এই রামযান থেকেই শুরু হোক কুরআনে কারিমের শিক্ষা

Quran Mushaf

১।

ছোট বয়সে যাদের কুরআন শেখার সুযোগ হয়নি, এরকম কাউকে যখন কুরআন শেখার দাওয়াত দেওয়া হয়, তখন এদের অনেকেই একটি উত্তর দেন – ছোটবেলায় শিখিনি, এখন এত বড় হয়ে শিখতে কেমন যেন সংকোচ হয়!

ভাই ! ধরুন আপনি কোথাও যাচ্ছেন। পথে আপনার স্যান্ডেল ছিঁড়ে গেল। আপনি তখন কী করবেন? অবশ্যই মুচির কাছে যাবেন। তা এই মুচিরা কোথায় বসে? নিশ্চয়ই বড় কোন শপিং কমপ্লেক্সের এসি কোনো দোকানে নয়। বরং দুর্গন্ধযুক্ত ড্রেনের পাশে, ধূলিধুসরিত রাস্তার পাশে এদের পাওয়া যায়।

পদমর্যাদা সম্মান সবদিক দিয়েই এত বিশাল একজন মানুষ হওয়া সত্ত্বেও একজন সাধারণ মুচির কাছে সামান্য একটি স্যান্ডেল ঠিক করার জন্য আপনি তখন ড্রেনের পাশে দাঁড়াবেন। প্রখর রোদ সহ্য করে তা ঠিক করাবেন। কিন্তু এতে আপনার বিন্দুমাত্র সংকোচ হবে না।

অথচ মহান আল্লাহর কালামকে ঠিক করার জন্য, সঠিকভাবে তিলাওয়াতের জন্য যখন অভিজ্ঞ একজন কারী সাহেবের দ্বারস্থ হতে আপনাকে আহবান করা হয়, তখন আপনার এত সঙ্কোচ হয়?

২।

সেলুনে গিয়েছিলাম ইশার নামাজের পর চুল কাটাতে। যিনি চুল কাটেন, তাঁর নাম আব্দুল কাদির। অনেক আগে থেকেই পরিচিত। বছরখানেক হলো দাঁড়ি রেখেছেন। চুল কাটতে কাটতে বললেন,

ভাইয়া! আমি সূরা ফাতিহাটা একটু শুনাই। দেখেন তো ঠিক হয় কিনা।

– ছোটবেলায় হয়তো শুদ্ধ করে শেখা হয়নি, তাই প্রতিটি আয়াতেই উচ্চারণগত অনেকগুলো ভুল ছিল। সবগুলো ঠিক করার সময় যেহেতু এটা না, দুই একটা ধরলাম। এক দুইবার পড়িয়েও দিলাম, কিন্তু হচ্ছিল না।

আব্দুল কাদির ভাইয়ের মন খারাপ হয়ে গেল। সূরা ফাতিহাতে মাত্র কয়েকটি আয়াত, এতগুলো ভুল! শুদ্ধ করতে এত কষ্ট? অনেকটা চোখে পানি এসে যায় যায় অবস্থা।

তাঁর অবস্থা দেখে বললাম, ভাই! যে আল্লাহর কালাম আপনি শুদ্ধ করে পড়তে চাচ্ছেন, তাঁর আরেক নাম রহমান। মহা করুনাময়। এই যে আপনি ঠেকে ঠেকে পড়ছেন, খারাপ লাগছে, কী মনে হয়, এর কোনো প্রতিদান কি পাওয়া যাবে না?

হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, “কুরআনে পারদর্শী ব্যক্তি উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ফেরেশতাগনের সমমর্যাদাভুক্ত। আর যে ঠেকে ঠেকে কুরআন পড়ে, আর তাতে তাঁর কষ্ট হয়, তার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব।” (বুখারী ও মুসলিম)

আব্দুল কাদির ভাইয়ের মন ভাল হয়ে গেল। চোখে পানি চলে এল তাঁর, সেই সাথে মুখে এক চিলতে হাসি। কেমন ছিল দৃশ্যটা? সুন্দর না!

***

কুরআনে কারিমের শিক্ষা বলতে মূলত তিনটি স্তরের শিক্ষাকে বুঝানো হয়ে থাকে: (১) তিলাওয়াত শুদ্ধকরণ, (২) অর্থ শিখা এবং (৩) তাফসির জানা। একজন মুসলিম হিসেবে তিনটি স্তরেরই পরিপূর্ণ জ্ঞান থাকা উচিৎ ছিল আমাদের। কিন্তু প্রথমটিই এখন পর্যন্ত আমাদের অনেকের অর্জিত হয়নি। এই রামযান মাস থেকেই আমরা শেখা শুরু করতে পারি। চেষ্টার পরও যদি পরিপূর্ণ অর্জন না হয়, আমাদের জন্য সান্তনার হাদিস তো রয়েছেই –

“যে ঠেকে ঠেকে কুরআন পড়ে, আর তাতে তাঁর কষ্ট হয়, তার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব।”

লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় লেখকের ফেইসবুক প্রোফাইলে

আরও পড়ুন:

Photo credit: abd ulmeilk majed

Advertisements

One thought on “এই রামযান থেকেই শুরু হোক কুরআনে কারিমের শিক্ষা

  1. পিংব্যাকঃ কেন আরবি শিখতে হবে | আমার স্পন্দন

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s