কিয়ামত নিকটবর্তী? (অনুবাদ)

Daniel Haqiqatjou-এর একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস আপডেট থেকে অনুদিত। অনুবাদের ক্ষেত্রে ভাবানুবাদ রীতি অনুসরণ করা হয়েছে।  

Clock Tower, Makkah

Photo credit: Rehan Jamil, via flickr[dot]com/photos/rj-clicks-rehan-jamil/24036425790

কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়া সংক্রান্ত নিদর্শনসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। সহিহ মুসলিমের একেবারে প্রথম হাদিসটির কথাই ধরা যাক। সেখানে বর্ণিত হয়েছে যে, ফেরেশতা জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) একবার [মানুষের বেশ ধরে এসে] আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কয়েকটি নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন। তাঁর এই প্রশ্নগুলো ছিলো: ইসলাম কী? ঈমান কী? ইহসান কী? এবং, কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার আলামতসমূহ কী?

অসাধারণ এই হাদিসটি সম্পর্কে আরও পড়ুন এখানে।         

এখানে, কিয়ামতের আলামতসমূহ সম্পর্কে বলতে গিয়ে আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেন, “সম্পদ ও বস্ত্রহীন রাখালগণ উঁচু উঁচু প্রাসাদে দম্ভ করবে।” প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কথাটি বলেছিলেন আজ থেকে ১৪০০ বছরেরও বেশি আগে। কিন্তু, গত মাত্র এক দশকে আমরা এমনটি বাস্তবেই ঘটতে দেখছি। অমুসলিমরা, যারা কিনা এই হাদিসটি সম্পর্কে অবহিত নয়, তারা পর্যন্ত বলতে শুরু করেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের আরবরা আকাশচুম্বী অট্টালিকা তৈরির প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছে।

আমরা মুসলিমরা বিশ্বাস করি যে, আমাদের প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অবশ্যই সত্য বলেছেন, কেননা ভবিষ্যতের অনেক বিষয় সম্পর্কে তাঁকে আল্লাহর পক্ষ থেকে জ্ঞান দান করা হয়েছিল। কিয়ামত সম্পর্কে আমাদেরকে সতর্ক করা ছিলো নবী হিসেবে তাঁর অন্যতম প্রধান একটি দায়িত্ব। সাধারণভাবে তো বটেই, এমনকি সুনির্দিষ্টভাবেও কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার আলামতসমূহ সম্পর্কে তিনি আমাদেরকে জানিয়ে গেছেন, যদিও কিয়ামত কবে হবে তা একেবারে দিনক্ষণ ঠিক করে কোথাও বলা হয়নি। প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বা জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) – কাউকেই এবিষয়ে জ্ঞান দান করা হয়নি। এই বিষয়ের সুনির্দিষ্ট জ্ঞান আল্লাহ ছাড়া আর কারও কাছেই নেই।

তবে, কিয়ামত ঠিক কবে হবে সেবিষয়ে আমাদেরকে কোনো জ্ঞান দেওয়া না হলেও আমাদের চোখের সামনেই বাস্তবে রূপ নিতে দেখা উঁচু উঁচু অট্টালিকা নির্মাণ সংক্রান্ত এই হাদিসটিতে আমরা যারা মুসলিম তাদের জন্যে বেশ কিছু উপকারিতা রয়েছে, যেমন:

১। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে সত্য নবী ছিলেন এবং তাঁকে যে বার্তা দিয়ে প্রেরণ করা হয়েছিল তা যে সত্য সে বিষয়টি এর মাধ্যমে আমাদের অন্তরে আরও একবার দৃঢ়ভাবে গেঁথে গেল।

২। আমাদের জীবদ্দশায় আমাদের চোখের সামনেই এত বড় একটি নিদর্শন দেখার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য এবং তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী সত্য হওয়ার মাধ্যমে প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর একটি মহান মু’জিযা আমাদেরকে দেখানোর জন্য এটি আল্লাহর প্রতি আরও কৃতজ্ঞ হওয়ার একটি সুবর্ণ সুযোগ আমাদের জন্যে এনে দিয়েছে।

আমাদের চোখের সামনেই এত বড় মু’জিযার বাস্তবায়ন ঘটে যাচ্ছে, এরপরও অস্বীকার করার কোনো অজুহাত থাকতে পারে কি?

৩। কিয়ামত যে অনেক দূরের কোনো বিষয় নয় সেবিষয়ে আমাদের চোখের সামনে থেকে পর্দা সরে গেল। এখন প্রস্তুতির সময়। তওবার মাধ্যমে, বেশি বেশি নেক আমল করার মাধ্যমে এবং আত্মশুদ্ধি অর্জনের অবিরাম প্রচেষ্টার মাধ্যমে সেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার জন্য এখন থেকেই আমাদের প্রস্তুতি নিতে শুরু করতে হবে। পাশাপাশি, কিয়ামতের বড় আলামতসমূহ, যেমন ইমাম মাহদির আবির্ভাব, দাজ্জালের উত্থান এবং আসমান থেকে নবী ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর দুনিয়ায় পুনরাগমণ – এই নিদর্শনসমূহের প্রকাশ সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। আমাদের জীবদ্দশাতেই যদি এই নিদর্শনসমূহের প্রকাশ ঘটে যায় তাহলে সেক্ষেত্রে আমাদের সবার উপর অবশ্য করণীয় পর্যায়ের কিছু দায়িত্ব বর্তাবে, যার জন্য আল্লাহর কাছে আমাদেরকে জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা যাবতীয় ফিতনা থেকে আমাদেরকে হিফাযত করুন। আমরা যেন হককে হক এবং বাতিলকে বাতিল হিসেবে চিনতে পারি সেই তৌফিক তিনি আমাদেরকে দান করুন।

ইংরেজিতে মূল লেখাটি পড়ুন এখানে: https://www.facebook.com/haqiqatjou/posts/1702334446651937

আরও পড়ুন:

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s