলুক, তাহলে ধার্মিকতা অর্জনের জন্য আমাদের সংগ্রাম করতে হবে। কুর’আনের বাণী বোঝার চেষ্টা করতে হবে।

তৃতীয় যে গুণটির কথা বলা হয়েছে তা হচ্ছে তাওয়াক্কুল। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করে আল্লাহর পরিকল্পনার উপর আস্থা রাখার নামই তাওয়াক্কুল। প্রকৃত ঈমানের অন্যতম লক্ষণ এটা। কারণ যারা সত্যিকার অর্থে বিশ্বাসী কেবল তারাই যেকোনো পরিস্থিতিতে আল্লাহর দিকে ফিরবে এবং তাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর পরিকল্পনার উপর আস্থা রাখবে। আমরা যদি আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে চাই এবং উভয় দুনিয়ায় সাফল্য অর্জন করতে চাই তাহলে উপরোক্ত তিনটি গুণাবলি অর্জন করা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর সেজন্য চাই নিরলস সংগ্রাম ও চেষ্টা।

মূল লেখক: Ismail Kamdar, Head Tututorial Assistant, Islamic Online University

ইংরেজিতে মূল লেখাটি পড়ুন এখানে: http://abumuawiyah.com/verse-of-the-day-10-0802-true-believers/   

বাংলা অনুবাদটি প্রথম প্রকাশিত হয় এখানে: https://www.facebook.com/masud.shorif/posts/10152897057171332 

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s