[রামাদান স্পেশাল] আজকের আয়াত #২০: ধার্মিকতার জন্য জিহাদ (অনুবাদ)

“যে সংগ্রাম করে সে নিজের জন্যই সংগ্রাম করে। আল্লাহ তো বিশ্বজগৎ থেকে অমুখাপেক্ষী।” (সূরাহ আল-আনকাবুত, ২৯:০৬)

আল-কুর’আনের অল্প যে-কিছু সংখ্যক জায়গায় ধার্মিকতা অর্জনের জন্য নিজের সঙ্গে নিজের জিহাদের কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে এটি একটি। এই সংগ্রাম হচ্ছে নিজের কুপ্রবৃত্তি ও অহংবোধের বিরুদ্ধে। এর নাম জিহাদুন-নাফ্‌স। যারা বলে থাকে আল-কুর’আনে জিহাদসংক্রান্ত যত আয়াত আছে তার সবই যুদ্ধসংক্রান্ত এই আয়াতটি তাদের সেই দাবিকে খণ্ডন করছে। জিহাদুন-নাফ্‌সকে যারা গুরুত্বের সঙ্গে নেয় না তাদের জন্যও এই আয়াতটি বিশেষ আলোচনার দাবি রাখে।

শত্রুপক্ষের সঙ্গে যুদ্ধের বৈধতা দেওয়ার আগে মাক্কাহ্‌য় এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। এই আয়াতটি জীবনের পরীক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রথমে এই বলে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে যে প্রত্যেক বিশ্বাসীকেই পরীক্ষা করা হবে যাতে মিথ্যাবাদী থেকে সত্যবাদীদের আলাদা করা যায়। আর সত্যবাদীদের তালিকায় নিজের নাম উঠানোর পথ হচ্ছে নিজের অভ্যন্তরীণ শত্রুর সঙ্গে লড়াই করা। এখানে আল্লাহ আরও একটি জিনিস জানিয়ে দিচ্ছেন যে, আমাদের উপাসান বা সংগ্রামে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। বরং এই ধার্মিকতার জন্য সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা নিজেরাই নিজেদের কল্যাণ করি।

Photo credit: Trey Ratcliff, via flickr[dot]com/photos/stuckincustoms/1435669599

Photo credit: Trey Ratcliff, via flickr[dot]com/photos/stuckincustoms/1435669599

কেউ যখন নিজের কুপ্রবৃত্তি দমনের জন্য সংগ্রাম করে, আল্লাহর বাধ্য হয় তখন তার মর্যাদা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ে। পাপপূর্ণ জীবনযাপনের ফলে যে ক্ষতি বয়ে আসে তা থেকে সে থাকে সুরক্ষিত। সে তার নিজের অন্তরকে রক্ষা করে, নিজের মর্যাদা বাড়ায়, উভয় দুনিয়ার ক্ষতি থেকে নিজেকে বাঁচায়। আল্লাহর সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে উপকৃত হয়। এ ধরনের সংগ্রাম অনেক কঠিন। কিন্তু এর কারণে যে শুভফল আসে তার জন্য এমন চেষ্টা স্বার্থক!

সংগ্রাম ছাড়া কোনোকিছু পাওয়ায় কোনো তৃপ্তি নেই। প্রতিটি লক্ষ্য অর্জনের জন্য চাই চেষ্টা, ধৈর্য, লেগে থাকা ও কঠোর পরিশ্রম। আল্লাহর নৈকট্য লাভ এবং পাপ করার প্রবৃত্তিগত প্রকৃতি থেকে বেঁচে থাকার জন্যও উপরোক্ত গুণগুলো দরকার। ধার্মিকতা অর্জনের কোনো শর্টকাট নেই। আধ্যত্মিক অসুখ সারানোর কোনো তাৎক্ষণিক তরিকা নেই। জান্নাতে যাওয়ার জন্যও নেই কোনো গুপ্ত পথ। এগুলোর জন্য শয়তানের বিরুদ্ধে সবসময় জিহাদ করতে হবে। জিহাদ করতে হবে আমাদের কুপ্রবৃত্তি, সমাজের মন্দদিক ও প্রলোভন থেকে। এ ধরনের জিহাদে লেগে থাকার মাধ্যমেই আমরা জীবনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারব। অর্জন করতে পারব আল্লাহর সন্তুষ্টি।

আয়াতের দ্বিতীয় অংশে আমাদের মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে আল্লাহ হচ্ছেন আল-গানি (সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী)। তাঁর আমাদের উপাসনার প্রয়োজন নেই। বরং আমাদেরই প্রয়োজন তাঁকে উপাসনা করার। এর মাধ্যমে আসলে আমরাই উপকৃত হই। আমরা যেন কখনো এটা না-ভাবি যে, নামাজ আদায় করে বা আল্লাহকে মেনে চলে আমরা তাঁর কোনো কল্যাণ করছি। এটা আসলে আমাদের নিজেদের জন্যই, কারণ আল্লাহ তাঁর সব সৃষ্টি থেকে অমুখাপেক্ষী।

মূল লেখক: Ismail Kamdar, Head Tututorial Assistant, Islamic Online University

ইংরেজিতে মূল লেখাটি পড়ুন এখানে: http://abumuawiyah.com/verse-of-the-day-20-2906-striving-for-righteousness/     

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s