সিয়াম পালনকারীর জন্য আনন্দের দুই উপলক্ষ

Iftar at home

আর অল্প কিছুক্ষণ পরেই ইফতার। চলছে রকমারী সব খাবারের আয়োজন। সারাদিনের ধকলে শরীরটা অবসন্ন। আর কুলোতে পারছে না। তৃষ্ণার্ত পাখির মতো অপেক্ষায় আছে কখন শুনবে আযানের মধুর ধ্বনি। সিয়াম ভেঙে মুখে পুরে দেবে সুমিষ্ট খেজুর আর পানি।

সারাদিন আড়ালে-আবডালে খেয়ে ফেললে, কেউ দেখার ছিল না। তবু খাওয়া হয়নি। বাহারী সব ইফতারির আয়োজন নিয়ে যখন টেবিলের সামনে বসে আছে, পানির গ্লাসের দিকে চোখ গেলে যখন আনমনেই ঢোক গিলে ওঠে, তখনো খাওয়া হচ্ছে না। অপেক্ষা ইফতারের সময়ের জন্য। মাগরিবের সময়ের জন্য।

আল্লাহর রাসূল (তাঁর উপর বর্ষিত হোক আল্লাহর শান্তি ও অনুগ্রহ), তিনি বলেছেন যে, সিয়াম পালনকারীর জন্য আনন্দের সময় দুটো। একটি হচ্ছে ইফতারের সময়…

আযান শোনার সাথে সাথে প্রথম যখন খেজুর মুখে দেওয়া হয়, তখন কি বর্ণনাতীত আনন্দ হয় না? প্রশান্তি আসে না? মনে হয় না যে, সারাদিনের কষ্টের প্রতিদান পাওয়া হচ্ছে?

হাদীসে দ্বিতীয় যে আনন্দের কথা বলা হয়েছে, সেটা হচ্ছে মহান আল্লাহর সঙ্গে দেখা হওয়া! মানুষ নিজ চোখে আল্লাহকে দেখবে। তার প্রভুকে দেখবে! এর চেয়ে আনন্দের আর কিছু হতে পারে না। জান্নাতবাসীদের জন্য জান্নাত পাওয়ার পরও সবচেয়ে আরাধ্য হবে সেই ক্ষণ: যখন দেখা হবে তার প্রভুর সঙ্গে।

আনন্দের মুহূর্ত দুটোর মধ্যে একটা মিল আছে: সারাদিন খাবার, পানীয়সহ আরও বেশ কিছু হালাল জিনিস থেকে দূরে থাকি আমরা। এটা আমাদের মধ্যে এক ধরনের ইচ্ছাশক্তি তৈরি করে। চাইলেই যেখানে আমরা হালাল থেকে দূরে থাকতে পারি—অথচ যেখানে লুকিয়ে খেয়ে ফেললে কেউ দেখার ছিল না—সেখানে আমরা হারাম এবং অপরাধমূলক কাজ থেকে দূরে থাকতে পারব না কেন? অবশ্যই পারব। সেই পারার প্রতিদান হচ্ছে ইফতারের আনন্দের মুহূর্ত।

আর দুনিয়ার গোটা জীবনে আল্লাহ যা কিছু নিষেধ করেছেন, তা থেকে দূরে থেকে আমরা লাভ করব তাঁকে দেখার অভূতপূর্ব সুযোগ। কেবল জান্নাতবাসীদের কপালেই জুটবে এটা। সারাজীবন ভর বিভিন্ন অশ্লীল ও অপরাধমূলক কাজ থেকে দূরে থাকার প্রতিদান এটা। শত প্রলোভন আর প্ররোচনাকে দমিয়ে রাখার ফলাফল সেটা। তাই সেটা হবে আরও বহুগুণ আনন্দের।

মাত্র কয়েক ঘন্টা হালাল থেকে দূরে থেকে ইফতারের সময় যদি অসাধারণ আনন্দানুভূতি হয়, তাহলে সারা জীবনের সাধনার পর আল্লাহকে দেখতে পাওয়ার আনন্দের অনুভূতি কেমন হতে পারে?

হ়াদীস-সূত্র: স়াহ়ীহ় আল-বুখারী, ১৯০৪।

লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় লেখকের ফেইসবুক প্রোফাইলে

আরও পড়ুন:

Photo credit: Raasiel 

Advertisements

One thought on “সিয়াম পালনকারীর জন্য আনন্দের দুই উপলক্ষ

  1. পিংব্যাকঃ এই সেই জান্নাত যা আমাদের জন্য প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে (অনুবাদ) | আমার স্পন্দন

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s