সময় যতই অস্থির হোক, আমরা যেন ভুলে না যাই আল্লাহ হলেন ‘আস-সালাম’

গুলশান যাচ্ছিলাম সকালবেলা। সোয়া নয়টা হবে। রোযার ঈদের আগের কুখ্যাত ঘটনার পর আজই প্রথম। ইন ফ্যাক্ট, আগেরবার গুলশান গেসি দুই কি তিন মাস আগে। আমার অফিস ওই এলাকা থেকে সরে আসার পর যাওয়া হয়ই না। একদিক দিয়ে ভালো, গুলশানের জঘন্য ট্র্যাফিক জ্যাম থেকে নিরীহ সাইকেলওয়ালা আমিও নিরাপদ ছিলাম না।

মহাখালী দিয়ে গুলশান ঢুকছি। ঈদের পর এখনও জ্যাম নাই ঢাকা শহরে। সেই ভেবে বের হয়েছি, কম সময় হাতে নিয়ে। মহাখালী ফ্লাইওভারের নিচে গিয়েই ভুল ভাঙলো। ঢাকা স্বরূপে ফিরছে। কায়মনে আল্লাহরে ডাকছি যেন তিনি সময়মতো মীটিং-এ যাওয়া সহজ করে দেন। তিতুমীর কলেজের পরে গাড়ি আর চলেই না। আমি দোয়ার গতি বাড়ায়ে দিলাম। ফার্স্ট ইম্প্রেশনই ভুল দিতে চাই না, প্রভূ।

সাইকেল চালানোর এই এক ঝামেলা! জ্যাম থাকুক আর নাই থাকুক, আমি এগযাক্টলি বলতে পারি কতক্ষণ লাগবে কোথায় পৌঁছাইতে। এই আকালেও! আলহামদুলিল্লাহ্‌, সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। আর ধন্যবাদ আমার বন্ধু তানভীরকে, যে আমাকে সাইক্লিং-এর সাথে রিইন্ট্রোডিউস করেছিল। আল্লাহ্‌ তার ভাল করুন। তো সাইকেল চালানোর ডাউনসাইড যেটা হয়েছে, আমি এখন ঢাকার রাস্তা/ দূরত্ব/ সময় কিছুই প্রেডিক্ট করতে পারি না, সাইকেল ছাড়া অন্য কোনো বাহনে। হরিবলি আউট অফ টাচ যারে বলে তাই। এমনও হইসে, পরিবার নিয়ে সিনেমা দেখতে বের হইসি, অর্ধেক পথেই শো টাইম হয়ে গেসে। ছেলের কান্না সামলাও। আজকের মীটিংটা বেশি ইম্পরট্যান্ট; লেইট হলে আমি গাছে। তাছাড়া I hate being late. আমি অপেক্ষা করতে রাজি, অপেক্ষা করাতে না।

যাই হোক, লেখার বিষয় থেকে অনেক দূরে চলে এসেছি। বক্ষব্যাধি হাসপাতাল পার হওয়ার পর বুঝলাম জ্যামের কারণ। পুলিশ চেকপোস্ট। এবং অতীব গুরুত্বের সাথে চেক চলছে। মিথ্যা বলবো ভয় পাই নাই বললে। একে মুখে দাড়ি, তার উপর নয়টা বিশের মিটিং ধরার তাড়া। আল্লাহ্‌র নাম নিলাম। পুলিশের চোখাচোখি হওয়া অ্যাভয়েড করলাম। চেক করল না, ছেড়ে দিল। আলহামদুলিল্লাহ্‌ বললাম মনে মনে। রাস্তা এরপর পুরা ফাঁকা। ড্রাইভার টান দিল ফাঁকা রাস্তায়। গুলশান ৬ নম্বর রোডে গাড়ি ঢুকল।

