[রামাদান স্পেশাল] আজকের আয়াত #১১: ভণ্ডদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য (অনুবাদ)

“ভণ্ড পুরুষ ও নারীরা একে অপরের সহযোগী। যা কিছু খারাপ তারা সেগুলোর আদেশ দেয়। আর যা ভালো তারা সেগুলো নিষিদ্ধ করে। আর দূরে থাকে (ধার্মিকতা থেকে)। তারা আল্লাহকে ভুলে গিয়েছে, কাজেই তিনিও তাদের ভুলে গেছেন। ভণ্ডরা অবশ্যই আল্লাহর অবাধ্যতাকারী।” (সূরাহ আত-তাওবাহ, ৯:৬৭)

প্রায় সপ্তাহ খানেক আগে এই আয়াতটিকে ব্যাখ্যা করার জন্য আলাদা করেছিলাম। তখন কোনোভাবেই বুঝিনি যে এমন একদিন এটা প্রকাশ করব যেদিন অসংখ্য মুসলিমরা খারাপের দিকে মানুষকে আহ্বান করবেন আর ধার্মিকতা বা ন্যায়নিষ্ঠতাকে বারণ করবেন। একটা সেক্যুলার বা বস্তুবাদী পশ্চিমা রাষ্ট্র সমকামীদের বিয়েকে বৈধতা দিয়েছে—এর কারণটা বোঝাই যায়: তারা মুসলিম নন, তারা কুর’আনের পথনির্দেশ পাননি এবং তাদের কোনো সুনির্দিষ্ট নৈতিক ভিত্তি নেই। কিন্তু যেটা দেখে ধাক্কা লেগেছে সেটা হচ্ছে বিপুল পরিমাণ মুসলিম এই আইনের বৈধতার পর তাদের আনন্দ প্রকাশ করেছে। একে সমর্থন করেছে। এ ধরনের মুসলিমদের উচিত উপরোক্ত আয়াতের ব্যাপারে ভাবনাচিন্তা করা।

Photo credit: lburgan, via pixabay[dot]com/en/metal-bars-rusted-iron-old-steel-709925/
Photo credit: lburgan, via pixabay[dot]com/en/metal-bars-rusted-iron-old-steel-709925/
ভণ্ডদের বর্ণনা সংবলিত কোনো আয়াত যখন আমাদের সামনে আসে, তখন প্রাথমিকভাবে আমাদের ভেবে দেখা উচিত সেগুলোর কোনো কিছু আমাদের উপর বর্তায় কি না। আমাদের মধ্যে ভণ্ডদের কোনো গুণাবলি আছে কি না। এই প্রশ্নের উপর ভাবনা-চিন্তা সহজ না, কিন্তু আধ্যাত্মিকভাবে আমাদের বেড়ে ওঠার জন্য এবং আত্ম-সংস্কারের জন্য এমনটা না-ভেবে উপায় নেই। এখানে ভণ্ডদের তিনটি গুণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে: অপরাধকে উৎসাহিত করা, ন্যায়নিষ্ঠ ও ধার্মিকতার কাজে বাধা দেওয়া এবং নিজেরাও তা থেকে দূরে থাকা।

যে মুসলিম ব্যাভিচার, স্বামী বা স্ত্রী ছাড়া পরনারী বা পরপুরুষের সঙ্গে দৈহিক মিলন, সমকামিতা, সন্ত্রাস, মাদক বা মদ পান করা—এসব ব্যাপারকে উৎসাহিত করে তারা আসলে অপরাধ আর পাপকাজকেই উৎসাহিত করছেন। যারা আল্লাহ ও শেষ দিনে বিশ্বাস করে তারা এমন কাজে কীভাবে উৎসাহ দিতে পারেন? এ ধরনের কাজে সমর্থন দেওয়া নিঃসন্দেহে ভণ্ডামির লক্ষণ।

অন্যদিকে যেসব মুসলিম অন্য মুসলিমকে পরিপূর্ণ পর্দা পালন করতে, সালাত আদায় করতে কিংবা শ্রেয় মুসলিম হতে কোনোভাবে বাধা দেয় বা অনুৎসাহিত করেন তারা আসলে ভালোকেই নিষিদ্ধ করছেন। আল্লাহ ও শেষদিনে যিনি সত্যিকার অর্থেই বিশ্বাস করেন তারা কোনোভাবেই এমনটা করতে পারেন না। করলে সেটা হবে ঈমানে ঘাটতির লক্ষণ।

ভণ্ডদের যে-তিনটি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে, কারও মধ্যে যদি তা থাকে তাহলে বুঝতে হবে তার অন্তরে রোগ আছে। এবং আল্লাহ থেকে সেটা অনেক দূরে। কথাটা কঠিন শোনাতে পারে। কিন্তু এটা এমন এক বাস্তবতা যা আমাদের উপলব্ধি করা প্রয়োজন। ইসলাম মানে সমর্পণ, আল্লাহর বিধির প্রতি সমর্পণ। এজন্য সবাইকে ধার্মিকতার দিকে ডাকতে হবে; তা দুনিয়া যতই নীতিগর্হিত হোক না কেন কিংবা ধার্মিকতার দিকে ডাকা রাজনৈতিকভাবে যত ভুলই হোক না কেন। ইসলামের নৈতিক ভিত্তিগুলো সুনির্দিষ্ট। কারও কামনা-বাসনার তাড়নায় এটা বদলানো যাবে না।

হ্যাঁ, কেউ যদি অপরাধ করে বসেন সে জন্য তার সাথে বাজে আচরণ করা যাবে না। কিন্তু তার মানে এই না যে আমরা অপরাধটাকে অপরাধ হিসেবেই গণ্য করব না, তাকে সে ব্যাপারে সতর্ক করব না। এই একই সূরাহতে ধার্মিকতার দিকে ডাকা এবং অপরাধ ও অশ্লীলতার বিরুদ্ধে কথা বলাকে আল্লাহ বিশ্বাসীদের গুণাবলি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। লোকে যতই অপছন্দ করুক না-কেন এ কাজই আমাদের করে যেতে হবে সবসময়।

মূল লেখক: Ismail Kamdar, Head Tututorial Assistant, Islamic Online University

ইংরেজিতে মূল লেখাটি পড়ুন এখানে: http://abumuawiyah.com/verse-of-the-day-11-qualities-of-the-hypocrites/    

বাংলা অনুবাদটি প্রথম প্রকাশিত হয় এখানে: https://www.facebook.com/masud.shorif/posts/10152898926956332 

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this:
search previous next tag category expand menu location phone mail time cart zoom edit close