জীবনে প্রতিনিয়ত আসা পরিবর্তনের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি যেমনটি হওয়া চাই

watch-tower-near-flower

পরিবর্তন আমরা পছন্দ করি না। আমরা পরিবর্তনকে সন্দেহের চোখে দেখি। পরিবর্তন সবসময়ই খারাপ না। পরিবর্তনের প্রতি রিজিডিটি না দেখিয়ে আদৌ সে পরিবর্তনের দরকার আছে কি না সেটা নিয়ে আলাপ আলোচনা করে তারপর সিদ্ধান্ত নিলে ভালো হয়। পরিবর্তনের ডাক দিয়েছে অতএব সে খারাপ – এটা ভয়ের চিহ্ন। কয়েকটা উদাহরণ দেই –

প্যারেন্টিং

প্যারেন্টিং-এর ধরণ বাচ্চার বৃদ্ধির সাথে সাথে বদলানোর কথা। কারণ, বাচ্চা বয়সের সাথে সাথে বিভিন্ন ব্যাপারে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠে। কোনো বিষয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার পরেও বাবা ও মা যদি সেটা নিয়ে প্যারেন্টিং করার চেষ্টা করে তখন বাচ্চার আঁতে ঘা লাগে। সে তখন রেজিস্ট করে। যদি তাকে উপর্যুপরি শাসন করে থামিয়ে দেয়া হয় তখন তাকে দুইটার একটা বেছে নিতে হয়: স্বাবলম্বী হওয়ার ইচ্ছা অথবা বাবা মা কে খুশি করার ইচ্ছা।

বয়সের সাথে প্যারেন্টিং-এর রোল বদলাতে আগ্রহী না হলে বাচ্চার বিকাশটা কেমন হবে?

– নিজের খাওয়ার প্রয়োজন অনুযায়ী না খেয়ে বাইরের জোরাজুরিতে খাবে। একসময় খাবার ও স্বাস্থ্যের মধ্যে যোগাযোগ কী সেটার ব্যাপারেও উদাসীন হয়ে যাবে, শেষ পর্যন্ত খাবার যে পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের জন্যই খাওয়া সেটা ভুলে যাবে এবং আল্টিমেটলি স্বাস্থ্যের দিকে মনোযোগ হারিয়ে ফেলবে। বাচ্চা নিজের প্রয়োজন বুঝে খাবার ডিমান্ড করতে পারার কথা দুই বছরের মধ্যেই। সময়টা নিশ্চিত না থাকলে ডাক্তারের থেকে শুনে নিলে ভালো।

– বাচ্চা যখন স্কুলে যাবে তখন সে আদরের নয়নমণি গুলুগুলু লাড্ডু না, আর বিশটা বাচ্চার মধ্যে একজন। সুতরাং সবার মধ্যমণি না হয়ে থাকলে কীভাবে অন্যদের আপাত উদাসীনতা, জাজমেন্ট সহ্য করে চলতে হয় সেটা বাচ্চারা প্রথম দিকে বুঝতে পারবে না। তারা ইনসিকিওর ফীল করবে। তখন বাবা মা অল্প অল্প করে তাকে এর মধ্যে ঢুকিয়ে দিতে সাহায্য করবে। সেসময় সবার সামনে খাওয়া নিয়ে জোরাজুরি করলে অথবা সবাই মিলে গোল হয়ে বাচ্চার ডেভেলপমেন্ট রিলেটেড সমালোচনা করলে বাচ্চা নিজের মতো করে এক্সপ্লোর করার আত্মবিশ্বাসটা পাবে না। সোশ্যাল সেটিং-এ বাবা মা লেইড ব্যাক থাকলেই ভালো। অন্যদের সাথে বন্ডিং-এর জন্য যতটুকু দরকার সেটা বাদে বাকি সময়টা বাচ্চা নিয়ে মাতামাতি কম করলে ভালো। ঘরে আসার পর বুলিইং, সোশ্যাল এংজাইটি এসব নিয়ে কখনো যদি বাচ্চা কিছু শেয়ার করে তাহলে “তোমাকে এটা করতেই হবে” এমন কথা না বলে কীভাবে সেটা হ্যান্ডেল করা যায় এটা নিয়ে ওর মতামত শুনতে চেষ্টা করতে হবে। পুরো ব্যাপারটার মধ্যে ও ডিসকাশনের পার্ট হলে ওই আস্তে আস্তে বুঝতে পারবে। প্লাস, সেসময় জাজমেন্ট একেবারেই করা যাবে না। এবং এই পার্সোনাল বিষয়গুলো অন্য অ্যাডাল্টদের সাথে গল্পচ্ছলে বলা যাবে না।

