ফাতিমা (রা): মানবজাতির সর্বশ্রেষ্ঠ চারজন মহিলাদের একজন

sunset-joshua-tree

ফাতিমা (রা) ছিলেন রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কলিজার টুকরো। ভালোবাসার আতিশয্যে, খুশির তীব্রতায় রাসুল দাঁড়িয়ে যেতেন যখন ফাতিমা (রা) হাজির হতেন তাঁর সামনে। নিজে আরামআয়েশে থাকতেন না, খেয়ে না খেয়ে জীবন কাটিয়েছেন, কিন্তু নিজের মেয়ের জন্য তিনি চাইলে একটি আরামের জিন্দেগির ব্যবস্থা খুব সহজেই করতে পারতেন। 

অথচ বিয়ে দিয়েছিলেন তাঁকে সেই সময়ের সবচেয়ে গরিব সাহাবীদের একজন, আলী (রা)-এর সাথে। কিন্তু রাসুলের ভাষায়, তিনি ছিলেন সর্বোত্তম পাত্রের একজন। গায়ে দেয়ার মতো জামাটুকু যার ছিল না। একবার রাস্তায় পড়ে থাকা একটি চামড়ার টুকরোকে গলার কাছ দিয়ে ছিদ্র করে গায়ে জড়িয়েছিলেন, এরপর বের হতে হয়েছিল খাবারের তালাশে।

 

ঘরের সব কাজ একাই করতে হতো ফাতিমা (রা)-কে। সমস্ত বিশ্বের জন্য যাকে রাসুল হিসেবে পাঠানো হয়েছে, তাঁর মেয়ে হয়ে ঘর ঝাড়ু দিতেন তিনি, যাতা পিষতেন তিনি। পিষতে পিষতে ফোষ্কা পড়ে যেত তাঁর মুবারক হাতে।

হ্যাঁ, প্রতিদিন সকালে নাস্তার জন্য দুই প্রকারের ফ্রেশ ভাজি আর তরকারী রাধতে হতো না তাঁকে। একদম চুলা থেকে নামানো এখনি সেঁকা গরম গরম রুটি, ফলোড বাই টাটকা বানানো চাও সার্ভ করতে হতো না। এসব বড়লোকি খাবার যে জুটতোই না তাঁদের।

একজন কাজের বুয়া চাইতে গিয়েছিলেন তিনি একবার রাসুলের কাছে। প্রচুর গনিমতের মাল এসেছিল তখন। কিন্তু লজ্জার কারনে চাইতে পারেননি। পরবর্তীতে আলী (রা) তাঁর পক্ষ থেকে অনুরোধ করলেন। ঘরের কাজ একা করতে ফাতিমা (রা)-এর কষ্ট হচ্ছে, বললেন রাসুলকে। কিন্তু রাসুল তাঁকে কাজের বুয়া দেননি। বরং বলেছেন, এর থেকে উত্তম কিছু আমি দিলে, নিবে? রাতে শোয়ার পূর্বে ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ,৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবর পড়বে।

নিজেকে একবার ফাতিমা (রা)-এর স্থানে বসিয়ে চিন্তা করি। আমি হলে কী উত্তর দিতাম? খুশি হতাম, না রাগ হতাম? আর তাঁর প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল!

হ্যাঁ, ফাতিমা (রা)-এর নাম স্কলার সাহাবীদের তালিকায় নেই, কিন্তু তিনি হবেন সমস্ত জান্নাতি নারীদের প্রধান (সায়্যিদাহ)। হ্যাঁ, তাঁর নাম বিদ্বান সাহাবীদের তালিকায় নেই, কিন্তু তিনি ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ চারজন মহিলাদের একজন।

আল্লাহর কাছে মানসম্মানের ভিত্তি তাক্ব্বওয়া। রাসুলের কলিজার টুকরো ফাতিমা (রা) ছিলেন সেই সম্মানেই সম্মানিত।

সায়্যিদাতু নিসা-য়ি আহলিল জান্নাহ, ফাত্বিমাহ রদ্বিআল্লাহু আনহা।

মূল লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় লেখকের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে। 

***

সম্পাদক কর্তৃক সংযোজিত পাদটীকা:

ক বিশেষ মর্যাদাপ্রাপ্ত এই চারজন মহিলা হলেন:

১) মরিয়ম বিনতে ইমরান,

২) খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ,

৩) ফাতিমা বিনতে মুহাম্মদ (সা.), এবং

৪) ফেরাউন পত্নী আসিয়া।

Advertisements

2 thoughts on “ফাতিমা (রা): মানবজাতির সর্বশ্রেষ্ঠ চারজন মহিলাদের একজন

  1. পিংব্যাকঃ আবু সুফইয়ান: ছিলেন প্রতিপক্ষ, হলেন সাহাবী | আমার স্পন্দন

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s