নবী মুসারও সময় লেগেছিল (অনুবাদ)

জিনান ইউসেফ-এর একটি লেখার নির্বাচিত কয়েকটি অনুচ্ছেদ থেকে অনুদিত। 

Photo credit: Martin LaBar, via flickr[dot]com/photos/martinlabar/513008589
Photo credit: Martin LaBar, via flickr[dot]com/photos/martinlabar/513008589
আল্লাহ আমাদের নিকটেই। নবী মুসা (عليه السلام) তা ভালো করেই জানতেন। তিনি আল্লাহর সাথে কথা বলার সৌভাগ্য পর্যন্ত অর্জন করেছিলেন। তারপরও, কিছু বিষয়ে তাঁরও সময় লেগেছিল।

আল্লাহর সাথে তাঁর একটি সাক্ষাতের ঘটনা। আল্লাহ মুসাকে (عليه السلام) নির্দেশ দিলেন, “তোমার লাঠি নিচে ফেলে দাও।” [কুরআন, ২৭:১০] লাঠিটি ফেলে দেওয়ার পর সেটি যেন একটি সাপের মতো নড়াচড়া করতে শুরু করল। মুসা (عليه السلام) এত ভয় পেলেন যে, “তিনি পেছন দিকে পালাতে লাগলেন, আর ফিরে তাকালেন না।” [২৭:১০]

এর পরের একটি ঘটনা। মুসা (عليه السلام) জাদুকরদের মুখোমুখী। জাদুকরদের নিক্ষিপ্ত লাঠি যেন নড়াচড়া করতে শুরু করেছে। তা দেখে “মুসা তাঁর অন্তরে কিছুটা ভীতি অনুভব করলেন।” [২০:৬৭] এবার তিনি পালিয়ে গেলেন না ঠিকই, কিন্তু কিছু ভয় তাঁর মনের মধ্যে তখনও রয়ে গিয়েছিল।

আরও পরের একটি ঘটনা। মুসা (عليه السلام) তাঁর জীবনের সবচেয়ে বিপদজনক সময়ের মুখোমুখী। বনী ইসরাইলকে সাথে নিয়ে তিনি পালিয়ে যাচ্ছেন। ফিরাউন সৈন্যসামন্তসহ তাদেরকে ধাওয়া করতে করতে এগিয়ে আসছে। উভয় দল যখন একে অন্যকে সামনাসামনি দেখতে পেল তখন তাঁর সাথীরা বলে উঠলেন, “এখন আমরা নির্ঘাত ধরা পড়ব।” [২৬:৬১] কিন্তু, মুসা (عليه السلام) অবিচল। তিনি বললেন, “কখনও নয়। আমার সঙ্গে নিশ্চিতভাবেই আমার প্রতিপালক আছেন। তিনি আমাকে পথ দেখাবেন।” [২৬:৬২]

নবী মুসার (عليه السلام) জীবনের এই পর্যায়ে এসে আল্লাহর নৈকট্য সম্পর্কে তাঁর এতদিনকার জ্ঞান দৃঢ় বিশ্বাসের পর্যায়ে উন্নীত হয়েছিল।

***

অনুবাদকের সমাপনী মন্তব্য:

গত এক দশকের কিছু বেশি সময় ধরে একটি ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত অনেক মানুষ ইসলামকে নতুন করে খুঁজে পাচ্ছেন। আমাদের চারিদিকে দাঁড়িওয়ালা এবং হিজাবী মানুষের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। ইসলামকে জানার জন্য মানুষ রীতিমতো পড়াশোনা করছে। কিন্তু, আমাদেরকে ভুলে গেলে চলবে না যে, এসব মানুষের সবারই অতীত আছে। তারা প্রত্যেকেই একেকটি ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসেছেন। অতীতের খারাপ যে দিকগুলো তাদের জীবনের অংশ হয়ে গেছে তা থেকে বেরিয়া আসার জন্য তারা অনেকেই সংগ্রাম করছেন। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। মুসার (عليه السلام) মতো পরাক্রমশালী নবীও তাঁর জীবনে বেশ কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করেই কেবল আল্লাহর প্রতি ইয়াকিনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিলেন। আমাদের সবারই সময় লাগে। অতএব, ইসলামকে যারা নতুন করে খুঁজে পেয়েছেন তাদেরকেও সময় দিতে হবে। তাদের প্রতি আরও বেশি ধৈর্যশীল হতে হবে।               

Advertisements

2 thoughts on “নবী মুসারও সময় লেগেছিল (অনুবাদ)

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this:
search previous next tag category expand menu location phone mail time cart zoom edit close