[রামাদান স্পেশাল] আজকের আয়াত #১৪: আল্লাহর উপর ভরসা করার উপকারিতা (অনুবাদ)

“যারা তাদের প্রভুকে বিশ্বাস করে এবং তাঁর উপর আস্থা রাখে তাদের উপর শয়তানের কোনো কর্তৃত্ব নেই।” (সূরাহ আন-নাহ্‌ল, ১৬:৯৯)

সূরাহটির আগের আয়াতে বলা হয়েছে, আমরা যখন কুর’আন পড়ব তখন আমরা যেন শয়তান থেকে সুরক্ষিত থাকার জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আমার মনে হয় বিষয়টি সবাই জানেন। আল্লাহর কথা থেকে আমরা যেন উপকৃত হতে না পারি সে জন্য শয়তান তার সব চালই চালবে। কাজেই শয়তানের কুমন্ত্রণা ও মনোযোগ ব্যাঘাতকারী জিনিস থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া হয়।

এটা বলার পর আল্লাহ আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, যারা সত্যিকার অর্থেই আল্লাহকে বিশ্বাস করে এবং তাঁর উপরই ভরসা (তাওয়াক্কুল) করে, তাদের উপর শয়তানের কোনো ক্ষমতা নেই। প্রশ্ন হতে পারে, সত্যিকার অর্থে বিশ্বাস করার মানে কী? এর মানে এটাই যে, আপনি স্রেফ নামকাওয়াস্তে মুসলিম নন। কিংবা সাংস্কৃতিকভাবে মুসলিম নন। ইসলাম যে স্রষ্টার সত্য ধর্ম এ ব্যাপারে আপনি নিশ্চিত। আপনি এটা নিশ্চিতভাবেই বিশ্বাস করেন যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বার্তাবাহক। আপনি যে উপরোক্ত দুটি বিষয়ে সত্যিকার অর্থেই বিশ্বাস করেন, তার প্রকাশ পায় আপনার কাজে। যেমন, আপনি হয়তো আল-কুর’আন ও সুন্নাহ অধ্যয়ন করছেন এবং সেগুলো নিজের জীবনে প্রয়োগের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন; তা আপনার স্থানীয় সংস্কৃতি এর যতই বিরোধিতা করুক না কেন। এটাই প্রকৃত বিশ্বাস। জ্ঞান ও তা নিয়ে চিন্তাভাবনা থেকেই এই বিশ্বাসের উৎপত্তি; অন্ধঅনুসরণ থেকে না।

Photo credit: Alastair Rae, via en[dot]wikipedia[dot]org/wiki/Woodpecker#/media/File:BlackWoods.jpg
Photo credit: Alastair Rae, via en[dot]wikipedia[dot]org/wiki/Woodpecker#/media/File:BlackWoods.jpg
তাওয়াক্কুল নিয়ে আমাদের মাঝে একটা ভুল ধারণা আছে। আমরা মনে করি তাওয়াক্কুল মানে যেহেতু আল্লাহর উপর ভরসা, সেহেতু তাঁর উপর ভরসা করে বসে থাকলেই তিনি আমাদের সব প্রয়োজন মিটিয়ে দেবেন। আমাদের কিছু করতে হবে না। কিন্তু প্রকৃত তাওয়াক্কুল অর্থ এটা নয়। এর মানে হচ্ছে মানুষ তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে, এরপর যা কিছু তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে সেজন্য আল্লাহর উপর ভরসা করবে। মনে এই বিশ্বাস রাখবে যে, যে-ফলাফলই আসুক না কেন, সেটাই তার জন্য সেরা। কিন্তু এ জায়গাটিতে এসেই অনেকে ব্যর্থ হন। ভুল বোঝেন। তারা মনে করেন, যেহেতু কোনো কিছুর জন্য তারা অনেক চেষ্টা করেছেন, কাজেই তারা যা চান সেটা পূরণ হবেই। আল্লাহ তা পূরণ করবেনই। কিন্তু হয় না। আমরা তখন মন-মরা হয়ে যাই। এটা সত্যিকার তাওয়াক্কুলের লক্ষণ না। বরং আমি যা চেয়েছি, তা যে পাইনি এটার মধ্যে অবশ্যই লুকোনো কোনো কল্যাণ আছে। সেটা আল্লাহ জানেন, আমি জানিনা। এটা বিশ্বাস করাই তাওয়াক্কুল।

সত্যিকার বিশ্বাস ও সত্যিকার তাওয়াক্কুলই পারে একজন মানুষকে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচাতে। যে ব্যক্তি বোঝেন ইসলামই সত্য ধর্ম, আল্লাহ যে-নিয়তি নির্ধারণ করে রেখেছেন, তাতেই কল্যাণ আছে, তাহলে সেই ব্যক্তির মনে শয়তান সহজে সন্দেহ সৃষ্টি করতে পারবে না। এ দুটি জিনিস শয়তানের চালকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়, হৃদয়কে ভুল দিকে যাওয়া থেকে সুরক্ষিত করে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষা করুন। আমীন।

মূল লেখক: Ismail Kamdar, Head Tututorial Assistant, Islamic Online University

ইংরেজিতে মূল লেখাটি পড়ুন এখানে: http://abumuawiyah.com/verse-of-the-day-14-1699-benefit-of-tawakul/      

বাংলা অনুবাদটি প্রথম প্রকাশিত হয় এখানে: https://www.facebook.com/masud.shorif/posts/10152907112271332 

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this:
search previous next tag category expand menu location phone mail time cart zoom edit close