– বাচ্চা যখন পিউবার্টিতে আসে তখন তার মনোযোগ থাকে সমবয়সী অন্যদের কাছে অ্যাক্সেপ্ট্যান্স পাওয়ার দিকে। তখন সে তার লুক-এর দিকে বেশি মনোযোগী হতে পারে, পিয়ার প্রেশারে ফ্যাশনের দিকে ঝুঁকতে পারে, দামি ডিভাইস এসব দাবি করতে পারে। এসবে হার্ড লাইনে না গিয়ে এর আগে থেকেই বিভিন্ন ইকোনমিক স্ট্যাটাসের তার বয়সী বাচ্চাদের সাথে মেশার সুযোগ করে দিলে ও কম্পারিজনটা সবার মধ্যে করতে পারবে। প্লাস, সেসময় কনফিডেন্স বুস্ট করাটা খুব জরুরি। টিনএজ-এ বাচ্চা আইডেন্টিটি তৈরি করে। সে যেসব বিষয়ে ভালো সেগুলো নিয়ে বারবার আলোচনা করা, যেসব বিষয় পছন্দ করে সেগুলোতে এক্সপোজার দেয়া, পরিবারের বয়স্কদের সাথে যদি সময় কাটাতে পছন্দ করে সেটাতে উৎসাহী করা – এগুলি করতে হবে। কারণ টিনএজ-এর ধর্মই হচ্ছে বাবা মায়ের থেকে দূরে সরে যাওয়া। বিদ্রোহ করার মাধ্যমে আইডেন্টিটি ক্রিয়েট করার চেষ্টা করা। সেসময় বাবা মা যদি প্রস্তুত না থাকে তাহলে ছেলেমেয়ের সাথে একটা বড় গ্যাপ তৈরি হয়ে যাবে যেটা পরে ঠিক করতে অনেক কষ্ট হয়। এই সময়টাতে যেটা করা উচিৎ তা হলো খুব খেয়াল করে ওর বন্ধুবান্ধবদের বাবামায়েদের সাথেও বন্ডিং তৈরি করে রেগুলার ফ্যামিলিগুলো একসাথে হওয়া, বা আত্মীয়দের মধ্যে অনুসরণীয় টিনএজার থাকলে তাদের সাথে মেশার সুযোগ বাড়িয়ে দেয়া।

– বাচ্চা স্কুল কলেজ পার করে ইউনিভার্সিটিতে উঠে গেলে ওকে রেগুলার ডিসিশন মেকিং-এর পার্ট করে নেয়া। কারণ, চার বছর পরেই সে উপার্জনে যাবে বা উপার্জনকে জীবনের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোতে রূপ দেবে (খাবার, সেবা, মানসিক সাপোর্ট), নিজের পরিবার তৈরি করবে, অর্থাৎ কলেজের মধ্যেই তার আইডেন্টিটি সম্পর্কে যেন একটা ভালো ধারণা তৈরি হয়ে যায়। তারপর থেকে হবে ওর উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন কমপ্লিকেটেড বিষয় গুলিতে কীভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয় তার শিক্ষা দেয়া।

– আন্ডারগ্র্যাড শেষ করে চাকুরি/উচ্চশিক্ষা/পরিবার গঠন – এসবে চলে গেলে বাবা মায়ের উচিৎ কমপ্লিট ব্যাক সিটে চলে যাওয়া এবং ওদেরকে পরিবার কীভাবে চলবে এসব দিকে দিকনির্দেশনা দিতে উৎসাহিত করা। একবারে দুম করে চলে না গিয়ে অল্প অল্প করে দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে যেন সেটার জন্য প্রস্তুত করে। এই বয়সে এসে বাবা মায়ের রোলটা থাকবে এমন যাতে সন্তানের নিজে থেকেই বিভিন্ন ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে তাঁদের মতামত চায় (অর্থাৎ বাবা মা কে যথেষ্ট উইজডম গেইন করতে হবে এবং এককালে হাগুমুতু পরিষ্কার করেছে এমন মানুষটাকে পরিপূর্ণ সম্মান দিতে হবে) এবং তাঁদের সান্নিধ্য যেন সন্তানদের ও তাদের নিজেদের পরিবারের মানুষগুলোকে পজিটিভ ফিলিং দেয়। এছাড়াও দায়িত্ব ছেড়ে দেয়ার প্রক্রিয়াটা কমপ্লিকেটেড, কারণ অথরিটি ছেড়ে দেয়ার সাথে সাথে আসে অবহেলিত হওয়ার ভয়, সুতরাং সন্তান বড় হলে বাবা মায়ের একটা বিশাল গ্রোথ স্পার্ট হওয়া উচিৎ।

