[রামাদান স্পেশাল] আজকের আয়াত #২৬: আল্লাহ ভালো জানেন (অনুবাদ)

“বলো, ‘তোমরা কি আল্লাহকে তোমাদের ধর্ম শেখাচ্ছ? অথচ আল্লাহ জানেন যা কিছু আছে এই মহাবিশ্বে এবং যা কিছু আছে এই পৃথিবীতে। সবকিছুর ব্যাপারেই আল্লাহ পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান রাখেন।” (সূরাহ আল-হুজুরাত, ৪৯:১৬)

মাক্কাহ বিজয়ের পর গোটা আরব অঞ্চলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকে ইসলাম। গোত্রগুলোর সবাই ইসলামে প্রবেশ করতে থাকে। নাবির (তাঁর উপর বর্ষিত হোক আল্লাহর আশীর্বাদ ও শান্তি) কাছে দেয় আনুগত্যের শপথ। তবে এসব গোত্রের কোনো কোনোটি পরিপূর্ণভাবে আন্তরিক ছিল না। তারা মুসলিমদের দেখছে ক্ষমতাধর রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে। কিংবা দেখেছে ইসলাম একটা জনপ্রিয় বিশ্বাসব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। আর এতে যোগ দিচ্ছে তাদের প্রতিবেশী গোত্ররা। যার ফলে তারা সর্বাত্মকভাবে ইসলামে প্রবেশ করেনি। আর করলেও করেছে রাজনৈতিক কারণে। তাদের অনেকেই সত্যিকার অর্থে ইসলাম বিশ্বাস করেনি। অন্যদিকে অন্যরা কেবল ইসলামের সেসব বিধিগুলো পালন করেছে যেগুলো তাদের সঙ্গে খাপ খায়।

সূরাহ আল-হুজুরাতের শেষ দিককার আয়াতে আল্লাহ এসব আরবগোত্রকেই উদ্দেশ করেছেন। তাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, ইসলামে প্রবেশ করেছে বলেই তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিশ্বাসী সম্প্রদায়ে পরিণত হয়ে যায়নি। আর তাছাড়া এতে প্রবেশ করে তারা নিজেরাই তাদের কল্যাণ করেছে, অন্য কারও নয়। এই আয়াতে আল্লাহ তাদের ও আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, তিনিই সবচেয়ে ভালো জানেন। কাজেই তাঁর প্রজ্ঞায় আমরা যেন পরিপূর্ণ আস্থা রাখি। অনুসরণ করি তাঁর বিধি।

Photo credit: Erwin Franzen, via flickr[dot]com/photos/erwinlux/1002019820/
Photo credit: Erwin Franzen, via flickr[dot]com/photos/erwinlux/1002019820/
তৎকালীন আরব গোত্রের কিছু লোকেরা যেমন ইসলামের সেসব বিধি পালন করছিল যেগুলো তাদের মনমতো ছিল, আজকের মুসলিম বিশ্বেও এমন অনেক মুসলিমদের পাওয়া যায় যারা কেবল সেসব বিধিই অনুসরণ করে, যেগুলো তাদের মনমতো হয়। এসব লোকেরা তাদের নিজস্ব যুক্তি-কারণ প্রয়োগ করে আল্লাহর কথা ও তাঁর বার্তাবাহকের (তাঁর উপর বর্ষিত হোক আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ) সুন্নাহকে অগ্রাহ্য করতে চায়। তাদের বিশ্বাস: যা কিছু তাদের ব্যক্তিগত যুক্তির বিরুদ্ধে তা সত্য নয়। এ ধরনের লোকদেরই প্রয়োজন এই আয়াতের উপর ভাবনা-চিন্তা করা। আর এদেরকেই আমরা বলতে চাই, “আপনারা কি আল্লাহকে আপনাদের ধর্ম শেখাচ্ছেন? অথচ আল্লাহ জানেন কী আছে পৃথিবীতে আর কী আছে মহাবিশ্বে?”

আল্লাহ হচ্ছেন আল-আলীম (সবকিছু জানেন) এবং আল-হাকীম (সবচেয়ে বিজ্ঞ)। কাজেই আল্লাহ যে বিধি দিয়েছেন সেটাই সবচেয়ে প্রজ্ঞাপূর্ণ। কারণ এর ভিত্তি আল্লাহর শাশ্বত জ্ঞান। আর আমাদের এটাই বিশ্বাস করতে হবে যে, আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন। মানুষের যুক্তি ত্রুটিযুক্ত, সসীম এবং ক্রমাগত পরিবর্তনশীল। বিশ বছর বয়সে যেটা আপনার কাছে যৌক্তিক মনে হয়েছিল, ত্রিশ বছর বয়সে এসে সেটাকেই আপনার কাছে হাস্যকর লাগছে। আমাদের এমন যুক্তিকে আমরা কী করে মহান স্রষ্টার শাশ্বত প্রজ্ঞার উপরে স্থান দিতে পারি?

নিজেকে সঁপে দেওয়ার একটা অংশ হিসেবে আমাদের উচিত এই ব্যাপারগুলো নিয়ে ভাবনাচিন্তা করা। কুর’আন-সুন্নাহয় যেভাবে আছে সেভাবে আল্লাহর বিধিগুলোকে গ্রহণ করা—যদিও এসব বিধিবিধানের কিছু অংশ আমাদের সীমিত জ্ঞানে বোঝা যাবে না। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন। এই বিশ্বাসই যথেষ্ট তাঁর বিধির প্রতি নিজেকে সঁপে দেওয়ার জন্য।

মূল লেখক: Ismail Kamdar, Head Tututorial Assistant, Islamic Online University

ইংরেজিতে মূল লেখাটি পড়ুন এখানে: http://abumuawiyah.com/verse-of-the-day-26-4916-allah-knows-best/ 

বাংলা অনুবাদটি প্রথম প্রকাশিত হয় এখানে: https://www.facebook.com/masud.shorif/posts/10152936862706332

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this:
search previous next tag category expand menu location phone mail time cart zoom edit close