এ বিষয়ে কোনো হাদিস নেই? নাকি, আমি খুঁজে পাচ্ছি না?

মুফতি আব্দুল মালিক সাহেবকে যারা চিনেন, তারা জানেন তিনি কোন পর্যায়ের মানুষ। তার সাথে বিভিন্ন ইলমি বিষয়ে যাদের মতবিরোধ রয়েছে, তারাও হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর ইলমি গভীরতার কথা শ্রদ্ধাভরে স্বীকার করেন। এ মানুষটিকে ছোটবেলা থেকেই অনেক কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে।

আমাদের দেশে সাধারণত যারা কোরআন হিফয করে, তারা তাদের উস্তাদজিকে কখনও ভাইয়া বলে সম্বোধন করে না। কিন্তু আমরা যার কাছে পড়েছি, তাঁকে ভাইয়াই ডাকতাম। মুফতি আব্দুল মালিক সাহেব ছিলেন, আমার এই হিফয উস্তাদজির সহপাঠী। তাই ওনাকেও আব্দুল মালিক ভাই ডাকতাম। এখন অবশ্য আর ভাই ডাকটা আসে না। তিনি যে মাপের মানুষ, তাঁকে ভাই ডাকার জন্যও ন্যূনতম একটি যোগ্যতা লাগে, যা আমার নেই।

যাই হোক,তাঁকে নিয়ে ছোট একটি গল্প বলতে চাচ্ছিলাম। আমার তখন ১২/১৩ বছর বয়স। হিফয বিভাগে পড়ি। তিনি একদিন আমাদের বাসায় আসলেন। সকাল ১০/১১টা হবে। সালাম মুসাফাহার পর বেশ কিছুক্ষণ গল্প করলেন। এরপর এক পর্যায়ে বললেন, তোমরা তো কোরআন শিখছ, আচ্ছা কোরআন নিয়ে একটি হাদিস শোনাও। আমাদেরকে উস্তাদজি মুখস্থ করিয়েছেন, আমরা আরবিতে একটি হাদিস শুনালাম। যার অর্থ হল, তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি যিনি কোরআন মাজিদ শিক্ষা করেন এবং শিক্ষা দেন। – সাহিহ বুখারি।
বেশ খুশি হলেন। এরপর তাঁর হাতের আরবি পুস্তিকাটি দিয়ে বললেন, দেখি, তুমি হাদিসটি এই বই থেকে বের করতে পার কিনা? আমি কিছুক্ষণ পাতা উল্টেপাল্টে দেখলাম। এরপর বললাম, নাহ এখানে হাদিসটি নেই।

Hadith Books

Photo credit: commons[dot]wikimedia[dot]org/wiki/File:Hadith_Books.jpg

আসলে হাদিসটি সেখানে ছিল। কিন্তু যের যবর ছাড়া পড়ার মতো যোগ্যতা আমার তখনও হয়নি। আরবি ব্যাকরণ কিছুই জানতাম না। তাই পুরো বইটিতে যের যবরযুক্ত কোনো বাক্য যখন পেলাম না, বলে দিলাম হাদিসটি নেই।তিনি মুচকি হেসে তখন কিতাবটি খুলে আমাকে দেখালেন, এই যে দেখ, হাদিসটি আছে। এরপর যে কথাটি বললেন, সেটা বলাই আমার এত কিছু লেখার পেছনে মূল উদ্দেশ্য।

“যখন তোমাকে এভাবে কিছু খুঁজে বের করতে বলা হবে, ভালমতো খুঁজে দেখার পর যদি পাওয়া না যায়, কখনও এভাবে বলবে না, (উদাহরণস্বরূপ) হাদিসটি এখানে নেই। হতে পারে, যেখানে তুমি খুঁজছ সেখানে ঠিকই আছে, কিন্তু তোমার চোখে পড়েনি। তাই তুমি বলবে, আমি খুঁজে পাচ্ছি না বা খুঁজে পাইনি।”

সেই ঘটনার পর চৌদ্দ-পনের বছর পার হয়ে গিয়েছে। এখনও এ ধরণের কোনো বাক্য বলার মতো পরিস্থিতি আসলেই আমার মুফতি সাহেবের কথা মনে পড়ে।

আজ মাগরিবের পর মসজিদের গেট থেকে বের হচ্ছি, দুই যুবক একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন। একজন হঠাৎ মন্তব্য করলেন, এ বিষয়ে কোনো হাদিস নেই। অথচ যে ব্যাপারটি নিয়ে তার এ মন্তব্য, সেটার ব্যাপারে শুধু হাদিস আছে এমন নয়, বরং “সাহিহ” পর্যায়েরই একাধিক হাদিস রয়েছে। মাসখানেক আগেও এ মানুষটির লাইফস্টাইল পুরো উল্টো ছিল। সম্প্রতি তিনি নামায-রোজা শুরু করেছেন। হাদিসের গ্রন্থগুলোর নাম বলতে বললে বুখারি মুসলিম ছাড়া আর কোনো কিতাবের নামও হয়তো বলতে পারবেন না। হাদিস খুজে দেখা এবং সেটা পাওয়া, না পাওয়া তো দূর কি বাত। অথচ তিনি কত সহজভাবে বলে দিলেন, এ ব্যাপারে নাকি হাদিসই নেই। কিছু বলতে গেলেই আবার ঝগড়া লেগে যাবে। তাই মনে মনেই দোআ করলাম,

আল্লাহ! আমরা যে মূর্খ, এটা বোঝার মতো জ্ঞানী আমাদের বানিয়ে দাও।

লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় এখানে: https://www.facebook.com/rksaninbd/posts/168528540171795

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s