সম্ভবত শায়খ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরকে আল্লাহ ভালোবাসতেন

আদাবরের একটা মাহফিলে গিয়েছিলাম শায়খ খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরের বক্তব্য শুনব বলে। শায়খ যখন এলেন তখন অন্য একজন আলিমের বক্তৃতা চলছে।

শায়খকে সবাই অনুরোধ করল মঞ্চে বসতে, তিনি জিহবা কেটে আমাদের সারিতে এসে বসলেন — আমাদের পাশে। তারপর মন দিয়ে কথা শুনতে লাগলেন।

যে তিনজন শায়খের মুখে সবসময় হাসি দেখেছি – ড. মানজুরে এলাহী, ড. জাকারিয়া এবং ড. জাহাঙ্গীর। কেমন করে পারেন জানি না। কথা বলতে বলতে ঘেমে যাচ্ছেন — পকেট থেকে রুমাল বের করে মুছছেন, ক্লান্তি নেই, মুখের হাসির বিরাম নেই। কীভাবে পারতেন?

Books of Khandaker Abdullah Jahangir

“ইসলামের নামে জঙ্গীবাদ” বইটা থেকে শায়খের কাছে শেখা শুরু। “এহইয়াউস সুনান” বাংলায় আমার পড়া ইসলামি বইগুলোর মধ্যে অন্যতম।

বিদআত কী একটা মাহফিলে এত সুন্দর করে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন বলার মতো নয়। কিছু কিছু মানুষকে আল্লাহ জ্ঞানের ভার দেন, সহজে কথা বলার সামর্থ্য দেন।

বেশ কয়েকদিন আগে সালাফী, আহলে হাদিস, কওমি – সব ঘরানার আলিমদের নিয়ে তিনি একটি একতার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। আহলে হাদিসদের মাহফিলে তিনি আমিন জোরে বলতেই হবে ফতোয়া দিয়ে তালি কুড়াতেন না। হানাফিদের মাহফিলে গিয়ে তিনি আহলে হাদিসদের গালি দিতেন না।

উভয়পক্ষকেই তিনি ধৈর্য্যের কথা বলতেন। সুন্নাহর ভিন্নতার কথা বলতেন। সহিষ্ণুতার কথা বলতেন। অনেকের মতে তিনি আপোস করতেন–মিথ্যা কথা। তাঁর মতো নিজ হাতে মাজার ভাঙা আলিম বাংলাদেশে কম-ই আছেন।

বলতেন, এক গ্লাস পানিতে কিছুটা মানব বিষ্ঠা আর এক পুকুর পানিতে কিছুটা মানব বিষ্ঠা এক নয়। শুধু একটা বিদআতের কারণে এক পুকুর আমল বাদ করে দেবেন না।

জানি না শেষ কবে এতটা কেঁদেছি। ফেইসবুক খুলে একেকটা লেখা পড়ে কান্না বেড়েই গেছে। কেন কেঁদেছি?

সম্ভবত শায়খ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরকে আল্লাহ ভালোবাসতেন। তিনি জিবরিল আমীনকে ডেকে জানিয়ে দিয়েছিলেন সে ভালোবাসার কথা। জিবরিল জানিয়েছিলেন আসমানের মালাইকাদের। সেখান থেকে দুনিয়ার মালাইকারা ভালোবেসেছিলেন তাকে। সেই ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়েছে দুনিয়ার মানুষদের মধ্যে। সারা দুনিয়ায় যেখানে বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম আছে সেখানেই তাকে ভালোবাসার মানুষ আছে।

চোখের পানি আমি একা ফেলেনি। আরো অনেক ফেলেছে।

যে কারণে ফেলেছে তার নাম আল্লাহর ভালোবাসা। আমরা আজকে আবার অনুভব করেছি আল্লাহর ভালোবাসা কাকে বলে।

আমি শায়খের জন্য সেই দুআ করছি যা রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম করেছিলেন:

হে আল্লাহ! শায়খকে ক্ষমা করুন, দয়া করুন, তাঁকে শান্তিতে রাখুন।
তাঁকে মাফ করুন, তাঁর অবস্থানকে মর্যাদা দান করুন।
তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন, পানি বরফ এবং শিলাবৃষ্টি দ্বারা তাঁকে ধৌত করুন।
অপরাধ থেকে তাঁকে পবিত্র করুন– যেমন সাদা কাপড়কে ময়লামুক্ত করা হয়। হে আল্লাহ! তাঁকে দুনিয়ার বাসভবন হতে উত্তম বাসভবন দান করুন,
তাঁর পরিবার হতে উত্তম পরিবার, তাঁর স্ত্রী হতে উত্তম স্ত্রী দান করুন,
তাঁকে জান্নাতে দাখিল করুন এবং রক্ষা করুন কবরের আযাব হতে, জাহান্নামের আযাব হতে। [সহীহ মুসলিম ২১০৩, ইফা]

লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় এখানে: https://www.facebook.com/sharif.abu.hayat/posts/10156840020160024

***

শায়খ খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরের (আল্লাহ তাঁকে কবুল করে নিন) কাজসমূহ থেকে খানিকটা হলেও উপকৃত হতে চাইলে ভিজিট করুন:

Advertisements

1 thought on “সম্ভবত শায়খ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরকে আল্লাহ ভালোবাসতেন

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this:
search previous next tag category expand menu location phone mail time cart zoom edit close