সালাত আদায় করা নিয়ে আমার কিছু উপলব্ধি

Photo credit: Omar Chatriwala, via flickr[dot]com/photos/omarsc/4638491611/

Photo credit: Omar Chatriwala, via flickr[dot]com/photos/omarsc/4638491611/

সালাত আদায় (নামাজ) নিয়ে আমার কিছু উপলব্ধি হয়েছে, আর সেগুলিই একটু শেয়ার করছি মাত্র। সালাতের যত ফজিলত আছে সেগুলিকে অবশ্যই উপরে রেখেই আমি আমার কিছু উপলব্ধিকে প্রকাশ করছি। আর আমি শুধু আমার নিজের উপলব্ধির কথা বলছি, যা আমি অন্য কোথাও কখনো পড়িনি।

প্রথম উপলব্ধি:

নামাজকে ফরজ করা হয়েছে। তার মানে, ওই পাঁচ ওয়াক্ত আমারা যে কাজেই থাকি না কেন, আল্লাহ্‌র কাছে সেজদা দিতে হবেই হবে। সালাত আদায় করতে হবেই হবে। কারণ এটা ফরজ।

এবার এই হুকুম থেকে আমি যে উপলব্ধি পেলাম তা এমন: 

১। কোনো কাজে আমি যতই একাগ্র থাকি না কেন, নির্দিষ্ট কিছু সময় পরপর আল্লাহ্‌র কাছে সেজদা দিতেই হবে।

২। কোনো কাজের একঘেয়েমি কাটাতে নামাজ সাহায্য করে। মানে, কোনো কাজে এত ব্যস্ত ছিলাম যে, নামাজের সুযোগ পাওয়ায় কাজ থেকে একটু বিরত থাকা যায়, আর আল্লাহ্‌কে সেজদা দিয়ে (তার আগে অজু) সারাক্ষণের কাজের চাপও দূর হয়।

৩। যে কাজে যতই ব্যস্ত থাকি, কোনো অবস্থাতেই আল্লাহ্‌কে ভুলে যাবার সুযোগ নেই।

দ্বিতীয় উপলব্ধি:

আল্লাহ্‌ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজগুলিকে একসাথে এক ওয়াক্তে না রেখে পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন সময়ে আদায় করার জন্য ফরজ করেছেন। মানে, প্রতিটি ফরজ নামাজ আদায় করার জন্য সঠিক সময় হওয়াটাও একটা শর্ত।

এবার এই হুকুম থেকে আমি যে উপলব্ধি পেলাম তা এমন:

১। আল্লাহ্‌ চান না আমরা এমন কোনো প্রকার কাজে এমনভাবে নিয়োজিত হই যা করতে কোনো একজনের একটানা অনেক ঘন্টা লেগে যায়। তার মানে, আমরা যে কাজই করছি তা মোটামুটি ৬-৭ ঘন্টা হয়ে গেলেই (ফজর থেকে যোহরটাই ধরলাম) একটা নামাজের ওয়াক্ত চলে আসে। তাহলে আমার উপলব্ধি এই যে, এমন কোনো কাজে আমাদের নিয়োজিত হওয়া যাবে না যা একজনকে একটানা এতটা সময় ধরে করতে হবে যে, নামাজ আদায় করার সময় পাওয়া যাবে না। যেমন, একটানা লম্বা ঘুম (অনেকেই শুধু লম্বা ঘুমাবার জন্য কিছু খেয়ে ঘুমায়)। তার মানে, এমন লম্বা ঘুম দেওয়া যাবে না যা কোনো এক ওয়াক্তের নামাজ আদায়ে বিরত রাখে। এমন কোনো খেলা দেখা বা খেলা যা দেখতে গেলে বা খেলতে গেলে নামাজের সময় নামাজ আদায় করার সুযোগ পাওয়া যাবে না (নামাজের সুযোগ পাওয়া গেলে ভিন্ন কথা)। মোট কথা, এমন লম্বা সময়ের প্রোগ্রামে যুক্ত হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে যেখানে যুক্ত হলে নামাজ আদায়ের সুযোগ পাওয়া যাবে না।

