[রামাদান স্পেশাল] আজকের আয়াত #২৮: পরকালের প্রস্তুতি (অনুবাদ)

“তোমরা যারা বিশ্বাস করো, আল্লাহর ব্যাপারে সদাসচেতন হও। প্রত্যেক ব্যক্তিরই (ভেবে) দেখা উচিত, আগামীকালের জন্য সে কী পাঠাল। আল্লাহর ব্যাপারে সদাসচেতন হও। তোমরা যা কিছু করো, আল্লাহ তার সব খবর রাখেন।” (সূরাহ আল-হাশ‌্‌র, ৫৯:১৮)

নাবি মুহাম্মাদ (তাঁর উপর বর্ষিত হোক আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ) ও তাঁর সাহাবিরা বানু নাযির ইহুদি গোত্রকে অবরোধ করে রাখেন। এই অবরোধের কারণে তারা মুসলিমদের কাছে আত্মসমর্পণ করে। মুসলিমদের দখলে আসে ইহুদি গোত্রের সম্পদ ও জমি। বাড়ে তাদের পার্থিব সফলতা। এই অবস্থার পটভূমিতে অবতীর্ণ হয় সূরাহ আল-হাশ্‌র। মজার ব্যাপার হচ্ছে পার্থিব সফলতার পরিপ্রেক্ষিত সূরাহটি অবতীর্ণ হলেও, এখানে মুসলিমদের মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে ইসলাম অনুসরণের গুরুত্বের কথা, আল্লাহর ব্যাপারে সদাসচেতন হওয়ার কথা এবং পরকালের দিকে নজর দেওয়ার কথা। এই সূরাহতে আল্লাহর অনেক সুন্দর সুন্দর নামের কথা উল্লেখ করে আমাদের এটাই স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আল্লাহর প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা ও আনুগত্য যেন বাড়ে।

এই আয়াতের শিক্ষা বেশ স্পষ্ট: দুনিয়ার সফলতা যেন আমাদের সত্যিকার সফলতা থেকে বিচ্যুত না করে। সত্যিকার সফলতা কীসে? আমাদের অপরাধগুলো মাফ হওয়া এবং জান্নাতে প্রবেশ করা। দুনিয়াতে আমরা যে সফলতাই অর্জন করি না কেন, আমরা যদি পরকালকে ভুলে যাই, দুনিয়ার মৌজ-মাস্তির খপ্পড়ে পড়ে যাই, তাহলে সবই বৃথা।

এই আয়াতে দু’বার করে বিশ্বাসীদের এই কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা যেন আল্লাহর ব্যাপারে সদাসচেতন থাকে। ইব্‌ন আশুরের মতে, হতে পারে প্রথমবার উল্লেখ করা হয়েছে তাকওয়া অর্জনের জন্য। আর দ্বিতীয়বার উল্লেখ করা য়েছে সেই তাকওয়ার উপর অবিচল থাকার জন্য।

এই রামাদানে তাফসীরের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল তাকওয়া। এটাই রামাদানের মূল লক্ষ্য। তাকওয়াই হচ্ছে সেই গুণ, যার কারণে আমরা যখন পার্থিব সফলতা অর্জন করব, দুনিয়ার বিভিন্ন সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য উপভোগ করব, তখনও বিপথে যাব না। এ কারণেই তাকওয়া শব্দটিকে দু’বার উল্লেখ করে এর উপর আল্লাহ বিশেষ জোর দিয়েছেন।

Photo credit: flickr[dot]com/photos/tranbc/6928732546
Photo credit: flickr[dot]com/photos/tranbc/6928732546
এছাড়া এই আয়াতে আগামীকালের ব্যাপারে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। আগামীকাল বলতে এই আয়াতে পরকালকে বোঝানো হয়েছে। কারণ এটা এমন এক দিন যেটা মানুষ দেখবেই দেখবে। এটা ছাড়া অন্য যেকোনো আগামীকাল মানুষ দেখতেও পারে, না-ও পারে। কারণ, এর আগেই সে মারা যেতে পারে। কিন্তু শেষ বিচারের দিনের মুখোমুখি মানুষ হবেই হবে। কাজেই একে আমাদেরকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, নিতে হবে এর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি।

পৃথিবীর অন্যতম কঠিন পরীক্ষা হচ্ছে পার্থিব জীবনের সফলতা। মানুষ যখন কল্পনাতীত সাফল্য লাভ করে, তার মন যা কামনা করে সেসব বৈধ-অবৈধ উপভোগের বস্তুর সংস্পর্শে আসে তখন পাপ করা অনেক সহজ হয়ে পড়ে। মানুষ তখন ভুলে যায় পরকালের কথা। চলে যায় বিপথে। দুনিয়াতে আমরা যতই সফলতা অর্জন করি না কেন, এটাই সেই সময় যখন আমাদেরকে দু’বার করে মনে করিয়ে দেওয়া প্রয়োজন পরকালের কথা, কীসে আমাদেরকে অগ্রাধিকার দিতে হবে সেই কথা।

মূল লেখক: Ismail Kamdar, Head Tututorial Assistant, Islamic Online University

ইংরেজিতে মূল লেখাটি পড়ুন এখানে: http://abumuawiyah.com/verse-of-the-day-28-5918-prepare-for-the-afterlife/ 

বাংলা অনুবাদটি প্রথম প্রকাশিত হয় এখানে: https://www.facebook.com/masud.shorif/posts/10152940472771332 

Advertisements

2 thoughts on “[রামাদান স্পেশাল] আজকের আয়াত #২৮: পরকালের প্রস্তুতি (অনুবাদ)

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this:
search previous next tag category expand menu location phone mail time cart zoom edit close