[রামাদান স্পেশাল] আজকের আয়াত #১৭: মন্দের পথ (অনুবাদ)

“মানুষের মধ্যে এমন মানুষও আছে যে আল্লাহ সম্পর্কে কোনো কিছু না জেনে তর্ক করে। এবং প্রত্যেক অবাধ্য শয়তানের অনুসরণ করে।” (সূরাহ আল-হাজ্জ, ২২:০৩)

এর আগের আয়াতগুলোতে আল্লাহ কিয়ামাতের দিন সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছেন। কিন্তু এই আয়াতটিতে আল্লাহ বলছেন যে, কিছু লোক আছে যারা এই সতর্কবাণী উপেক্ষা করে। আল্লাহ এ ধরনের লোকদের দুটো বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন:

১. আল্লাহর ব্যাপারে না-জেনে তর্ক করে
২. প্রত্যেক অবাধ্য শয়তানের অনুসরণ করে

এ দুটো বৈশিষ্ট্য আজকে সচরাচর দেখা যায়। আল্লাহর প্রকৃতি ও অস্তিত্বের ব্যাপারে না-জেনে, ওয়াহয়ি বা প্রত্যাদেশ সম্পর্কে কোনো জ্ঞান না-রেখে কত মানুষ আজকে স্রষ্টার ব্যাপারে তর্ক করে বেড়ায়। এ ধরনের লোকেরা নিজেদের চিন্তা ও ধারণার উপর ভিত্তি করে তাদের মত বা বিশ্বাস লালন করে। আর এর পরিণাম হচ্ছে সবধরনের বিভ্রান্তি। স্রষ্টার সম্পর্কে জ্ঞান কেবল ওয়াহয়ি বা প্রত্যাদেশের মাধ্যমেই আসা সম্ভব। কেননা আমাদের স্রষ্টা কে, তিনি আমাদের থেকে কী চান কিংবা তাঁর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত—এই ব্যাপারগুলো জানার জন্য পার্থিব কোনো উপায় নেই।

প্রত্যাদেশ ও বার্তাবাহকদের আসার পেছনে এটা অন্যতম কারণ। আল-কুর’আন ও সুন্নাহ ছাড়া আমাদের পক্ষে অদৃশ্য দুনিয়ার কিছু জানা একেবারেই অসম্ভব। আর তাই কোনো বিশ্বাসীর জন্য এটা মানানসই নয় যে, সে অদৃশ্যের ব্যাপার নিয়ে অযথা তর্ক করবে। সঠিক পন্থা হচ্ছে প্রত্যাদেশ নিয়ে পড়াশোনা করা এবং মানবীয় ব্যাখ্যাকে উপেক্ষা করে সেখানে যা আছে তার অনুসরণ করা।

Photo credit: Rosendahl, via public-domain-image[dot]com/nature-landscape/dew-water-drops/slides/dew-covered-spider-web-on-grass.html

Photo credit: Rosendahl, via public-domain-image[dot]com/nature-landscape/dew-water-drops/slides/dew-covered-spider-web-on-grass.html

দীনের ব্যাপারে যারা অমনোযোগী তাদের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা প্রত্যেক অবাধ্য শয়তানের অনুসরণ করে। আধুনিক কালে একে এভাবে বলা যায় যে, প্রত্যেক অপরাধী নেতারা যে চল শুরু করে, তারাও সেটা অনুসরণ করে। আজকে আমরা এমন একটা সময়ে বাস করছি, যখন অনেক মুসলিমরাই তাদের জীবনের ভালো ও মন্দকে ঠিক করেন সেক্যুলার বা বস্তুবাদী বিশ্বে কীসের চল আছে সেটার উপর ভিত্তি করে। সে জন্য প্রত্যাদেশকে বিকৃত বা উপেক্ষা করতে হলে তাই করে। ঐসব নেতারা যদি কোনো অপরাধকে ভালো বলে, তাহলে তারাও সেটাকে ভালো বলে। আর তারা যদি কোনো হালালকে খারাপ বলে তাহলে তারাও সেটাকে খারাপ বলে। এর মাধ্যমে আসলে তারা সেসব নেতাদেরকেই আল্লাহর উপর স্থান দিচ্ছে।

প্রত্যাদেশ ও বার্তাবাহক কেন প্রয়োজন সেজন্য এটাও আরেকটা কারণ। প্রত্যাদেশ মানুষকে একটা নির্দিষ্ট নৈতিক ভিত্তি দেয়, যাকে বিশ্বাসীরা আঁকড়ে ধরে থাকতে পারে এবং সে অনুযায়ী জীবনযাপন করতে পারে। সেক্যুলার সমাজের মতো এই ভিত্তি সময়ের সঙ্গে বদলে যায় না। রাসূলেরা এক্ষেত্রে আলোকিত দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করেন। তাঁরা হয়ে ওঠেন আমাদের অনুকরণীয় আদর্শ। যারা রাসূলদের অনুসরণ করার জন্য সংগ্রাম করেন তারা কোনোভাবেই মনুষ্য শয়তান বা তাদের পথ অনুসরণ করার কথা চিন্তাও করবে না।

উপরের উভয় সমস্যার সমাধান একই। আল্লাহর কথা তথা কুর’আনের দিকে ফিরে যাওয়া। এবং তাঁর বার্তাবাহকের (তাঁর উপর বর্ষিত হোক আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ) জীবন অনুসরণ করা। শুধু এইভাবে জীবন অতিবাহিত করার মাধ্যমে আমরা সব ধরনের খারাপ থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে পারব। যথাযথভাবে প্রস্তুত হতে পারব শেষ দিনের জন্য।

মূল লেখক: Ismail Kamdar, Head Tututorial Assistant, Islamic Online University

ইংরেজিতে মূল লেখাটি পড়ুন এখানে: http://abumuawiyah.com/verse-of-the-day-17-2203-paths-of-evil/ 

বাংলা অনুবাদটি প্রথম প্রকাশিত হয় এখানে: https://www.facebook.com/masud.shorif/posts/10152918503751332

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s