প্রতিদিন ২৫ মিনিট করে হলেও বই পড়ুন

eyeglass-and-book

আমরা আজ অনেক পড়ি। পত্রিকা পড়ি। ওয়েবসাইট পড়ি। ফেসবুকে স্ট্যাটাস পড়ি। ছবির ক্যাপশন পড়ি। কাড়িকাড়ি মন্তব্য পড়ি। বিজ্ঞাপন, নোটিশ পড়ি। ইনস্ট্রাকশন ম্যানুয়াল, নতুন স্মার্টফোনের বিজ্ঞাপন, স্পেসিফিকেশন—কত কী যে পড়ি তার ইয়ত্তা নেই।

মানুষ সৃষ্টির পর স্রষ্টা তাকে প্রথমে বিভিন্ন জিনিসের নাম শিখিয়েছেন। শেষ নাবির ﷺ কাছে প্রথম নির্দেশনা পাঠিয়েছেন: “পড়ো”। স্রষ্টা যখন আমাদেরকে কিছুর আদেশ করেন, তার মানে সেটা অবশ্যই আমাদের স্বভাব-অনুকূল। তিনি আমাদের এমন কিছুর আদেশ করবেন না, যা আমাদের প্রকৃতিবিরুদ্ধ। 

বই পড়ার কথা বললে অনেকে বলে পড়ার সময় নেই। আমাদের দেশে অফিসে যেতে আসতে কম করে হলেও ৩০-৪৫ মিনিট সময় লাগে। আধা ঘণ্টায় গড়পড়তার একজন ১৫-২০ পাতা পড়ে ফেলতে পারেন। অথচ এই সময়টা হয়তো যায় ফেসবুক কিংবা নিউজ স্ক্রলিং করে করে।

অনেকের বই পড়ার ঝোঁক আছে। কিন্তু তারা হয়তো একে ব্যবহার করছেন অপ্রয়োজনীয়, হালকা বিনোদনের কিংবা কখনো কখনো ঈমান এবং নৈতিকতা বিধ্বংসী বই পড়ে। মাঝে মাঝে হালকা বিনোদনের বই পড়া যেতেই পারে। কিন্তু পড়ার পুরোটা সময়ই যদি এর পিছে ব্যয় হয়, তাহলে হবে?

বিল গেটস, স্টিভ জবস, জুকারবার্গ, ওয়ারেন বাফেট—সময়ের সব প্রতিষ্ঠিত আর বাঘা বাঘা ব্যক্তিত্ব। একেক জন একেক দিকপাল। এদের রিডিং হ্যাবিটস লিখে গুগলে সার্চ দেন। দেখবেন এদের দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে আত্ম-উন্নয়নমূলক বই পড়ে পড়ে। গৎবাধা বাজারি গল্প-উপন্যাস পড়ে দিনাতিপাত করেন না তারা। টিভির চটুল প্রোগ্রাম, কিংবা হালআমলে যেগুলো এখন স্মার্টফোনের সৌজন্যে আরও সহজলভ্য, সেগুলো দেখে দেখে তাদের দিন কাটে না।

কীভাবে তারা সফল হলেন? উন্নত মনের মানুষ হলেন?

বই পড়া আর লেখায় আমাদের মুসলিমদের অবদান ও চর্চা আরও বেশি সমৃদ্ধ। এক কুর’আন দিয়ে শুরু। এর উপর ভিত্তি করে খণ্ডের পর খণ্ড লিখে গেছেন বিভিন্ন মনীষিরা। সেগুলো পড়ে পড়ে দিস্তার পর দিস্তা রচনা করেছেন পরবর্তী প্রজন্মের বিদ্বানেরা। কিন্তু এগুলো পড়ার সময় কই আমাদের?

গোটা কুর’আন এ মলাট থেকে ও মলাট অর্থ বুঝে শেষ করেছেন কজন? যেসব বই পড়ে পার্থিব জীবন সুন্দর হবে, পরকালের শান্তি নিশ্চিত হবে এমন কতগুলো বই গত পাঁচ বছরে পড়া হয়েছে? বিশুদ্ধ উৎস থেকে নিজের প্রিয় নাবি ﷺ, তাঁর জীবনী নিয়ে কোনো বই কি শেষ করেছি?

এই লেখাটার যদি এতদূর এসে থাকেন, তাহলে বোঝা যায় আপনার মধ্যে পড়ার আকর্ষণ আছে। আগ্রহ আছে। হয়তো বই নিয়ে নিয়মিত না-বসার কারণে কাজের কাজ হচ্ছে না।

বেশি না, প্রতিদিন মাত্র ২৫ মিনিট পড়ুন। গত দুমাস পঁচিশ মিনিট করে পড়ে পড়ে আমি প্রায় ৮০০ পাতার দুটো বই শেষ করেছি। ইচ্ছে আর নিজের জীবনকে সুন্দর করার আগ্রহ থাকলে আপনার জন্যও তা ব্যাপার না।

এই লেখাটা পড়া শেষ করে বইয়ের তাক থেকে এখনি একটি বই নামিয়ে পড়া শুরু করুন। অন্তত দু মিনিট। কিংবা স্মার্টফোনে পড়ার জন্য ওয়েব থেকে ইসলামি কোনো বই নামিয়ে নিন। ছন্দে চলে এলে এরপর দেখবেন মন বসে গেছে। ঘণ্টার কাঁটা কখন যে পার হয়ে যাবে টেরই পাবেন না!

লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় লেখকের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে

আরও পড়ুন:

Advertisements

One thought on “প্রতিদিন ২৫ মিনিট করে হলেও বই পড়ুন

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s