এত এত পরিবর্তনের মধ্যে বাবা মায়েদের নিজেদের দাম্পত্য ঠিক রাখা, তাঁদের জীবিকার কাজগুলি স্ট্রেস ফ্রি রাখা, নিজেরা ধর্মীয় মূল্যবোধ এমনভাবে চর্চা করা যেন সন্তানেরা স্পষ্ট দেখতে পায় যে এটাই তাঁদের ড্রাইভিং ফোর্স এবং তাঁদের নিজেদের গুরুজনদের সেবা ঠিকঠিকমতো করা।

বাবা মায়েদের বদলাতে হয়। অসংখ্য বার। পরিবর্তনকে রেজিস্ট করে যে বাবা মা তিরিশ বছর বয়সী ছেলের মাথার চুল আঁচড়ানো নিয়ে অস্থির করেন, ৮-৯ বছর বয়সের বাচ্চার পেছনে পেছনে ঘোরেন খাওয়ানোর জন্য, বা কিশোরী মেয়েকে বানিয়ে নেন নিজের দাম্পত্যের যাবতীয় দুঃখের কাহিনী উগড়ে দেয়ার ডাম্পস্টার, সেখানে কনফ্লিক্ট তৈরি হবে। প্যারেন্টিং-এর মূল কথা বাচ্চার প্রয়োজন মেটানো। বাচ্চারা তাঁদের প্রয়োজন ঠিকই প্রকাশ করে (ছোটবেলায় কেঁদে, বড় বেলায় অভিমান করে, বেশি বড় বেলায় দূরত্ব তৈরি করে)। এই ল্যাঙ্গুয়েজটা ধরে বারবার যদি নিজেকে প্রশ্ন করা যায় আমি যেটা করছি সেটা কি ওর আসলেই দরকার, না আমি ভাবছি ওর দরকার বা সমাজ ভাবছে ওর দরকার, তাহলে দরকারমতো অ্যাডজাস্ট করে নেয়া যাবে। আরেকটা কথা, বাচ্চার অনেক বন্ধু হবে, কিন্তু বাবা মা হবে এক জোড়াই। সুতরাং গার্ডিয়ান না হয়ে বন্ধু হব – এটা রিস্কি। হতে পারেন রেস্পেক্টফুল এডাল্ট মেন্টর, কখনো তাদের ইমোশনের ডাম্পস্টার, কিন্তু উল্টোটা না। সেজন্য বাবা মা হিসেবে কোনো কথা বলার আগে অনেকবার করে চিন্তা করে করা ভালো। কোনো ইমোশন দেখাবার আগে পরে অনেক বার করে ভেবে দেখলে ভালো। যদি ইমোশন অনিচ্ছাকৃত হয়েই থাকে তাহলে সরি বলার অভ্যাস করা ভালো। রেস্পেক্ট-এর যেন কোনো বিচ্যুতি না ঘটে।

প্যারেন্টিং বিষয়ে আমাদের প্রকাশিত প্রতিটি লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন

দাম্পত্য

দাম্পত্যে দুইজনের ব্যাকগ্রাউন্ড, পার্সোনালিটি – এসব বিচার করে দুইজনের জন্য কাজ করে এমন একটা ডায়নামিক্স বেছে নিতে হয়। মেয়েটা মুখচোরা ছেলেটা বহির্মুখী – এমনটি হলে দুইজনের জন্যই মেলে এমন করে সোশ্যাল ইন্টার‍্যাকশনগুলি বেছে নিলে, অথবা ব্যালেন্স করে দুজনের দুটো সার্কেল আবার দুইজনের কমন সার্কেল এভাবে তৈরি করলে ভালো। মেয়েটা স্বাধীনচেতা ছেলেটা কন্ট্রোলিং – তর্ক বিতর্ক সবকিছুর শেষে উভয়েই খুশি এমন ডায়নামিক্স তৈরি করতে হবে। আবার স্বামীর সব ভালো কিন্তু একটু মানুষের কাছে বড় হওয়ার নেশা আছে তাহলে স্বামীকে ছোট করা হয় এমন মন্তব্য মেয়েটির না করাই ভালো। মেয়েটার সব ভালো ভীষণ আড্ডার নেশা – তার জন্য এই সময়টুকু পরিবার থেকে করে দিলে ভালো।

