আবু বকর (রা) যেদিন “আসসিদ্দিক” হলেন

আজ থেকে তিন চারশো বছর আগে যদি কাউকে বলা হতো, তোমার হাতে পাঁচ ইঞ্চি লম্বা একটি যন্ত্র দেয়া হবে,যেটার মাধ্যমে হাজার হাজার মাইল দূরে অবস্থিত কারো সাথে কথা বলা যাবে। এ কথা শুনে শ্রোতার প্রতিক্রিয়া তখন কেমন হতো? হয়তো বক্তাকে একটি ভাল ধরণের উত্তমমধ্যম খেতে হতো অথবা পাগল আখ্যা দিয়ে মানসিক হাসপাতালে নেয়া হতো। আবার আজ যদি এই একই কথা কাউকে বলা হয়, তখন এর প্রতিক্রিয়া কী হবে? সম্ভবত একই হবে। সবাই যে কথা জানে,তা জানানোর জন্য এই ব্যক্তিকেও পাগল আখ্যা দেয়া হবে, মানসিক রোগী বলে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হবে।

কিন্তু দেখুন না, সেদিন কী হয়েছিল! ১৪০০ বছর আগের সেই দিনটিতে।

Dome of the Rock at night

Photo credit: Usaid Abbasi, via flickr[dot]com/photos/usaidabbasi/8284374983

সকাল থেকেই সেদিন লোকজনের মাঝে আলোচনার বিষয়বস্তুু ছিল একটিই। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম – যিনি কিছুদিন আগে আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে রাসুল হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি জানিয়েছেন, গতকাল রাতে মক্কা থেকে বাইতুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত তিনি গিয়েছিলেন এবং ফজরের আগে ফিরেও এসেছেন। মক্কা থেকে বাইতুল মুকাদ্দাস- সেই যুগের এক মাসের পথ। শুধু তাই নয়, এর সাথে সাথে সাত আসমানও ঘুরে এসেছেন তিনি।

অবিশ্বাসীদের কথা না হয় বাদই দিলাম, খোদ মুসলিমদের মাঝে অনেকেরই টালমাটাল অবস্থা হয়ে গেল এ কথা শুনে। কেউ তো স্পষ্ট ভাষায় অস্বীকারই করে বসলো।

এক দিকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মতো এরকম সত্যবাদী একজন, আরেকদিকে এরকম অবিশ্বাস্য (?) বক্তব্য। কী করা উচিত? বিশ্বাস করব? কিন্তু সেটাই বা কিভাবে? এরকম কথা বিশ্বাস করা কি করে সম্ভব? 

আবু বকর (রা)। কিছুটা দূরে ছিলেন তিনি সেদিন। ছুটতে ছুটতে তার কাছে গেলেন কিছু মানুষ। যেই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এত বিশ্বাস করতেন, আজ তার সেই প্রিয় মুহাম্মাদের ব্যাপারে কী বলবেন তিনি?

আবু বকর রা. শুনলেন সব কথা। মনোযোগ দিয়েই শুনলেন। এরপর ছোট্ট একটি প্রশ্ন করলেন।

-সত্যিই কি তিনি এমনটি বলেছেন?

-জি।

– যদি তিনি এমন বলে থাকেন, তাহলে অবশ্যই তিনি সত্যই বলেছেন।

হতবাক, হতভম্ব, বিস্মিত হয়ে গেল সমস্ত মানুষ। এক রাতে মক্কা থেকে বাইতুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত সফর করে ফিরে আসার কথা আপনি বিশ্বাস করছেন? তাও সেটা এত সহজেই। নিশ্চিন্তে নিঃসঙ্কোচেই?

– অবশ্যই! কেন করবো না। এর চেয়েও আশ্চর্যজনক খবর আমি বিশ্বাস করি। তিনি আমাদের সকাল সন্ধ্যা আসমানের খবর দিয়ে থাকেন। যদি সেসব কথার উপর আমি ঈমান আনতে পারি, তাহলে এই কথার উপর কেন ঈমান আনবো না?

ভেবে দেখুন, সে সময়ের সে পরিস্থিতিতে এরকম কথার উপর ঈমান আনা, বক্তাকে সত্যায়ন করা কতটা কঠিন হওয়ার কথা ছিল। সময় ও স্থানকে সংকুচিত করার এত হাজারো নিদর্শন দেখার পরও আজ আমাদের মি’রাজের ঘটনার উপর ঈমান আনতে কষ্ট হয়, দ্বিধা দ্বন্দ্বে ভুগতে হয়। অথচ আধুনিক এ সমস্ত প্রযুক্তির লেশমাত্র সে যুগে না থাকা সত্ত্বেও রাসুলের কথাকে নিঃসঙ্কোচে নির্দ্বিধায় মেনে নিয়েছিলেন তিনি।

আয়েশা (রা) বর্ণনা করেন, এ ঘটনার পর থেকেই আবু বকর (রা)-এর উপাধি হয়ে গেল “আসসিদ্দিক”।

আবু বকর (রা)-এর ঈমান ও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিটি কথার উপর অগাধ বিশ্বাসের এটি কেবলমাত্র একটি উদাহরণ। এরকম হাজারো দৃষ্টান্ত ও নজির দিয়ে তার পুরো জীবনই ছিল ভরপুর।

রাদিআল্লাহু আন আবি বাকর। রাদিআল্লাহু আনহুম আজমাইন।

তথ্যসূত্র:
ক) আলমুসতাদরাক লিল হাকিম ৩/৬২
খ) আসসিলসিলাহ আসসাহিহাহ লিল আলবানী, ১/৩০৬

লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় এখানে: https://www.facebook.com/rksaninbd/posts/185524198472229

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s