[রামাদান স্পেশাল] আজকের আয়াত #২৩: পরিশুদ্ধ অন্তর (অনুবাদ)

“সে (ইবরাহিম) যখন তার প্রভুর কাছে এসেছিল পরিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে,” (সূরাহ আস-সাফফাত, ৩৭:৮৪)

সূরাহ আস-সাফফাতে আল্লাহর প্রত্যেক নাবির বিশেষ বিশেষ গুণের কথা বলা হয়েছে। এই আয়াতটিতে দেওয়া হয়েছে নাবি ইবরাহিমের (তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক) বর্ণনা। বলা হয়েছে তাঁর ছিল পরিশুদ্ধ অন্তর। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন। এ ধরনের আয়াতে যখন কাল্‌ব শব্দটি ব্যবহার করা হয়, তখন এ দিয়ে হৃদপিণ্ডকে বোঝায় না, বোঝায় আধ্যাত্মিক অন্তরকে।

হৃদপিণ্ড যেমন আমাদের শরীরের মূল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, সারা শরীরে রক্ত সরবরাহ করে আমাদের জীবনকে সচল রাখে, ঠিক তেমনি আমাদের আধ্যত্মিক অন্তর আমাদের আবেগ ও অনুভূতির উৎস। এটা আমাদের জীবনকে দেয় দিকনির্দেশনা।

আধ্যাত্মিক এই অন্তরের কথা কুর’আন ও হাদীসের বহু বাণী দ্বারা প্রমাণিত। এটা এমন একটা জিনিস যা আমরা দেখতে পাই না, কিন্তু উপলব্ধি করতে পারি ঠিকই।

Photo credit: Lezlie, via flickr[com]com/photos/lezlie-neo/6106369272

Photo credit: Lezlie, via flickr[com]com/photos/lezlie-neo/6106369272

প্রতিটি মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে হৃদয়ে ব্যথা অনুভব করেন। প্রিয় কারও কাছ থেকে কষ্ট পেয়ে অন্তরটা ব্যথায় টনটন করে। এই ব্যথা শারীরিক নয়; আধ্যত্মিক। এই হৃদয় আমাদের বহু কিছুর মূল কেন্দ্র যা আমরা দেখি না: যেমন আমাদের অনুভূতি, প্রবণতা ইত্যাদি।

আল-কুর’আনে তিন ধরনের হৃদয়ের কথা বলা হয়েছে: মৃত হৃদয়, নোংরা হৃদয় এবং পবিত্র হৃদয়।

১. মৃত হৃদয়
আল-কুর’আন ও সুন্নাহয় বহু জায়গায় মৃত হৃদয়ের কথা বলা হয়েছে। সময়ের সঙ্গে যে-হৃদয় গেছে ক্ষয়ে। ভালো কোনো সংকল্প এই হৃদয়ে আর বাসা বাধে না। ভালো কাজে এই হৃদয় পায় না কোনো আনন্দ। মন্দ কাজেও হয় না ব্যথিত। এ যেন আবেগ-অনুভূতিহীন জড় এক পদার্থ।
একমাত্র আল্লাহর দয়াই পারে এ হৃদয়কে পুনর্জাগরিত করতে। ইতিহাসে এ ধরনের অসংখ্য উদাহরণ খুঁজে পাওয়া যায়, যেখানে দেখা আয় অনেক লোকই সবচেয়ে নিকৃষ্ট জীবনযাপন করার পর পুরোপুরি নিজেকে বদলে ফেলে পরিণত হয়েছেন সেরা মানুষে। সংস্কারের প্রয়োজন শনাক্ত করা এবং দিকনির্দেশনার জন্য আল্লাহর দিকে ফেরার মধ্য দিয়ে মৃত হৃদয়ের পুনর্জাগরণ শুরু হয়। কেননা আমাদের অন্তরের নিয়ন্ত্রণ তো আল্লাহরই হাতে।

২. নোংরা হৃদয়
নাবি মুহাম্মাদ (তাঁর উপর বর্ষিত হোক আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ) পাপকে হৃদয়ের উপর দাগ পড়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন। মানুষ যত পাপ করে তার হৃদয় তত বেশি কালিমা জর্জরিত হয়। তবে ভালো কাজ করলে কিছুটা হলেও দূর হয় সেই দাগ। অধিকাংশ মানুষের হৃদয় এমনই: কিছু অংশ নোংরা, কিছু অংশ পরিষ্কার। দিনের কোনো কোনো সময় আমরা ভালো কাজ ও মহৎ উদ্দেশ্যের জন্য অনুপ্রাণিত হই, কখনো বা আবার ঝুঁকে পড়ি সবচেয়ে নিকৃষ্ট কাজের দিকে। এ থেকেই এ ধরনের হৃদয়ের ব্যাপারটা আমরা বুঝতে পারি। ভালো ও খারাপের মাঝে ক্রমাগত সংগ্রাম—অধিকাংশ হৃদয়ের অবস্থা এমনই। কখনো পরিষ্কার, কখনো নোংরা। পাপের ছোপ থেকে হৃদয়কে পরিষ্কার করার এই কাজটি আমাদের আত্মিক সংগ্রামের একটা অংশ।

৩. পবিত্র হৃদয় (কাল্‌ব সালিম)
এ হৃদয় শান্তিপূর্ণ বা বিশুদ্ধ হৃদয় নামেও পরিচিত। সারাদিন খারাপ কাজের তুলনায় বেশি বেশি ভালো কাজ করে যাওয়ার অবিরাম সংগ্রামের মধ্য দিয়েই অর্জিত হয় পবিত্র হৃদয়। এ হৃদয়ে সবসময় খেলা করে ইতিবাচক প্রবণতা। ফলে পবিত্র হৃদয়কে ধারণকারী দেহ সবসময় ঝোঁকে ভালো কাজের দিকে। এই অবস্থা অর্জন করার জন্যই আমাদের প্রয়োজন সবসময় ভালো কাজ করা এবং খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকা। সেজন্য চাই নিরলস সংগ্রাম।

নাবি ইবরাহিম (তাঁর উপর বর্ষিত হোক শান্তি) পবিত্র হৃদয় অর্জনের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ। যখন কেউ আল্লাহর ‘ইবাদাত করত না, এমন একটা সময়ে কেবল তিনি একাই আল্লাহর ‘ইবাদাত করে গেছেন। তিনি তার জাতির লোকদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন সত্যের জন্য। তাওহীদের দিকে তিনি মানুষকে ডেকেছিলেন দয়া, বিনম্রতা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে। আল্লাহর জন্য সবকিছু কোরবানি দিতে প্রস্তুত ছিলেন তিনি। এই পর্যায়ের ধার্মিকতা অর্জনের জন্যই সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া উচিত আমাদের। সবসময়।

মূল লেখক: Ismail Kamdar, Head Tututorial Assistant, Islamic Online University

ইংরেজিতে মূল লেখাটি পড়ুন এখানে: http://abumuawiyah.com/verse-of-the-day-23-3784-a-pure-heart/  

বাংলা অনুবাদটি প্রথম প্রকাশিত হয় এখানে: https://www.facebook.com/masud.shorif/posts/10152931630036332 

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s