[রামাদান স্পেশাল] আজকের আয়াত #১২: ইবাদাতই কৃতজ্ঞতা (অনুবাদ)

“আমি আমার পূর্বপুরুষ ইবরাহীম, ইসহাক ও ইয়াকূবের ধর্ম অনুসরণ করেছি। আমরা আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করি না। এটা আমাদের প্রতি ও মানুষের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।” (সূরাহ ইউসুফ, ১২:৩৮)

নাবি ইউসুফ (আ)-এর কাহিনিতে সাধারণত আমরা যে বিষয়গুলো দেখে থাকি তা হচ্ছে: তাঁর ভাইদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, প্রলোভন থেকে নিজেকে বাঁচানো, এক পর্যায়ে তাঁর বিজয় এবং ক্ষমতায় আরোহণ। তবে অধিকাংশ সময়েই কাহিনির মধ্যকার বিভিন্ন আয়াতের দিকে আমরা লক্ষ্য করি না। অথচ এ আয়াতগুলোতেও আছে অনেক শিক্ষা। প্রজ্ঞা। আজকে আমরা যে আয়াতটা নিয়ে আলোচনা করব সেটা হচ্ছে কারাগারে থাকাকালীন সেখানকার অন্যান্যদের সঙ্গে তার কথপোকথনের একটা অংশ।

ইউসুফ (আ) যখন তাঁর মনিবের স্ত্রীর প্রলোভনকে উপেক্ষা করেছিলেন তখন অন্যায়ভাবে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারে আরও দুজন ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে ছিলেন। তারা দুজন আজব দুটো স্বপ্ন দেখেন। ইউসুফকে তাদের চেয়ে বেশি ন্যায়নিষ্ঠ ভেবে তারা তাঁর কাছে এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে চায়। ইউসুফ (আ) তাদেরকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানাতে রাজি হলেও, প্রথমেই তাদেরকে তাওহীদ তথা আল্লাহর একত্বের কথা এবং শির্কের ভয়াবহতার কথা জানিয়ে দেন। এই আয়াতটি সেই দাওয়াহ্‌রই অংশবিশেষ।

কারাগারের জীবনের কথা ভাবলেই আমাদের সামনে ভেসে ওঠে অসহায়ত্ব আর হতাশার চিত্র। কিন্তু তারপরও নাবি ইউসুফ (আ) বলেছিলেন যে, বড় বড় অপরাধের প্রলোভনের সামনে নতি স্বীকার করার চেয়ে কারাগার বাস অনেক ভালো। তিনি তাঁর কারাগার জীবনকে প্রজ্ঞার সঙ্গে ব্যবহার করেছিলেন। সেখানে তিনি ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে সুনাম অর্জন করেছিলেন। এবং দাওয়াহ দেওয়ার কোনো সুযোগ হাতছাড়া করেননি। আমাদের কথা একটু ভেবে দেখুন তো। কত সময় আমাদের সামনে আসে দাওয়াহ দেওয়ার জন্য, আল্লাহর একত্বের কথা মানুষকে বলার জন্য, কিন্তু আমরা সেই সুযোগের কতটুকু সদ্ব্যবহার করি?

Photo credit: Shaeekh Shuvro, via commons[dot]wikimedia[dot]org/wiki/File:Muslims_praying_in_a_Masque_in_Bangladesh.jpg
Photo credit: Shaeekh Shuvro, via commons[dot]wikimedia[dot]org/wiki/File:Muslims_praying_in_a_Masque_in_Bangladesh.jpg
এই আয়াতের একটা মজার দিক হচ্ছে এখানে তাঁর পূর্বপুরুষের ধর্মকে আল্লাহর তরফ থেকে তাদের উপর এবং গোটা মানবজাতির উপর এক অনুগ্রহ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন। নবিত্বকে ইসলামে এভাবেই দেখা হয়। মানবজাতির প্রতি উপহারস্বরূপ আল্লাহ নবিদেরকে পাঠিয়েছেন। তাঁরা আমাদেরকে আমাদের প্রবৃত্তি ও সংস্কৃতির অন্ধ-দাসত্ব থেকে মুক্ত করে প্রত্যাদেশকৃত জীবনব্যবস্থা ও প্রজ্ঞাপূর্ণ বিধানের দিকে ডাকেন। এই উপহারের জন্যই আল্লাহর কাছে আমাদের চিরকৃতজ্ঞ থাকা উচিত।

নাবি এবং তাদের প্রদানকৃত বার্তার কথা বলার পর নাবি ইউসুফ (আ) এটাও জানিয়ে দিয়েছেন যে, অধিকাংশ মানুষই কৃতজ্ঞ নয়। কখনো ভেবে দেখেছেন কি আমরা কীভাবে আল্লাহর প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি? আমাদের জীবনে যা কিছু আছে সবই তো আল্লাহ দিয়েছেন। বাড়তি হিসেবে দিয়েছেন তাওহীদের দিশা। পাঠিয়েছেন নাবিদেরকে যাতে আমরা তাদের অনুসরণ করে জান্নাত লাভ করতে পারি। এজন্য কি আমাদের কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত না?

আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সবচেয়ে উত্তম উপায় হচ্ছে সঠিকভাবে তাঁর ইবাদাত করা। নাবি মুহাম্মাদ (সা)-কে ‘আ’ইশাহ (রা) একবার জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, আপনি এত নাফ্‌ল সালাত কেন পড়েন? উত্তরে তিনি বলেছিলেন, “আমি কি তাঁর কৃতজ্ঞ দাস হবো না?” কেউ আছেন আল্লাহর ভয়ে তাঁর ইবাদাত করেন, কেউ আছেন আশা রেখে আল্লাহর ইবাদাত করেন। কিন্তু এদুয়ের চেয়ে বড় হচ্ছে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য তাঁর ইবাদাত করা। এটাই ছিল নাবিদের ইবাদাত।

মূল লেখক: Ismail Kamdar, Head Tututorial Assistant, Islamic Online University

ইংরেজিতে মূল লেখাটি পড়ুন এখানে: http://abumuawiyah.com/verse-of-the-day-12/     

বাংলা অনুবাদটি প্রথম প্রকাশিত হয় এখানে: https://www.facebook.com/masud.shorif/posts/10152901247041332

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this:
search previous next tag category expand menu location phone mail time cart zoom edit close