[রামাদান স্পেশাল] আজকের আয়াত #১৯: ন্যায়নিষ্ঠ পরিবার (অনুবাদ)

“যারা বলে, ‘হে আমাদের প্রভু, আমাদেরকে এমন জীবনসঙ্গী ও সন্তান দান করুন, যারা আমাদের চোখকে শীতল করবে। আর আমাদেরকে ন্যায়নিষ্ঠ লোকদের নেতা বানিয়ে দিন।” (সূরাহ আল-ফুরকান, ২৫:৭৪)

‘ইবাদুর-রাহমানদের (সবচেয়ে দয়াময়ের সত্যিকার উপাসনাকারী) বর্ণনাকারী অনুচ্ছেদের অংশ এই আয়াতটি। এটি এমন সুন্দর একটি আয়াত যা প্রতিটি মুসলিমের জানা উচিত, বোঝা উচিত, এবং প্রয়োগ করা উচিত। অনুচ্ছেদগুলোতে বিনম্রতা, অনুশোচনা, বড় অপরাধ থেকে নিরত থাকার ব্যাপারগুলো বলা হয়েছে। আর এই আয়াতে বলা হয়েছে নিজের পরিবারের জন্য দু‘আ করার কথা।

এই আয়াতে যে রূপক শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে তা হচ্ছে, ‘কুররাতা আ‘য়ুনিন’ বা চোখকে শীতল করবে। আরবিতে এর অর্থ হচ্ছে এমন কিছু যা মনে আনন্দ দেয়। “সালাত আমার চোখকে শীতল করে”—এই হাদীসে নাবিও (তাঁর উপর বর্ষিত হোক আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ) একই রূপক শব্দ ব্যবহার করেছেন। সালাতের সঙ্গে এই রূপক ব্যবহারের মানে হচ্ছে দুনিয়ার যেকোনো কিছুর চেয়ে সালাত তাঁকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দিত।

Photo credit: Ferdinand Reus, via en[dot]wikipedia[dot]org/wiki/Mauritania#/media/File:Madrasah_pupils_in_Mauritania.jpg
Photo credit: Ferdinand Reus, via en[dot]wikipedia[dot]org/wiki/Mauritania#/media/File:Madrasah_pupils_in_Mauritania.jpg
আয়াতটিতে বলা হচ্ছে যে, সত্যিকার বিশ্বাসীরা কেবল নিজেদের ধার্মিক উন্নতি নিয়েই আগ্রহী থাকে না, বরং তারা তাদের জীবনসঙ্গী ও সন্তান-সন্ততিদের ধার্মিকতা ও বেড়ে ওঠা নিয়েও আগ্রহী থাকে। ইসলাম এমন কোনো স্বার্থপর জীবনব্যবস্থা নয় যেখানে একজন মানুষ কেবল তাকে নিয়েই ব্যতিব্যস্ত থাকে। বরং এখানে প্রত্যকে মুসলিমই তার পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র এবং সার্বিকভাবে উম্মাহর ভালোমন্দ নিয়ে আগ্রহী থাকে। অনেক সময় এমন হয় যে, নিজেদের উন্নতি করার চেষ্টায় বেশি রত থাকার কারণে আমরা আমাদের পরিবারের উন্নতির দিকটাকে উপেক্ষা করি। আর ততদিনে এটা খুব দেরি হয়ে যায়।

মুসলিম হিসেবে আমাদের উপলব্ধি করতে হবে যে, আমাদের উপর আমাদের পরিবারের সদস্যদের কিছু অধিকার আছে। এসব অধিকারের মধ্যে আছে, তাদের সাথে সহানুভূতি, ন্যায়নিষ্ঠতা, ভালোবাসা ও মমতার সঙ্গে আচরণ করা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ইসলামি শিক্ষার আলোকে পরিবার গঠন এবং সঠিক পথনির্দেশ দেওয়া।

বাচ্চারা যা ইচ্ছা তা-ই করুক, এবং তারা নিজেরাই নিজেদের পথ বেছে নিক—আধুনিক এই ধ্যানধারণা ইসলামের শিক্ষা নয়। এর উৎস হচ্ছে ভোগবাদী নাস্তিক সংস্কৃতি। সন্তানের ঈমান নিয়ে যেমন মুসলিম অভিভাবকদের উদ্বিগ্ন থাকা উচিত, তেমনি উদ্বিগ্ন থাকা উচিত নিজের জীবনসঙ্গীর ঈমানের ব্যাপারেও। আল্লাহর পথের পথিক হওয়ার জন্য পরিবারগুলোর উচিত ধীরে ধীরে নিজেদের উন্নতির জন্য একসঙ্গে কাজ করা। বাজে অভ্যাস ও অপরাধগুলো দমন করার ব্যাপারে একে অপরকে সাহায্য করা।

প্রত্যেক মুসলিমেরই এই দু‘আটি মুখস্থ করা প্রয়োজন। প্রতিদিন পরিবারের জন্য আন্তরিকতার সঙ্গে এই দু‘আ করা উচিত। কারণ দু‘আটি আমাদের কাছের মানুষদের ব্যাপারে। উভয় দুনিয়ায় তাদের অবস্থার ব্যাপারে। এই দু‘আর মাধ্যমে আমরা এই প্রার্থনাই করি যে, তারা যেন আমাদের জন্য এই দুনিয়ায় তৃপ্তি ও ভালোবাসার উৎস হয়। আমরা যেন ধার্মিক এক পরিবারের নেতা হওয়ার মর্যাদা লাভ করতে পারি। আর-রাহমানের সত্যিকার দাসদের অন্যতম গুণাবলি হচ্ছে এই দু‘আ করা এবং ইসলামিকভাবে একটি পরিবারকে গড়ে তোলা। আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে সেই গুণ দান করেন। আমীন।

মূল লেখক: Ismail Kamdar, Head Tututorial Assistant, Islamic Online University

ইংরেজিতে মূল লেখাটি পড়ুন এখানে: http://abumuawiyah.com/verse-of-the-day-19-2574-righteous-family/    

বাংলা অনুবাদটি প্রথম প্রকাশিত হয় এখানে: https://www.facebook.com/masud.shorif/posts/10152925369376332 

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this:
search previous next tag category expand menu location phone mail time cart zoom edit close