এইখানে একটা ছোট জটলা রাস্তার মুখেই। একটা সিএনজি, দুইটা পুলিশ ভ্যান, বেশ কিছু পুলিশ। আর ফুটপাথে শুয়ে আছেন বছর ষাটের এক বৃদ্ধ। লম্বা দাড়ি মুখে, মেহেদী দেয়া। হাপরের মতো উঠা নামা করছে তার বুক। ভাবলাম উনি মনে হয় অসুস্থ। গাড়ি স্লো করলাম। ভুল ভাঙল না শুধু, শক খাইলাম। অ্যাপারেন্টলি, ইনি একজন জঙ্গী! পুলিশ ধরে উত্তম মধ্যম দিয়েছে। এখন ধরে নিয়ে যাবে।

Broken

বউরে এসএমএস দিলাম ঘটনা জানায়ে। একটা দোয়া লিখলাম: God, Oh Lord, who is As Salam, the all Peace, grant us Salam. তরজমা পাঠক নিজেই করে নিয়েন। দোয়া একদম মন থেকে আসছে। এই অস্থির সময়ে শান্তি বড় দরকার। আর কে শান্তি দিতে পারেন, যিনি নিজেই শান্তি তিনি ছাড়া? যিনি শান্তির উৎস তিনি ছাড়া?

লম্বা ভূমিকা শেষে আমি অবশেষে যা নিয়ে লিখতে চাই, সেখানে পৌঁছে গেসি! আমি লিখতে চাই আল্লাহ্‌র সুন্দরতম নামের একটি السلام (আস সালাম) নিয়ে।

আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে লিখার আগে একটা ভূমিকা লিখা দরকার: আল্লাহ্‌র নাম কী, কেন, কে নামকরণ করেছেন, আমরা কি মন খুশি নাম দিতে পারি কি না, আল্লাহ্‌র নাম আসলে কতগুলা, ৯৯ নামের সারমর্ম কী, এইগুলা ভূমিকায় ক্লিয়ার করতে হবে। কিন্তু এই ভূমিকা আমি আজকে লিখছি না। পরের কিস্তিতে লিখব ইনশাআল্লাহ।

প্রথমেই বলে নিই, এই টপিক কেন, কোনো কিছু নিয়েই লেখার যোগ্যতা আমার নাই। আমি একজন কপি-পেইস্ট লেখক আর অনুবাদক। এই যে সিরিজ শুরু করছি, আল্লাহ্‌ জাল্লা জালালুহুর নাম (আসমা উল হুসনা), নিয়ে, এইটাও ইন্টারনেটের বিভিন্ন সোর্স থেকে নেয়া। প্রাইমারি সোর্স হবে এই রামাদান মাসে ডক্টর শাইখ ইয়াসির কাদী-র ডেইলি লেকচার, যা তিনি মেমফিস ইসলামিক সেন্টারে করেছেন। বিশটার মতো লেকচার আছে সিরিজে। শাইখের নিজের ইউটিউব চ্যানেল এবং মেমফিস ইসলামিক সেন্টারের ইউটিউব চ্যানেল, দুই জায়গায়ই পাবেন। আগ্রহীদের দেখে নিতে বলব। অসাধারণ হয়েছে উনার লেকচারগুলা। সংক্ষিপ্ত, কিন্তু সলিড।

আস-সালাম: 

السلام আল্লাহ্‌র এমন একটি নাম যা কুরআনে proper noun হিসেবে আসেনি। proper noun হিসেবে এসেছে, যেমন ধরেন: আস-সামি, আল-বাসির, আল আলিম, আল গাফুর এমন সব নাম। আস-সালাম কুরআনে এসেছে কনসেপ্ট হিসেবে, যাকে আরবরা বলে মাসদার। মাসদার বা ধারণা আদতে কোনো নাম বা noun নয়। ‘সালাম’ মাসদার থেকে উদ্ভূত নামগুলো (noun) হলো ‘সালিম’ (سالم) বা ‘সালীম’ (سليم)।

আল্লাহ্‌ নিজেকে বলছেন আস-সালাম। এই নাম তিনি নিজের জন্য একবার মাত্র ব্যবহার করেছেন কুর’আনে; সুরা হাশরের ২৩ নম্বর আয়াতে:

