যে দশটি কারণে যিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনকে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দেব (অনুবাদ)

Rafiq ibn Jubair-এর একটি লেখা থেকে ঈষৎ সংক্ষেপিত আকারে অনুদিত।  

Kaba

১। কুরআনে আল্লাহ এই দিনগুলোর শপথ করেছেন

আল্লাহ বলেন, “শপথ ফজর-কালের। এবং দশ রাতের। এবং জোড় ও বেজোড়ের।” [কুরআন, সূরা ফাজর, আয়াত ১-৩]

ফজরের সময় এক নৈসর্গিক পরিবর্তন দেখা দেয়। পৃথিবীর প্রতিটি জিনিসই নতুনভাবে যাত্রা শুরু করে। তাই বিশেষভাবে এই সময়ের শপথ করা হয়েছে। কোনো কোনো মুফাসসিরের মতে এখানে ফজর বলতে বিশেষভাবে যিলহজ মাসের দশ তারিখের ফজর বোঝানো হিয়েছে। আর যে দশ রাতের শপথ করা হয়েছে তা হলো যিলহজের প্রথম দশ রাত। এই রাতসমূহকে আল্লাহ বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন। এর প্রত্যেক রাতেই ইবাদত-বন্দেগী করলে অনেক বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। জোড় হলো যিলহজের দশ তারিখ আর বেজোড় হলো আরাফাতের দিন, যা যিলহজের নয় তারিখে হয়ে থাকে। এসব দিনের শপথ করার মাঝে এর বিশেষ গুরুত্ব ও ফযিলতের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। [তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন]

 এই অনুচ্ছেদটি মূল লেখায় নেই, অনুবাদ করার সময় সংযোজন করা হয়েছে।

২। এটি মর্যাদাপূর্ণ একটি মাস

আল্লাহ বলেন, “প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা বারটি, যা আল্লাহর কিতাব (অর্থাৎ লাওহে মাহফুয) অনুযায়ী সেই দিন থেকে চালু আছে যেদিন আল্লাহ আকাশমন্ডল ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছিলেন। এর মধ্যে চারটি মাস মর্যাদাপূর্ণ।” [কুরআন, সূরা তাওবা, আয়াত ৩৬]

যিলকদ, যিলহজ, মুহাররম এবং রজব – এই চারটি মাস হলো উপরের আয়াতে বর্ণিত মর্যাদাপূর্ণ মাসসমূহ।

নবী ইবরাহিম (عليه السلام)–এর সময় থেকেই আরবরা এই চারটি মাসকে সম্মানিত বলে মনে করত। এই মাসসমূহে যুদ্ধ করা নিষিদ্ধ ছিল। আরব মুশরিকরা যদিও মূর্তিপূজায় লিপ্ত হয়ে নবী ইবরাহিম (عليه السلام)–এর ধর্মকে সাংঘাতিকভাবে বদলে ফেলেছিল, কিন্তু তারা এই চার মাসের মর্যাদা ঠিকই স্বীকার করত এবং এই সময়ে যুদ্ধ-বিগ্রহ নাজায়েয মনে করত। [তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন]

এই অনুচ্ছেদটি মূল লেখায় নেই, অনুবাদ করার সময় সংযোজন করা হয়েছে।

৩। নেক আমল করার জন্য এই দিনগুলো সর্বোত্তম    

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: “যিলহজের প্রথম দশকের চেয়ে উত্তম এমন কোনো দিন নেই, যে দিনগুলোর নেক আমল আল্লাহর নিকট অধিক পছন্দনীয়।” সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, “আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও নয়, ইয়া রাসুলাল্লাহ?” তিনি (ﷺ) বললেন: “আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও নয়। অবশ্য সেই মুজাহিদের কথা ভিন্ন, যে জান-মাল নিয়ে জিহাদে বেরিয়ে পড়ে, কিন্তু আর কোনো কিছুই নিয়ে ফিরে আসে না।” [তিরমিযি]

