[রামাদান স্পেশাল] আজকের আয়াত #২৫: প্রবৃত্তির অনুসরণ (অনুবাদ)

“তুমি কি সেই ব্যক্তিকে দেখেছো, যে তার প্রবৃত্তিকে তার উপাস্য বানিয়েছে? আর তাই আল্লাহ সেটা জেনেই তাকে পথভ্রষ্ট করেছেন। তার কানে ও অন্তরে মেরে দিয়েছেন মোহর। আর তার চোখের উপর লাগিয়ে রেখেছেন একটা আবরণ। আল্লাহ বাদে তাকে আর কে পথ দেখাবে? এ নিয়ে কি তোমরা ভাবনা-চিন্তা করবে না?” (সূরাহ আল-জাসিয়াহ, ৪৫:২৩)

হেডোনিজম (সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য-আরামই জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য) আজ একবিংশ শতাব্দির ধর্মে পরিণত হয়েছে; এমনকি মুসলিমদের মাঝেও। সেক্যুলার বা ভোগবাদী জীবন ব্যবস্থায় ‘যখন যা চাই তা-ই করি’—এই মনোভাব অনেক মুসলিম দাবীদারদের আক্রান্ত করেছে মারাত্মকভাবে। কাফির বা অবিশ্বাসী সমাজ যত সব মজায় লিপ্ত সেগুলো দেখে তারা নিজেদের বঞ্চিত মনে করে। ফল হিসেবে তারা তিনটি থেকে যেকোনো একটি উপায় বেছে নেয়।

হয় তারা একেবারেই ইসলাম ছেড়ে দিয়ে ধর্মত্যাগী হয়। নিজেদের প্রবৃত্তিতে লিপ্ত হওয়ার জন্য বেছে নেয় নাস্তিকতাকে। অথবা নিজেদের প্রবৃত্তি অনুযায়ী ধর্মকে খাপ খাওয়ানোর জন্য চোরাফাঁদ খোঁজার চেষ্টা করে। অথবা ধর্মের যে বিধিগুলো তাদের সঙ্গে খাপ খায় কেবল সেগুলো পালন করে। যে উপায়ই তারা বেছে নিক না কেন, এর মাধ্যমে তারা মূলত তাদের প্রবৃত্তিকে তাদের ঈশ্বরে পরিণত করে; প্রবৃত্তির কাছে নিজেকে সঁপে দেয়। আর আল্লাহও তাদেরকে তাদের বিভ্রান্ত পথে ছেড়ে দেন।

Photo credit: Aurélien, via pixabay[dot]com/en/party-lights-music-night-club-629241/

Photo credit: Aurélien, via pixabay[dot]com/en/party-lights-music-night-club-629241/

কোনটা ভালো কোনটা খারাপ সেটার বিচার করার জন্য যে তার নিজের প্রবৃত্তির উপর ভিত্তি করে, এই আয়াত তাদের জন্য এক কঠিন সতর্কবার্তা। আল্লাহ আমাদেরকে এই আয়াত নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে বলেছেন। তো ভাবনাচিন্তা করতে যেয়ে আমি ভাবছিলাম আমাদের তরুণ সমাজকে কীভাবে এ থেকে রক্ষা করা যায়। ঐশী দিকনির্দেশনা অবশ্যই আল্লাহর হাতে। তবে ন্যূনতম আমরা সাবধানতা অবলম্বন করতে পারি। একটা সিস্টেম দাঁড় করাতে পারি যাতে মানুষ সঠিক দিকনির্দেশনা পায়। সঠিক দিকনির্দেশনা পাওয়ার জন্য নিচের পদ্ধতিগুলোকে আমার কাছে সবচেয়ে কার্যকর মনে হয়েছে:

১. যুবসমাজকে ইসলামের একটা সর্বাঙ্গীণ ধারণা দেওয়া। কিছু আচারপ্রথা আর ধর্মীয় সংস্কৃতির বাইরে অধিকাংশ তরুণকেই ইসলামের ব্যাপারে জানানো হয় না। ফলে তারা সঠিকভাবে ইসলামকে বুঝতে পারে না। আমার বিশ্বাস, যদি তাদেরকে ইসলামি আইনের উদ্দেশ্য (মাকাসিদ আশ-শারী‘আহ), ইসলামের (সমর্পণের) অর্থ, ইসলামের প্রতিটি বিধির পেছনে প্রজ্ঞা এবং আল-কুর’আনের অর্থ বোঝানো হয়, তাহলে তাদের বিপথে যাওয়ার আশঙ্কা অনেকাংশেই রোধ হবে।

২. ঘর, স্কুল ও সমাজে ধার্মিকতার পরিবেশ গড়ে তোলা। কখনো কখনো হয়তো পাপাচারমূলক সমাজ ছেড়ে ন্যায়নিষ্ঠ সমাজে হিজরাত করতে হতে পারে। নিজের ঈমান ঠিক রাখার জন্য এমন হিজরাত যুতসই। তরুণদের জন্য আমাদের স্কুল-বাসা-সমাজগুলোকে হওয়া উচিত অনুকরণীয় আদর্শ। চর্চাকারী, দয়াবান, বিজ্ঞ ও মমতাময়ী মুসলিমদের সঙ্গে নিয়মিত সংস্পর্শে আসা উচিত তরুণদের। ইনশা’আল্লাহ এতে করে ইসলামের প্রতি তাদের ভালোবাসা বাড়বে। কমবে বিপথে যাওয়ার প্রবণতা।

৩. তাদের জন্য দু‘আ করা। পরিবারের কেউ যদি বিপথে চলে যায়, প্রবৃত্তির দাসত্বে ঘুরপাক খেতে থাকে তাদের জন্য ক্রমাগত দু‘আ করে যেতে হবে। এ ব্যাপারে কখনো হাল ছেড়ে দিলে চলবে না। কার শেষ পরিণাম কী আমরা জানি না। কাজেই আল্লাহর দয়া থেকে কখনো নিরাশ হওয়া উচিত না আমাদের। যারা বিপথে গেছে তাদের জন্য প্রার্থনা করা উচিত আল্লাহর কাছে। আরও প্রার্থনা করা উচিত আল্লাহ যেন আমাদের ও আমাদের সন্তানদের সঠিক পথে অবিচল রাখেন।

আধুনিক বিশ্বকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে প্রবৃত্তি-পূজারি সংস্কৃতি। তবে, ইনশা’আল্লাহ, আমরা যদি উপরোক্ত ধাপগুলো প্রয়োগ করতে পারি তাহলে সেই সংস্কৃতির গ্রাস থেকে আমাদের তরুণদের অনেকটাই রক্ষা করতে পারব।

মূল লেখক: Ismail Kamdar, Head Tututorial Assistant, Islamic Online University

ইংরেজিতে মূল লেখাটি পড়ুন এখানে: http://abumuawiyah.com/verse-of-the-day-25-4523-following-desires/  

বাংলা অনুবাদটি প্রথম প্রকাশিত হয় এখানে: https://www.facebook.com/masud.shorif/posts/10152935533856332 

Advertisements

One thought on “[রামাদান স্পেশাল] আজকের আয়াত #২৫: প্রবৃত্তির অনুসরণ (অনুবাদ)

  1. পিংব্যাকঃ পর্ণগ্রাফি আসক্তি: ভয়াবহতা ও মুক্তির উপায় | আমার স্পন্দন

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s