রাসুল (ﷺ)-এর তিনটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট যা খুব কম মানুষের মাঝেই পাওয়া যায়

Shadow

রাসুল (ﷺ)-এর চারিত্রিক গুণাবলির বিবরণ দিতে গিয়ে এক সাহাবী তাঁর তিনটি গুণ বর্ননা করেছেন:

ক) তিনি ছিলেন ব্যাথার সমুদ্রে নিমজ্জিত;
খ) তিনি থাকতেন সবসময় চিন্তিত; এবং
গ) কখনো তিনি স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলতে পারতেন না।

সাধারণভাবে চিন্তা করলে এই তিনটি অবস্থা একজন মানুষের কোনো গুণ হতে পারে না। বরং, সর্বদা দুঃখ-কষ্টে চিন্তিত ও অস্থির থাকা – এটা তো আল্লাহর এমন এক শাস্তির নাম যা থেকে স্বয়ং রাসুল (ﷺ) সবসময় আশ্রয় চাইতেন। তাছাড়া তাঁর ব্যাপারে তো একথাও রয়েছে যে, তিনি সবসময় হাসিখুশি থাকতেন। গোমড়া মুখে তাঁকে কেউ দেখেছে এমন কোনো বর্ণনা তো পাওয়া যায় না। তাহলে একইসাথে সবসময় চিন্তিত এবং হাসিখুশি কিভাবে থাকা সম্ভব? 

একারণেই অনেক মুহাদ্দিস[১] রাসুল (ﷺ)-এর ক্ষেত্রে এই তিনটি অবস্থাকে অস্বীকার করেছেন এবং হাদিসটিকে যায়িফ[২] বলার চেষ্টা করেছেন।

তবে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (র) হাদিসটির ব্যাখ্যা এমনভাবে করেছন যার দ্বারা স্পষ্ট হয় যে, এগুলো কোনো শাস্তি বা মানবিক দুর্বলতা ছিল না, বরং ছিল রাসুল (ﷺ)-এর এমন স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট যা খুব কম মানুষের মাঝেই পাওয়া যায়।

“তিনি ছিলেন ব্যাথার সমুদ্রে নিমজ্জিত, তিনি থাকতেন সবসময় চিন্তিত” – কেননা আল্লাহ তা’আলার শান ও মর্যাদা তিনি যতটা উপলব্ধি করতেন তা তাঁর মতো আর কারো বোঝার ক্ষমতা ছিল না। একদিকে আল্লাহর বড়ত্ব আর মহত্ত্বের অনুভূতি, অপরদিকে উম্মতের আমল-আখলাকে দুর্বলতা তাঁকে চিন্তিত ও ব্যাথিত করতো। এজন্যই তিনি আরেক হাদিসে বলেছেন, “আমি যা জানি তা যদি তোমরা জানতে তাহলে কম হাসতে, বেশি কাঁদতে”।

“কখনো তিনি স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলতে পারতেন না” – অর্থাৎ তিনি কখনো রিল্যাক্সড থাকতেন না। দায়িত্বমুক্ত নিশ্চিন্ত জীবনযাপনের অভ্যাস ছিল না তাঁর কখনো।

তিনি ওই অস্থিরতা থেকে আশ্রয় চাইতেন, যা মানুষকে তার স্বাভাবিক জীবনযাপনে বাঁধা সৃষ্টি করে। কিন্তু, তাঁর অস্থিরতা এমন ছিল না। দায়িত্ববোধ, উম্মতের ফিকির, আখিরাতের চিন্তা পরিপুর্ণ মাত্রায় থাকার পরও তিনি মানুষের সাথে স্বাভাবিকভাবে মিশতে পারতেন। হেসে হেসে কথা বলতেন।

সর্বোত্তম আখলাক ও ভারসাম্যপূর্ণ আচরণের অধিকারী ছিলেন আমাদের রাসুল। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় লেখকের ব্যক্তিগত ফেইসবুক প্রোফাইলে

***

সম্পাদকের সংযোজন:

[১] মুহাদ্দিস: হাদিসশাস্ত্রের ওপর বিশেষজ্ঞ।

[২] যায়িফ হাদিস: যে হাদিসের বর্ণনাসূত্রে কিছু ত্রুটি বিদ্যমান। মুহাদ্দিসগণ এই ধরণের হাদিসকে আমাদের নবী (ﷺ)-এর কথা, কাজ বা মৌন সম্মতি বলে নিশ্চিত করেননি, আবার বানোয়াট বলেও আখ্যায়িত করেননি। ইসলামের মূলধারার অধিকাংশ আলিমের মতে কুরআন ও সহিহ হাদিসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হলে এবং মূল কাজটি শরিয়তে অনুমোদিত থাকলে কোনো কাজের ফাযায়েল (অর্থাৎ, গুরুত্ব) বর্ণনার ক্ষেত্রে যায়িফ হাদিস ব্যবহার করা যায়। একইভাবে, আমাদের নবী (ﷺ)-এর চারিত্রিক ও শারীরিক বৈশিষ্ট এবং তাঁর মহান জীবনী বর্ণনার ক্ষেত্রে যায়িফ হাদিস ব্যবহার করা যায়। নির্দিষ্ট কোনো সাহাবীর বিশেষ মর্যাদা এবং ইতিহাস বর্ণনার ক্ষেত্রেও যায়িফ হাদিস ব্যবহার করা যায়। বিষয়টি নিয়ে আরেকটু বিস্তারিত জানতে চাইলে হাবীব আলী জিফরির এই ভিডিও ক্লিপটি দেখুন

আরও পড়ুন:

Photo credit: harikrish.h 

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this:
search previous next tag category expand menu location phone mail time cart zoom edit close