২। ফজর নামাজ আদায় করার জন্য সূর্য ওঠার আগেই ঘুম থেকে উঠতে হবে। তার মানে, তখন ওঠাটাই শ্রেষ্ঠ এবং তখন না ঘুমানোটাই ভালো।

৩। নামাজ আদায় করতে হলে অন্তত পোশাক, দেহ ও নামাজের স্থান পবিত্র হতে হয়। তার মানে, একজন নামাজী ঘুম থেকে উঠে সেই ভোর থেকে রাত পর্যন্ত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকছেন। আর যদি পবিত্র নাও থাকেন, তিনি খুব বেশি ঘন্টা অপবিত্র অবস্থায় থাকতে পারছেন না। কারণ, কয়েক ঘন্টা পরেই আরেকটা ফরজ নামাজের সময় হয়ে যাবে। সুতরাং, পবিত্র হওয়ার জন্য তার ভেতরে একটা তাগাদা থাকবে। তার মানে, প্রতিটি সালাত আদয়কারী অধিক সময় পবিত্র থাকেন, পরিচ্ছন্ন থাকেন।

তৃতীয় উপলব্ধি:

একটা মাসয়ালা জেনেছি যে, পেটে ক্ষুধা নিয়ে নামাজ আদায় করা মাকরুহ্‌, অর্থাৎ অনুচিত। বিশেষ করে, যার খাবার আছে তার জন্য আরো উচিত নয়। এর কারণ হিসাবে জানতে পেরেছি যে, পেটে ক্ষুধা নিয়ে সালাত আদায় করলে সালাতে মনোযোগ আসবে না।

এবার এই হুকুম থেকে আমি যে উপলব্ধি পেলাম তা এমন:

১। আমরা অনেক সময় ভালোবাসার মানুষটির ওপর অভিমান করে না খেয়ে থাকি। এখন দেখা যাচ্ছে, একজন নামাজী মানুষ খুব বেশী হলে কয়েক ঘন্টাই অভিমান করে না খেয়ে থাকতে পারবে। তার মানে, যদি তার ক্ষুধা লাগে আর খাবার থাকে, তবে তাকে খেয়ে নিয়েই নামাজ আদায় করতে হবে। এখানে নামাজীর একটা সুবিধা এই যে, অভিমানটাও তাড়াতাড়ি ভাঙতে হচ্ছে। তার মানে, রাগ করে বেশিক্ষণ থাকা সম্ভব হচ্ছে না। :)

২। আবেগজনিত কারণে বা কোনো বিচ্ছেদে (কারো মৃত্যুর দ্বারাও হতে পারে) মানুষ কষ্ট পায়। সেই কষ্টে কেউ না খেয়ে থাকবে সেটারও উপায় থাকছে না। কারণ, যদি সে নামাজী হয় আর যদি সে চায় তার নামাজে জানাশুনা মাকরুহ্‌ দোষ না থাকুক তবে সে না খেয়ে নামাজ আদায় করবে না। এখানে নামাজী ব্যাক্তি একটু হলেও বাস্তববাদী হচ্ছেন (তাদের চাইতে যারা কষ্টে বা বিচ্ছেদে অধিক সময় না খেয়ে থাকছেন বা অধিক সময় শোক পালন করছেন অনশন করে)।

লেখাটি নেওয়া হয়েছে এখান থেকে: https://learningfrommylife.wordpress.com/2011/04/13/সালাত-আদায়-করা-নিয়ে-আমার-ক/

Advertisements

One thought on “সালাত আদায় করা নিয়ে আমার কিছু উপলব্ধি

  1. পিংব্যাকঃ যারা ঈমান এনেছে আল্লাহ্ তাদের ওয়ালি | আমার স্পন্দন

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s