59:23

তিনিই আল্লাহ তিনি ব্যতিত কোনো উপাস্য নেই। তিনিই একমাত্র মালিক, পবিত্র, শান্তি ও নিরাপত্তাদাতা, আশ্রয়দাতা, পরাক্রান্ত, প্রতাপান্বিত, মাহাত্মশীল। তারা যাকে অংশীদার করে আল্লাহ তা’আলা তা থেকে পবিত্র।

السلام এর মোটামুটি অর্থ সবার জানা। আমরা একে অপরকে সালাম দেই। আমাদের ধর্মের নামের উৎসও সালাম। ইসলামের অনুসারীদের মুসলিম নামের উৎসও এটি। যেকোনো সাধারণ মুসলিম বলবে যে, এর অর্থ শান্তি। السلام এর এই অর্থ টেকনিক্যালি সঠিক, কিন্তু সম্পূর্ণ সঠিক না। এটা অতিমাত্রায় সরলীকৃত একটি অর্থ। السلام হলো মন্দ, খারাপ বা অনিষ্টের অনুপস্থিতি। শান্তি বললে কিছুটা ভাব প্রকাশ পায়, কিন্তু পুরো অর্থ আসে না।

আল্লাহ্‌র নাম সাপেক্ষে السلام –এর তিনটি অর্থ হয়:

১। আল্লাহ্‌র নিজের কোনো negative বা নেতিবাচক গুণ বা ধর্ম নাই। তিনি সকল অসম্পূর্ণতা বা দোষত্রুটির ঊর্ধ্বে। তার মানে দাঁড়াচ্ছে আল্লাহ্‌, السلام হলেন নিখুঁত, ত্রুটিহীন, নিষ্কলঙ্ক। যেহেতু আল্লাহ্‌ হলেন السلام, সেহেতু তার কোনো অংশীদার নাই; তার কোনো ছেলেমেয়ে নাই; তিনি ঘুমান না, ভুলে যান না। তিনি সকল দিক দিয়ে নিখুঁত, পারফেক্ট। এই অর্থ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর একটি হাদীসে এসেছে, যেখানে তিনি বলেন:

والشر لىس اليك

হে আল্লাহ, আমরা তোমার প্রতি কোনো অনিষ্ট আরোপ করি না।

কারণ, আস-সালাম অনিষ্টের উৎস হতে পারেন না। নেতিবাচক কোনো কিছু আস-সালাম এর উপর আরোপ করা যাবে না। সুতরাং আস-সালামের প্রথম অর্থ এই যে, আল্লাহর কোনো অসম্পূর্ণতা নেই, কোনো চারিত্রিক ত্রুটি নেই, ঘাটতি নেই।

২। সালামের উৎস হলেন আস-সালাম।

সালামের মানে হলো মন্দের অনুপস্থিতি, নিরাপত্তাহীনতার অভাব। শান্তি। কে আমাদেরকে নিরাপত্তা দেয়? কে চূড়ান্ত শান্তি দিতে পারে?  আস-সালামই শান্তির একমাত্র উৎস। আমরা কোথা থেকে তৃপ্তি পেতে পারি?  কে আমাদেরকে পূর্ণতার বা সন্তুষ্টির অনুভূতি দেয়? একমাত্র আস-সালামই পারেন আমাদের তৃপ্তির অনুভূতি দিতে। সুতরাং, আল্লাহ আমাদের শান্তি-স্বস্তি-নিরাপত্তা দান করেন। আর সবচেয়ে পরম শান্তি এবং ক্ষতি থেকে মুক্তি হলো এই যে, তিনি আমাদেরকে তাঁর আযাব থেকে রক্ষা করেন এবং আমাদের জান্নাতে প্রবেশ করান। শুধুমাত্র আস-সালামই আমাদের চূড়ান্ত শান্তি দিতে পারেন।

