বেলা শেষে অবশেষে: মৃত্যুর পূর্ব মুহুর্তে

dream-filter-infrared-surreal
Photo credit: pexels[dot]com/photo/dream-filter-infrared-surreal-2222/
স্বপ্ন ব্যাপারটা বেশ রহস্যময়। মানুষ কেন স্বপ্ন দেখে, বা যা দেখছে তা কেনই বা দেখছে সেটা আজও অজানা।

যা দেখি তা কেন দেখি তার একটা ব্যাখ্যা হচ্ছে, সারাদিন আমরা যা ভাবি, যা করি অধিকাংশ সময়ে আমরা তা-ই দেখি।

আমার মনে আছে, আমি যখন ফিফা খেলা নিয়ে বিভোর ছিলাম, প্রায় প্রতিদিনই খেলতাম–মোদ্দাকথা গেমস খেলা নিয়ে যখন আচ্ছন্ন ছিলাম তখন স্বপ্নেও তা-ই দেখতাম। প্রিয় দলের খেলা থাকলে সেই খেলার দুএকদিন আগে প্রায়ই খেলার রেজাল্ট স্বপ্নে দেখতাম। জিতল না-হারল সেটা স্বপ্নে দেখতাম।

ছোটবেলায় একবার সূরা ইয়াসীন মুখস্থ করার চেষ্টা করেছিলাম। আম্মা বলেছেন, আমি নাকি একদিন ঘুমের মধ্যেও সূরা ইয়াসীন তিলাওয়াত করছিলাম।

ঘুম একধরনের মৃত্যু। মানুষের ঘুমের সময় মহান আল্লাহ তাদের আত্মাগুলো তার কাছে নিয়ে নেন। এরপর যাদের আয়ু থাকে তাদেরটা ফিরিয়ে দেন। আর যাদের আয়ু থাকে না, ঘুমের মধ্যেই তারা পরপারে চলে যান।

স্বপ্নে মানুষ যা দেখে, আর মৃত্যুর সময় মানুষের মুখ দিয়ে যে বুলি বেরিয়ে আসে তার মধ্যে বেশ মিল আছে। প্রায় ক্ষেত্রেই দেখা যায়, মৃত্যুর দুয়ারে দাঁড়িয়ে মানুষ সেসব কথাই বলছে যেগুলো সে সারাজীবন করে এসেছে, বা যেগুলো নিয়ে সে আচ্ছন্ন ছিল। ফলে দেখা যায়, মুমূর্ষ ব্যক্তিকে যখন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্‌‌র কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, তখন সে সেটা না-বলে ব্যবসার কথা, জায়গা-জমির কথা, খেলাধূলার কথা, সারা জীবন যে-আদর্শ বয়ে বেরিয়েছে সেগুলোই বারবার বলে। শত চেষ্টা করেও তার মুখ দিয়ে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলানো যায় না।

হয়তো তার মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসবে ”জয় বাংলা”, ”বাংলাদেশ জিন্দাবাদ”–এধরনের কথা। কিংবা কোনো গানের কলি–হার্ড রক, মেটাল, ডেথ মেটাল, আধুনিক, রবীন্দ্র-নজরুল বা সিনেমার লেটেস্ট গানের পঙক্তি।

মৃত্যুর মুহূর্তে শয়তানের ধোঁকা বা মানুষের সামান্য ভুলের কারণে সারাজীবনের ভালো কাজগুলো বরবাদ হয়ে যেতে পারে। জান্নাতের বদলে স্থান হতে পারে জাহান্নামে। কাজেই জীবিত অবস্থায় আমরা কী করছি, কী বলছি, কোন আদর্শ বুকে লালন করছি–এটা কোনো হেলাফেলার বিষয় নয়। আমাদের অবচেতন মনে লালিত বিশ্বাসেরই বহিপ্রকাশ ঘটে মৃত্যুর মতো কঠিন সংকটময় মুহূর্তে।

কাজেই আসুন সতর্ক হই। নিজেদের দুর্বল ঈমানকে তাজা করি। বদল আনি আমাদের আচার-আচরণ আর কর্মপন্থায়। কারণ, শেষ ভালো যার, সব ভালো তার।

”হে আমাদের প্রভু, একবার দিকনির্দেশনা দেওয়ার পর আমাদের অন্তরকে আবার বাঁকা করে দেবেন না। আপনার পক্ষ থেকে আমাদের অনুগ্রহ দান করুন। আপনি অবশ্যই সবচেয়ে বড় দাতা।” (সূরা আলি-ইমরান, ৩:৮)

লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় এখানে: https://www.facebook.com/masud.shorif/posts/10153107163156332

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this:
search previous next tag category expand menu location phone mail time cart zoom edit close