[রামাদান স্পেশাল] আজকের আয়াত #১৬: দিকনির্দেশপ্রাপ্ত তরুণ (অনুবাদ)

“প্রিয় বাবা, আমার কাছে সেই জ্ঞান এসেছে যা তোমার কাছে আসেনি। তাই তুমি আমার কথা মেনে নাও, আমি তোমাকে সঠিক পথ দেখাব।” (সূরাহ মারইয়াম, ১৯:৪৩)

তরুণ ইবরাহিম (আ) তাঁর বাবা আযারকে কীভাবে দাওয়াহ দিয়েছিলেন সে ব্যাপারে মর্মস্পর্শী এক কাহিনি বর্ণিত হয়েছে সূরাহ মারইয়ামে। এই আয়াতটি সেই দাওয়াহর অংশবিশেষ। বৃদ্ধ ও যুবক নির্বিশেষে সবার জন্যই এতে আছে শিক্ষা। বয়স্কদের জন্য এই আয়াতের শিক্ষা হচ্ছে, হয়তো কোনো বিষয়ে তারা ভুল বিশ্বাস ধারণ করছেন। তবে কখনো কখনো তরুণ-যুবকেরা, এমনকি নিজের সন্তানও, কোনো ব্যাপারে তাদের চেয়ে সেই বিষয়ে ভালো বা সঠিকটা জানতে পারে। কম বয়স্ক কেউ তার চেয়ে সঠিকটা জানে এটা মানা অনেকের জন্যই কঠিন। কারণ এটা মানতে গেলে নিজের অজ্ঞতাকে স্বীকার করতে হয়। স্বীকার করতে হয় যে বছরের পর বছর ধরে আমি ভুল চর্চা করে আসছি। বিনম্র হতে হয় নিজের চেয়ে ছোট কারও সামনে। এজন্য অনেকে উচ্চ পর্যায়ের আন্তরিকতা ও সত্য অন্বেষণের ইচ্ছা থাকতে হয়।

এখানে মূল বিষয়টা হচ্ছে জ্ঞান। নাবি ইবরাহিম (আ) বলছেন যে, তাঁর কাছে এমন জ্ঞান পৌঁছেছে যেটা তাঁর বাবার কাছে পৌঁছেনি। এই জ্ঞানের কারণেই সে যা বলছে তা সঠিক। এটা সময়ের সঙ্গে কোনো পরিবর্তন নয়। নয় কোনো তারুণ্যের বিদ্রোহ। নিশ্চিত জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে এ এক আন্তরিক সদুপদেশ। আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার ব্যাপারে যারা আন্তরিক, তাদেরকে সবসময়ই নিজেকে শোধরানোর ব্যাপারে খোলা মনের অধিকারী হতে হবে। বয়সে তার চেয়ে ছোটো কেউও যদি তাকে শোধরানোর জন্য আসে তাহলে সেটা মেনে নিতে হবে; শর্ত হচ্ছে সেটা হতে হবে জ্ঞানের ভিত্তিতে।

Photo credit: SuperJew, via en[dot]wikipedia[dot]org/wiki/Gabi_(elephant)#/media/File:Asian_Elephant_and_Baby.JPG

Photo credit: SuperJew, via en[dot]wikipedia[dot]org/wiki/Gabi_(elephant)#/media/File:Asian_Elephant_and_Baby.JPG

নাবি ইবরাহিম (আ) কীভাবে দাওয়াহ দিয়েছেন এর মধ্যে তরুণদের জন্য শিক্ষা রয়েছে। অধিকাংশ সময়েই তরুণরা যখন দেখে যে তাদের বাবা-মা যে বিশ্বাস ধারণ করে আছে বা যে কাজ করছে সেটা ভুল, তাদেরকে শোধরানোর বেলায় তারা রূঢ় আচরণ করে। কথা বলে অশ্রদ্ধাপূর্ণ স্বরে। এর মাধ্যমে উল্টো তারা মা-বাবার সাথেই বাজে আচরণে লিপ্ত হচ্ছে। এবং ভালোর চেয়ে খারাপ পরিণামই ডেকে আনছে বেশি।

নাবি ইবরাহিম (আ) তাঁর বাবাকে দাওয়াহ দেওয়ার সময় শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। তিনি ভুলে যাননি যে, এই বাবাই তাকে বড় করছেন, তাকে ভালোবাসেন। তিনি তাকে আদরের সুরে ‘আবাতি’ বলে সম্বোধন করেছেন। সাধারণত ‘আবি’ বলে যে সম্বোধন করা হয় এটা তার চেয়ে অনেক বেশি আদরের। তিনি তাকে সালাম দিয়েছেন। দাওয়াহ দেওয়ার সময় শান্ত এবং যুক্তিপূর্ণভাবে কথা বলেছেন। এর মধ্যে তরুণ শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক কিছু শেখার আছে। আপনার বাবা-মা যত ভুলের মধ্যেই থাকুক না কেন সত্য উপস্থাপনের বেলায় আপনাকে অবশ্যই ভালো আচরণ করতে হবে। এটাই ইসলামি পন্থা। এবং আপনার উপর তাদের অধিকার।

মূল লেখক: Ismail Kamdar, Head Tututorial Assistant, Islamic Online University

ইংরেজিতে মূল লেখাটি পড়ুন এখানে: http://abumuawiyah.com/verse-of-the-day-16-1943-guided-youth/ 

বাংলা অনুবাদটি প্রথম প্রকাশিত হয় এখানে: https://www.facebook.com/masud.shorif/posts/10152914424936332  

Advertisements

One thought on “[রামাদান স্পেশাল] আজকের আয়াত #১৬: দিকনির্দেশপ্রাপ্ত তরুণ (অনুবাদ)

  1. পিংব্যাকঃ ইসলামের দিকে মানুষকে ডাকার ক্ষেত্রে আমাদের কর্মপন্থা যেমনটি হওয়া উচিত | আমার স্পন্দন

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s