৩। আস-সালাম হলেন তিনি যিনি তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারীদের সালাম দিয়ে অভিবাদন জানাবেন। আল্লাহ সালাম দিয়ে মুমিনদের অভিনন্দিত করবেন:

33:44

যেদিন আল্লাহর সাথে মিলিত হবে; সেদিন তাদের অভিবাদন হবে সালাম। … (সূরা আহযাব: ৪৪)

আল্লাহ যেন আমাদেরকে তাদের মাঝে শামিল করে নেন, আমীন।

এই তিনটি হলো আল্লাহর নাম আস- সালামের অর্থ।

***

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা উল্লেখ করতে হয়। প্রথম মানুষ, আমাদের পিতা আদমকে আল্লাহ্‌র শেখানো প্রথম কথা কী ছিল জানেন? সালাম!

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “আল্লাহ্‌ আদমকে সৃষ্টি করে যখন আদমকে প্রাণ দিলেন, তিনি আদমকে বললেন, ওই ফেরেশতাদের কাছে যাও এবং তাদেরকে বলো “االسلام عليكم و رحمت الله” আর তারা কী জবাব দেয় তা মনে রাখ। কারণ এটা হবে তোমার এবং তোমার পরে শেষ বিচারের দিন পর্যন্ত তোমার যত সন্তান আসবে তাদের সবার অভিবাদন।”

এর মানে দাঁড়ালো আদম প্রথম যে কথা শিখলেন তা হলো আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আর ফেরেশতারা ওয়া বারাকাতুহু যোগ করে জবাব দিলেনঃ و عليكم االسلام و رحمت الله و بركاته

ওয়া আলাইকুম আস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আদম কথাগুলো মনে রাখলেন। আদম ও অন্যান্য নবীদের উপর বিশ্বাস রাখা সকল বিশ্বাসী সেইদিন থেকে একে অন্যকে সালাম দিয়ে অভিবাদন জানানো শুরু করলেন। ইহুদীদের Shalom Aleichem অথবা খ্রিষ্টানদের pax vobiscum, এসবই আসলে সালামেরই বিভিন্ন রূপ। সবই আব্রাহামিক কালচার, যা যুগ যুগান্তর ধরে বেঁচে আছে।

***

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাদীনা যাওয়ার পর প্রথম কিসের আদেশ দিয়েছিলেন জানেন? সালামের প্রসারের! ইহুদী ধর্মগুরু থেকে মুসলিম হওয়া বিখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে সালামের বিখ্যাত হাদীসে এর উল্লেখ আছে। তিনি বলেন, “প্রথম কথা যেটা আমি রাসুলুল্লাহকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতে শুনি সেটা হলো, “হে লোকেরা, সালাম ছড়িয়ে দাও। মানুষকে খাওয়াও। আত্মীয়স্বজনের সাথে ভাল সম্পর্ক রাখ, আর রাতের বেলা যখন অন্যেরা ঘুমায়, তখন নামায পড়। তাহলে নিরাপত্তার সাথে জান্নাত লাভ করবে।””

***

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সাহাবাদের প্রথম নামায শিখালেন, প্রথম প্রথম তাদের আত্তাহিয়্যাতু শিখান নাই। শুধু বলেছিলেন বসে আল্লাহ্‌র প্রশংসা করতে। সাহাবারা নিজের মতো প্রশংসা করতে লাগলেন। কেউ কেউ বেশ সৃজনশীলতার পরিচয় দিলেন! একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুনলেন কেউ বলছেন:

السلام على الله, السلام على جبرىل, السلام على رسول الله.