৪। এই সময়ের মতো একসাথে এত বেশি ইবাদত অন্য কোনো সময়ে করা হয় না

এটি হলো হজের মাস। ইসলাম ধর্মের অন্যতম স্তম্ভ হজ পালন করার জন্য সারা পৃথিবী থেকে লাখ লাখ আল্লাহর বান্দা এই সময়ে পবিত্র মক্কা নগরীতে সমবেত হন। এই সময়ে অনেকেই নফল রোযা রাখেন এবং [অতিরিক্ত] দান-সদকা করেন।

হাফিয ইবনে হাজার আল-আসকালানি লিখেছেন: যিলহজ মাসের [প্রথম] দশ দিনের ফযিলতের তাৎপর্যের ক্ষেত্রে যা স্পষ্ট তা হচ্ছে এখানে মূল ইবাদতগুলোর সমন্বয় ঘটছে। অর্থাৎ নামায, রোযা, দান-সদকা ও হজ, যা অন্যান্য সময় আদায় করা হয় না। [ফাতহুল বারী]

৫। ইসলাম পূর্ণতা লাভ করেছে আরাফাতের দিনে  

আল্লাহ বলেন, “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের উপর আমার নিয়ামত পরিপূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য দীন হিসেবে ইসলামকে (চিরদিনের জন্য) পছন্দ করে নিলাম।” [কুরআন, সূরা মায়িদা, আয়াত ৩]

[প্রিয় নবীর (ﷺ) বিদায় হজের সময়] যিলহজ মাসের নয় তারিখে আরাফাতের ময়দানে এই আয়াতটি নাযিল হয়।

৬। আরাফাতের দিনের রোযা গুনাহসমূহকে মিটিয়ে দেয়      

প্রিয় নবী (ﷺ) বলেছেন: “আমি আল্লাহর স্বত্বা থেকে এ আশা রাখি যে, আরাফাতের দিনের রোযা আগামী বছর ও গত বছর – এ উভয় বছরের [গুনাহের] কাফফারা বলে গণ্য হবে।” [তিরমিযি]

৭। এক দিনের রোযায় এক বছরের রোযার সওয়াব

দুর্বল সনদে প্রিয় নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত হয়েছে যে, “যিলহজের [প্রথম] দশ দিনের ইবাদতের চেয়ে দুনিয়ার অন্য কোনো দিনের ইবাদত মহান আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয় নয়। এই ক’দিনের মধ্যকার এক এক দিনের রোযা এক বছর রোযা রাখার সমান এবং তার এক একটি রাত কদরের রাতের সমান।” [তিরমিযি]

৮। এই দিনগুলোতে আল্লাহকে অধিক হারে স্মরণ করা হয়    

যিলহজ মাসের নয় তারিখ ফজরের নামাযের সময় থেকে শুরু করে তের তারিখ আসরের নামায পর্যন্ত প্রতিটি ফরয নামাযের শেষে তাকবীর পাঠ করার জন্য আমাদেরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এই সময়ে প্রতিটি ফরয নামাযের শেষে আমরা বলব:

الله أكبر الله أكبر لا إله إلا الله والله أكبر الله أكبر ولله الحمد

(আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ)

৯। এটি কুরবানির সময়  

সামর্থবান মুসলিমরা এই সময়ে পশু কুরবানি দেন। দশই যিলহজ থেকে বারই যিলহজ – এই তিন দিন কুরবানি দেওয়া যায়।

১০। ঈদুল আযহা এই সময়েই উদযাপিত হয়

মুসলিমদের প্রধান উৎসব দু’টি – ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহা। রমযান মাস সমাপান্তে ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়। আর ঈদুল আযহা উদযাপন করা হয় যিলহজ মাসের দশ তারিখে।

আসুন, বিশেষভাবে মর্যাদাপূর্ণ এই দশটি দিনে আমরা আমাদের ইবাদতের পরিমাণ বাড়িয়ে দিই। আর আমরা যারা এবার হজ পালন করছি না তারা সম্ভব হলে আরাফাতের দিনের রোযাটি অন্তত রাখার চেষ্টা করি।

ইংরেজিতে মূল লেখাটি পড়ুন এখানে: http://ilmfeed.com/10-reasons-we-should-take-the-first-10-days-of-dhul-hijjah-seriously/

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s