যেসব কারণে দু’আ কবুল হয় না

Sultanahmet Camii, Istanbul

আমাদের অনেকের মনেই দু’আ কবুল না হওয়ার একটি অভিযোগ প্রায়ই আসে। আল্লাহর কাছে অনেক দু’আ করি, কিন্তু মনে হয় যেন কোনো লাভ হচ্ছে না।

প্রথম কথা হলো, দু’আ তিনভাবে কবুল হয়: (১) হুবুহু যেই বিষয়ে দু’আ করা হয়েছে তাই দেয়া হয়, (২) যা চাওয়া হয়েছে তার পরিবর্তে যেটা আমাদের জন্য অধিকতর উত্তম তা দেয়া হয় কিংবা এর পরিবর্তে কোনো বিপদআপদ বা মুসিবত তাকদিরে থেকে থাকলে সেটা সরিয়ে নেয়া হয়, এবং (৩) কোনো কোনো দু’আর প্রতিদান দুনিয়াতে দেয়া হয় না, বরং আখিরাতে দেয়া হবে। এবং সেই প্রতিদান ইন’শা’আল্লাহ এত বিশাল হবে, অনেকেরই হয়তো আফসোস হবে, সবগুলো দু’আর বিনিময়ই যদি এই জগতে দেয়া হতো, তাহলে কতই না উত্তম হতো।

তবে, এর সাথে সাথে মনে রাখতে হবে, এমন কিছু দোষ রয়েছে, যেগুলো কারো মধ্যে যদি থাকে অথবা এমন কিছু বিষয়ে সে দু’আ করে যা চাইতে নিষেধ করা হয়েছে, তাহলে এই দু’আ কবুল করা হয় না। এই দু’আর কোনো প্রতিদানও সে পাবে না। না দুনিয়াতে, না আখিরাতে। নিচে তিনটি উদাহরন দেয়া হলো – 

১। উপার্জন হারাম হওয়া: যদি কারো আয়ের উৎস হারাম হয়, তাহলে সে যতই দু’আ করুক, তার দু’আ কবুল হয় না। এমনকি নিচের হাদিসটিতে দেখা যাবে, চরম অসহায় অবস্থায় সে দু’আ করছে কিন্তু তার দু’আ কবুল হচ্ছে না।

আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হে লোক সকল! আল্লাহ তাআলা পবিত্র এবং তিনি শুধু পবিত্র বস্তুই গ্রহণ করেন। আল্লাহ তাআলা মোমিনদেরকে ঐ সকল নির্দেশই দিয়েছেন, যা তিনি দিয়েছেন তার প্রেরিত রাসূলগণকে। আর রাসূলদের প্রতি আল্লাহ তাআলার নির্দেশ ছিল এই যে, হে রাসুলগণ! পবিত্র বস্তু আহার কর এবং সৎকাজ কর। তোমরা যা কর সে বিষয়ে আমি পরিজ্ঞাত। … অত:পর রাসূল সা. সেই ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেন যে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে ধুলোবালি মিশ্রিত অবস্থায় এলোমেলো চুল নিয়ে দুই হাত আকাশের দিকে উঁচু করে বলতে থাকে: হে আমার রব! হে আমার রব! অথচ তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, এবং বস্ত্র হারাম, এমতাবস্থায় তার দোয়া কেমন করে কবুল হবে! – সহিহ মুসলিম

২। দু’আ করার পর আশা হারিয়ে ফেলা: আমরা অনেক সময়ই দু’আর তাৎক্ষনিক কোনো ফল না পেলে নিরাশ হয়ে যাই যে, সম্ভবত দু’আ কবুল হয়নি। আর এটিই তখন হয়ে যায় দু’আ কবুল না হওয়ার কারণ।

আবূ হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের কোনো ব্যক্তির দু’আ গৃহীত হয়; যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়ো করে; বলে, আমার প্রভুর নিকট তো দু’আ করলাম কিন্তু তিনি আমার দু’আ কবুল করলেন না।” – সহিহ বুখারি

৩। এছাড়াও, হারাম কোনো কিছুর জন্য দু’আ করা হলে সেটা কবুল হয় না। বরং আল্লাহ যেগুলোকে হারাম করেছেন, সেটা লাভ করতে চাওয়া আল্লাহ তাআলার সাথে এক প্রকার ঠাট্টা করার নামান্তর। যা ক্ষেত্র বিশেষে ঈমান নষ্ট হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে সঠিক বুঝ দান করুন।

লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় লেখকের ফেইসবুক প্রোফাইলে

আরও পড়ুন:

Photo credit: Stefano Corso

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s