অর্থাৎ, আল্লাহ্‌র উপর সালাম, জিব্রীলের উপর সালাম, রাসুলুল্লাহর উপর সালাম।

সাহাবারা আল্লাহ্‌র উপর সালাম পাঠিয়ে তাঁর প্রশংসা করতে চাচ্ছিলেন।

কিন্তু আল্লাহ্‌র রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে বললেন:

اِنِّا اللّه هُوَ السَّلام

আল্লাহ্‌ নিজেই সালাম।

আল্লাহ্‌র উপর সালাম পাঠানো যাবে না। কারণ তিনিতো নিজেই সালামের উৎস! যখন কেউ আল্লাহ্‌র উপর সালাম পাঠাবে, সেই সালাম আসবে কোত্থেকে? এই ঘটনার পর তিনি সাহাবাদের আত্তাহিয়্যাতু শিখায়ে দেন।

***

আল্লাহ্‌, আস-সালাম, আমাদের ডাকেন তাঁর ঘরের দিকে। যে ঘরকে তিনি বলেছেন শান্তির ঘর, دار السلام। আল্লাহ্‌ আমাদেরকে ডাকেন জান্নাতের দিকে। আর জান্নাতকে তিনি বলছেন শান্তির ঘর।

10:25

আল্লাহ্‌ আহ্বান করেন শান্তির ঘরের দিকে। … (সূরা ইয়ুনুস: ২৫)

শান্তির ঘরে যাওয়া যায় কেমন করে? একটা মাত্র পথ। শান্তির পথ। শান্তির পথে হেঁটেই কেবল শান্তির ঘরে পৌঁছানো যায়। এইটা আমার কথা না, আল্লাহ্‌র কথা:

5:16

এর দ্বারা আল্লাহ যারা তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করে, তাদেরকে শান্তির/ নিরাপত্তার পথ প্রদর্শন করেন। … (সূরা মা’ইদা: ১৬)

মানে দাঁড়াচ্ছে এই যে, আল্লাহ্‌ তাঁর পথকে (সিরাতুল মুস্তাকিম) বলছেন সুবুলাস সালাম। সাবীল মানে রাস্তা। তাইলে আল্লাহ্‌ ডাকছেন কোন রাস্তায়? শান্তির রাস্তায়, সালাম-এর রাস্তায়। আর এই সালাম-এর রাস্তা নিয়ে যায় দারুস সালাম এর দিকে, যা কিনা শান্তির ঘর। আর কে আমাদের এই পথে নিয়ে যান? আল্লাহ্‌, আস-সালাম!

কীভাবে সালাম-এর পথে হাঁটা শুরু করা যায়? আল-ইসলামে প্রবেশ করে আল্লাহ্‌র (আস-সালাম) কাছে পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণ করার মাধ্যমে! মানে হলো, আমরা যখন ইসলাম চর্চা বা অনুসরণ করি আমরা তখন শান্তির রাস্তা ধরে শান্তির ঘরের দিকে আগায়ে যাই (হওয়ার কথা যদি আমরা আসলেই ইসলাম অনুসরণ করি।)

শান্তির রাস্তা ধরে চলা সহজতর করার একটি উপায় হচ্ছে সালামের প্রসার করা। আমাদের রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যার হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম! যতক্ষন তোমরা একে অন্যকে ভালো না বাসবে, জান্নাতে ঢুকতে পারবে না। আমি কি তোমাদের এমন একটা জিনিস বলব না, যা তোমাদের একে অপরকে ভালবাসতে সাহায্য করবে? নিজেদের মধ্যে সালামের প্রসার কর।”

তাহলে পুরা ব্যাপারটা দাঁড়ালো এরকম যে, আমাদের আদেশ করা হয়েছে সালামের (শান্তির) প্রসার করতে, যাতে করে আমরা শান্তির রাস্তা ধরে হাঁটতে পারি, যে পথ আমাদের নিয়ে যাবে শান্তির ঘরের দিকে! এর থেকে সহজ করে আর কীভাবে বলা যায়? এর পরেও কি কারো সন্দেহ থাকতে পারে যে, ইসলামের নাম নিয়ে আল্লাহু আকবর বলে যারা অশান্তি ছড়াচ্ছে, তারা ভুল পথে রয়েছে?