আবার সময়ের সাথে সাথে ডায়নামিক্স পাল্টায়। বিয়ের পরে রোমান্টিক কানেকশন বিল্ড করার জন্য দুইজনে দুজনকে বেশি বেশি সময় দিলে ভালো। কিছুদিন পর পরিবারের সবাইকে বা বন্ধুদের সবাইকে নিয়ে সময় কাটানো শুরু করলে প্রথমে মেয়েটা যার উপর নির্ভর করে সংসার শুরু করল তার প্রতি সবটুকু কনফিডেন্স গেইন করল, তারপর এই ভালোবাসার উপর ভর করে আস্তে আস্তে অন্যদের সাথেও একীভূত হওয়ার চেষ্টা করল – এভাবে ছোট্ট একটা বৃত্ত হিসেবে শুরু করে এর পরিধি বাড়াতে পারে।

সন্তান হলে তখন আবার দুইজনের মধ্যে ছাড় দেয়ার প্র্যাক্টিস করতে হবে, কারণ আগে দুজনে দুজনার ছিল এখন এই ছোট্ট মনস্টারটা হালুম করে সব সময় নিয়ে নিচ্ছে, এমন কি বিশ্রামও। সুতরাং যেই যখনই শ্রান্ত হয়ে পড়বে, অপরজনকে বলতে হবে, আর কটা দিন ই তো! You are doing wonderful! এই সময়টাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ফিজিক্যাল ইন্টার‍্যাকশন কমে যায় সময়ের অভাবে, সুতরাং তখন মানসিকভাবে যেন ওই বন্ধনটা চালিয়ে যাওয়া যায়, নাহলে দুজন দুদিকে ছিটকে পড়বে।

জীবিকার কঠিন সময়টাতে কনফিডেন্সে একটা বড় ধাক্কা লাগে, সে সময়টাতে পার্টনারশিপের ধরণ হওয়ার উচিৎ খুবই ম্যাচিউর, কারণ একটু অভিযোগ সেসময় বাইরে ফাইট করার শক্তিতে ধ্বস নামায়।

ওটাও অল্প সময়ের। তারপর আসবে স্ট্যাবিলিটি, সেসময় উভয়েরই তারুণ্য শেষ। তখনকার সুখের ও সান্নিধ্যের ধরণটা হবে অন্য রকম। এই সব পরিবর্তন একটার পর একটা আসতেই থাকবে। যেকোনো এক ধরণের ডায়নামিক্সে থিতু হয়ে গেলে পরের ফেজে আর সাপোর্ট থাকবে না।

দাম্পত্য বিষয়ে আমাদের প্রকাশিত প্রতিটি লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন

নিজের বোধবুদ্ধি

আমাদের চিন্তার ধরণ আমাদের অভিজ্ঞতার সাথে সাথে পাল্টায়। টিনএজ-এ যে বিষয়গুলোকে ধোঁয়াটে মনে হতো ভার্সিটিতে পড়াকালে সেগুলোর উত্তর অনেকগুলোই পেয়ে যাই। তদ্দিনে আরও অনেক প্রশ্ন জমা হয় — দর্শন রিলেটেড, জীবনের মানে রিলেটেড — সেগুলোর উত্তর খুঁজি, সোজাসাপ্টা উত্তর পেয়েও যাই। সময়ের সাথে অনেক রকমের দায়িত্ব আসে, সেগুলোর মধ্যে ব্যালেন্স করতে গিয়ে দেখতে পাই প্রতিটা উত্তর একা একা সঠিক, কিন্তু সবগুলো একসাথে যখন আসে তখন একটা সঠিক উত্তর আরেকটাকে কঠিন করে দিচ্ছে।

