[রামাদান স্পেশাল] আজকের আয়াত #২৪: সমান পুরস্কার (অনুবাদ)

“কেউ কোনো খারাপ কাজ করলে সে কেবল ঐ কাজের অনুরূপ প্রতিফল পাবে। আর কোনো পুরুষ কিংবা নারী বিশ্বাসী অবস্থায় কোনো ভালো কাজ করলে, তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। সেখানে তাদেরকে বিনা হিসেবে জীবিকা সরবরাহ করা হবে।” (সূরাহ গাফির, ৪০:৪০)

সম্প্রতি আমি বোনদের কাছ থেকে কিছু ইমেইল পেয়েছি। এসব ইমেইলে তারা জিজ্ঞেস করেছেন যে, আল্লাহ নারীদের চেয়ে পুরুষদের বেশি পছন্দ করেন কি না। প্রায় এক দশক ধরে ইসলাম নিয়ে আমি পড়াশুনা করেছি। কিন্তু কোথাও এ ধরনের কিছু পাইনি যে আল্লাহ নারীদের চেয়ে পুরুষদের বেশি ভালোবাসেন। কাজেই এ ধরনের প্রশ্ন পাওয়া আমার কাছে কিছুটা অবাক করা ব্যাপার ছিল। আমি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেছিলাম তাদের এই প্রশ্নের ভিত্তি কী? সাংস্কৃতিক পরিসরে ভুল বোঝাবোঝি বা আল-কুর’আন ও সুন্নাহর ভুল ব্যাখ্যা থেকে তাদের মনে এই প্রশ্ন দানা বেঁধেছে। আজকে আমি যে আয়াতটি ব্যাখ্যা করব সেটা এ প্রসঙ্গেই।

কেউ নারী না পুরুষ এর উপর আল্লাহর ভালোবাসার কোনো সম্পর্ক নেই। এর উপর ভিত্তি করে আল্লাহর কাছে কারও মর্যাদা বাড়ে-কমে না। এগুলো নির্ভর করে আল্লাহর ব্যাপারে কার তাকওয়া কেমন, আল্লাহর সাথে কার সম্পর্ক কেমন। এটাই ইসলামের মানদণ্ড। আর এটা নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য। তবে নারী-পুরুষভেদে আলাদা আলাদা দায়িত্ব কিংবা পুরস্কারের কারণে কেউ যেন এই ভুল না বোঝেন যে, ইসলামে লিঙ্গবৈষম্য করা হয়েছে। নারী-পুরুষের প্রতি আলাদা আলাদা দায়িত্ব (যেমন: পুরুষদের জন্য দাড়ি বড় করা, নারীদের পর্দা করা) কিংবা পুরস্কার (যেমন হূর আল-আইন) আল্লাহর প্রজ্ঞা ও অসীম জ্ঞানের নিদর্শন। তিনিই ভালো জানেন কার জন্য কোনটা ভালো; সে অনুযায়ীই তিনি দায়িত্ব ও পুরস্কার বণ্টন করেছেন।

Photo credit: pixabay[dot]com/en/mallards-mallard-ducks-male-mallard-2853/

Photo credit: pixabay[dot]com/en/mallards-mallard-ducks-male-mallard-2853/

অনেক সময়ে আমরা নারী-পুরুষ নিয়ে তর্কে জড়িয়ে আমাদের আসল কাজ ভুলে বসি। লিঙ্গভিত্তিক আলাদা আলাদা ভূমিকা ইতিহাস জুড়েই মানবসমাজের অংশ। এটা কোনোভাবেই মানুষ হিসেবে ব্যক্তিমর্যাদার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। আমরা যদি আল্লাহর দৃষ্টিতে যোগ্যতর হতে চাই, তাহলে ভালো হবে আমরা যদি তাঁর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করি।

এই আয়াতে এটাই নিশ্চিত করা হয়েছে যে, যেকেউ ন্যায়নিষ্ঠ কাজ করবে আল্লাহ তাকে জান্নাতের পুরস্কার দেবেন। সেখানে তারা এমন এমন সব পুরস্কার পাবে যা তারা কখনো কল্পনাও করতে পারেনি—তা সে নারী বা পুরুষ যা-ই হন না কেন। এটা জানার পরে আমাদের কর্তব্য এটাই যে, আমরা যেন সত্যিকার বিশ্বাসী হতে পারি এবং জান্নাত অর্জন করে নিতে পারি। ধার্মিকতা বা ন্যায়নিষ্ঠতা নারী-পুরুষভেদে আলাদ হতে পারে। যেমন: পুরুষদের জন্য আর্থিক দায়বদ্ধতা, দাড়ি বড় করা; নারীদের ক্ষেত্রে ঘরের দায়িত্ব নেওয়া, পর্দা বজায় রাখা ইত্যাদি। এটা মূলত যার যার শক্তিশালী দিকের সাথে সম্পর্কিত।

জান্নাতের পানে অভিযাত্রায় তাই আসুন যেটা গুরুত্বপূর্ণ তার দিকে মনোযোগ দিই। বর্ণ, গোত্র, লিঙ্গ অথবা কে কোন দেশের এসব তুচ্ছ বিষয় নিয়ে অযথা বিতণ্ডায় না জড়াই। কারণ আল্লাহর কাছে কারও মর্যাদা বাড়ছে না কমছে তার সঙ্গে এগুলোর কোনোটার কোনো সম্পর্ক নেই। তার চেয়ে বরং আসুন আমরা আমাদের শক্তিকে ঈমান, তাকওয়া, ন্যায়নিষ্ঠ কাজ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পেছনে বিনিয়োগ করি। এতে করে পরকাল নিয়ে আমাদের কোনো অনুতাপে পুড়তে হবে না।

মূল লেখক: Ismail Kamdar, Head Tututorial Assistant, Islamic Online University

ইংরেজিতে মূল লেখাটি পড়ুন এখানে: http://abumuawiyah.com/verse-of-the-day-24-4040-equal-rewards/ 

বাংলা অনুবাদটি প্রথম প্রকাশিত হয় এখানে: https://www.facebook.com/masud.shorif/posts/10152933798036332

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s