***

আল্লাহর নাম আস-সালাম একটি প্রচণ্ড শক্তিধর নাম। এই নামের মাধ্যমে আমরা আল্লাহর কাছে শান্তি খুঁজি। আমাদের মন যখন অস্থির বা উদ্বিগ্ন হয়, তখন আমাদের উচিৎ আস-সালাম নামের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে শান্তি চাওয়া। যখন এই পৃথিবীর সমস্যায় আমরা জর্জরিত হয়ে পড়ি, তখন আমাদের কায়মনে আল্লাহর কাছে চাওয়া উচিৎ: হে আস-সালাম, আমাদের শান্তি দাও।

আর তাই আমরা দেখি প্রত্যেকবার নামায শেষে প্রথম যেই দু’আ আমাদের রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম করতেন সেটা হলো:

اللهم انت السلام و منك السلام تباركت ىا ذا الجلال والإكرام

হে আল্লাহ, তুমি আস-সালাম। শান্তির উৎস তুমি। পবিত্র তুমি, সকল মহিমা আর মর্যাদা তোমার।

নামাযের থেকে বেশি শান্তি আর কিছুতে পাওয়া যায় না। আর তাইতো আমাদের রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামায শেষে আমাদের যেন মনে করিয়ে দিচ্ছেন: হে আল্লাহ, তুমি শান্তি, আর তোমার থেকেই সকল শান্তি।

***

আমাদের সবার চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিৎ শান্তি ছড়িয়ে দেয়া, ইসলামের চর্চা করা, শান্তির পথে চলা, যেন আমারা শান্তির ঘরে পৌছতে পারি। যেখানে আস সালাম আমাদের সালাম জানিয়ে স্বাগত জানাবেন।

36:58

করুণাময় পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাদেরকে বলা হবে সালাম। (সূরা ইয়া সিন: ৫৮)

যখন আল্লাহ, আস-সালাম কাউকে সালাম জানান, তাকে কি আর কোনো মন্দ বা অনিষ্ট স্পর্শ করতে পারে? কে তার ক্ষতি করতে পারবে যাকে আল্লাহ নিজে শান্তি-স্বস্তি-নিরাপত্তা দিবেন? আর তাই জান্নাতের অধিবাসীদের অভিবাদন জানানো হবে সালাম দিয়ে, আর তারাও নিজেদের মধ্যে সালাম বিনিময় করবে। কারণ শান্তির ঘরে বাস করার মূল কথাই এইটা যে ওখানে আপনাকে আর কোনো ব্যাথা, বেদনা, দুঃখ, কষ্ট ছুঁবেও না। কারণ চিরস্থায়ী শান্তি আল্লাহ আপনাকে দিয়ে দিবেন যেদিন আপনি শান্তির ঘরে প্রবেশ করবেন। আল্লাহ যেন আমাদের তাদের মধ্যে শামিল করে নেন, যারা আস-সালামের কাছ থেকে সালাম পাবে শান্তির ঘরে প্রবেশের সময়।

***

ইংরেজিতে মূল লেকচারটি দেখুন এখানে:

Photo credit: Tom Butler 

Advertisements

7 thoughts on “সময় যতই অস্থির হোক, আমরা যেন ভুলে না যাই আল্লাহ হলেন ‘আস-সালাম’

  1. আমাদের আদেশ করা হয়েছে সালামের (শান্তির) প্রসার করতে, যাতে করে আমরা শান্তির রাস্তা ধরে হাঁটতে পারি, যে পথ আমাদের নিয়ে যাবে শান্তির ঘরের দিকে! এর থেকে সহজ করে আর কীভাবে বলা যায়? এর পরেও কি কারো সন্দেহ থাকতে পারে যে, ইসলামের নাম নিয়ে আল্লাহু আকবর বলে যারা অশান্তি ছড়াচ্ছে, তারা ভুল পথে রয়েছে?
    That’s absolutely brilliant.

    1. শেইখ ইয়াসিরের লেকচার থেকে হুবহু অনুবাদ। অসাধারণ হয়েছে উনার লেকচারগুলো। মাস্ট ওয়াচ/ লিসেন।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this:
search previous next tag category expand menu location phone mail time cart zoom edit close