বিভিন্ন বয়সে ও অভিজ্ঞতায় সমস্যা দেখার আঙ্গিক পাল্টায়। টিনএজের অনেক কিছু কি এখন ছেলেমানুষি মনে হয় না? তখন কি মনে হতো? না। তার মানে কি সে সময়ের সব কাজই ভুল ছিল আর এখনকার সব কাজ সঠিক? নাহ! শুধু এখানে দাঁড়িয়ে যতকিছু দেখছি, ওখানে দাঁড়িয়ে ততটা দেখতে পেতাম না। আমরা absolute truth-এর দেখা জীবদ্দশায় পাব না, কারণ সবগুলো ফ্যাক্টরকে এক করে সবার জন্য ঠিক হয় এমন লম্বা ইকুয়েশন করার সাধ্য আমাদের মানুষের নেই। প্রতিটা মানুষ আচরণ করে তার চিন্তাভাবনা, ব্যাকগ্রাউন্ড, পার্সোনালিটি, পারিপার্শ্বিকতার প্রভাব ইত্যাদির ভিত্তিতে। তাই এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আরেকটা মানুষকে জাজ করা কেবল নিজেকেই জাজ করা। কারণ জাজমেন্ট-এর মধ্য দিয়ে আমি প্রমাণ করলাম আমি তার জায়গায় দাঁড়িয়ে তাকে দেখছি না, এমনকি তার চিন্তার ধরণ যে তার দিক থেকে বা তারই মতো অন্যদের জন্য ঠিক হতে পারে সে রেস্পেক্টটাও রাখছি না।

আমরা যখন অন্যের কাজের সমালোচনা করি তখন আসলে এটাই বলতে চাই যে আমার জন্য তার হিসাব খাটবে না, এবং আমার হিসেবে আমারটা বেটার। এর পরের ধাপে আমরা হয় ঘৃণা প্রকাশ করি, নিজেকে দূরে সরিয়ে নিই, অথবা আশা/চেষ্টা করতে পারি সে যেন আমার মতো করে দেখে। শেষের কাজটা করার জন্য লাগে মানসিক শক্তি, শ্রদ্ধাবোধ, নিগাঢ় ভালবাসা এবং নিজের পথটাও যে ভুল হতে পারে সে সম্ভাবনাকে উড়িয়ে না দেয়া। এই কাজগুলি কঠিন। এত এনার্জি আমরা খরচ করতে চাই না।

***

সব কথার শেষ কথা, আমরা যেন চেষ্টা করি কিছু সিদ্ধান্ত দেয়ার আগে অনেক অনেক অনেক করে ডাউট করতে। আমি যদি ভেবে থাকি বাচ্চার মোটা হওয়ার মধ্যেই মঙ্গল তাহলে যেন এগুলোও প্রশ্ন করে নিই: কনভেনশনাল উইজডম কী বলে? ডাক্তার কী বলে? আমার বাচ্চার পার্সোনালিটি কী বলে?

যদি ভেবে থাকি বাবা মা কে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর মধ্যে অমন ক্ষতির কিছু নেই তাহলে যেন এই প্রশ্নগুলি করি: উনারা আসলে কোন জিনিসটা চান? আমি আসলে কতটুকু করার ক্ষমতা রাখি? আসলে সুবিধা আর অসুবিধাগুলো কী কী? এর মধ্যে সমাজ কী বলবে বা ভাববে এই চিন্তাটা না ঢুকিয়ে আপনার বাবা মা ও পরিবারের অন্যরা কীভাবে নেবে এটা চিন্তা করলেই ভালো হয়।

ডিভোর্স অথবা লাইফ লং ভিক্টিম মেন্টলিটিতে দাম্পত্য টেনে নেয়ার আগে যেন সবগুলো ফ্যাক্টরকে আগে চিন্তা করি: আসলে আমার জন্য কোনটা জরুরি? আসলে আমার জন্য কোনটা করা সম্ভব? কারো জন্য সমাজের গ্রহণীয়তাটা জরুরি, কারো জন্য স্বাধীনতা। এটা আমি বা আপনি বলে দিতে পারব না। শুধু যেটা করতে পারি তা হলো রিয়েলিটিটা দেখিয়ে প্র্যাক্টিক্যাল কিছু সাজেশন দিতে পারি।

পরিবর্তন নিজে খারাপ বা ভালো না। পরিবর্তনের প্রতি আমাদের অ্যাপ্রোচ ভালো বা খারাপ হয়। সব পরিবর্তনের কন্ট্রোল আমাদের হাতে থাকে না। তাই সেটা নিয়ে শুধু শুধু রাগ না দেখিয়ে বরং কেন রাগ লাগছে সেটা খুঁজে বের করা জরুরি।

লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় লেখিকার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this:
search previous next tag category expand menu location phone mail time cart zoom edit close