পরকালীন জীবনে বিশ্বাসের যৌক্তিকতা (অনুবাদ)

উস্তাদ নুমান আলী খানের একটি লেকচারের অংশবিশেষ থেকে অনুদিত। মূল অনুবাদটি প্রথম প্রকাশিত হয় Nouman Ali Khan Collection In Bangla ফেসবুক পেইজে।

above-cloud

আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের অত্যাবশ্যকীয় দাবী হলো আপনি অবশ্যই পরকালে বিশ্বাস করবেন। আপনি যদি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস না করেন তাহলে আপনার জন্য এটা মেনে নেওয়া খুবই কঠিন হয়ে যাবে যে, এই জীবনের পরে আরও একটি জীবন আছে। কিন্তু, আপনি যদি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করেন তাহলে এই বিশ্বাসেরই যৌক্তিক পরিণতি হলো পরকাল। 

কীভাবে?

আপনি যদি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করেন তাহলে আপনি এবং আমি কি এটা বিশ্বাস করি না যে, তিনি সকল কাজই নিখুঁতভাবে করেন? তিনি একদম নির্ভুল? আপনি যদি কোনো নাস্তিক, দার্শনিক কিংবা অজ্ঞাবাদীর সাথে কথা বলেন তবে তারা বলবেন, যদি কোনো সৃষ্টিকর্তা থাকতো তাহলে তিনি সকল ক্ষেত্রে নিখুঁত-নির্ভুল হওয়াই যুক্তিসঙ্গত। সুতরাং, তাঁর কোনো কাজে যদি এই নির্ভুলতার গুণ বা উৎকর্ষের কিছু কমতি হয় তাহলে তিনি আর সৃষ্টিকর্তা নন। তিনি যা করেন তা-ই নির্ভুল হওয়ার কথা।

এখন, আপনার চারপাশে লক্ষ্য করলে আপনি কী দেখতে পান? ন্যায়বিচার, নাকি অন্যায়? আপনি ন্যায়বিচার দেখতে পান না। আপনার চারপাশে আপনি অন্যায়-অবিচার দেখতে পান। আপনি দেখেন যে, নিরপরাধ মানুষদেরকে হত্যা করা হচ্ছে। ছোট শিশুরা রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। আপনি আরও দেখতে পান খুনীরা হাজার হাজার মানুষ হত্যা করে পার পেয়ে যাচ্ছে। যখন একজন মানুষ অন্য দশজন মানুষকে হত্যা করে তখন এর শাস্তি হিসেবে আপনি তাকে সর্বোচ্চ কী করতে পারেন? কোন শাস্তিটি তার জন্য সবচেয়ে ন্যায়সঙ্গত হতে পারে? আপনি তাকে হত্যা করতে পারেন। হ্যাঁ, কিন্তু কতবার? মাত্র একবার! যদি সে একজনকে হত্যা করে, তাহলে আপনি তাকে একবার হত্যা করতে পারেন। যদি সে এক হাজার মানুষ হত্যা করে তাহলেও আপনি তাকে একবারই হত্যা করতে পারবেন। এখান থেকে আপনি খুব সহজেই এই সিদ্ধান্তে আসতে পারেন যে, আসলে কোনো ন্যায়বিচার নেই। প্রকৃতপক্ষেই, এই পৃথিবীতে পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচার নেই। আপনি ন্যায়বিচার পাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন, কিন্তু এই পৃথিবীতে পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচার নেই।

এই বিষয়টিকেই নাস্তিকরা তাদের মতামতের পক্ষে যুক্তি হিসেবে দেখান। তারা বলেন, যদি কোনো সৃষ্টিকর্তা আসলেই থাকতেন তাহলে এই অন্যায়-অবিচার থাকতো না।

কিন্তু আমরা বলি, না, আপনি একটি বিষয় মিস করছেন। সৃষ্টিকর্তা একজন অবশ্যই আছেন। এ কারণেই অপরাধীদের খাতায় যা ক্রেডিট হচ্ছে পরবর্তীতে তার ডেবিটের অংশেও তা মিলানো হবে। এবং সকল ডেবিটের ক্রেডিটও পরবর্তীতে মিলানো হবে। কোনো অপরাধ উপেক্ষা করা হয়নি। কোনো কিছুই রেকর্ডের বাইরে নয়। সবকিছুই নজরদারীর আওতার মধ্যে। আর কোনো বিষয়ে আপনি কষ্ট ভোগ করেছেন, যার কোনো ক্ষতিপূরণ আপনি এখানে পাননি, তার বিনিময় আপনি পাবেন। এটাকে বলা হয় শেষ বিচারের দিন।

অন্যভাবে বলতে গেলে, আপনি যদি শেষ বিচারের দিনে বিশ্বাস না করেন তাহলে আপনি এটাও বিশ্বাস করতে পারবেন না যে, আল্লাহ হলেন ন্যায়বিচারক। আল্লাহর ন্যায়বিচারের গুণাবলী এটা দাবী করে যে, আপনি শেষ বিচারের দিনে বিশ্বাস করবেন। এই কারণে এই দুটি বিষয় যৌক্তিকভাবে সম্পর্কিত।

এখন, আপনি যদি শেষ বিচারের দিনে বিশ্বাস করেন তাহলে আপনি কি সেই দিনে সফল হতে চান না? এবং আপনি এটাও যেহেতু স্বীকার করে নিয়েছেন যে আপনি আল্লাহর বিচারের সম্মুখীন হবেন তাই আপনি কি জীবনযাপনে সততা অবলম্বন করতে চান না?

তাই প্রথমে আসলো আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস। এই বিশ্বাসের যৌক্তিক পরিণতি হলো পরকালের প্রতি বিশ্বাস। অতএব, আপনি যদি এই সিদ্ধান্তে আসেন যে শেষ বিচারের দিন সত্য তাহলে আপনাকে কোন বিষয়টি শুধরাতে হবে ? আপনার আমল।

مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَعَمِلَ صَالِحًا فَلَهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ

“যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ও কিয়ামত দিবসের প্রতি এবং সৎকাজ করেছে তাদের জন্য রয়েছে তার সওয়াব তাদের পালনকর্তার কাছে। আর তাদের কোনোই ভয়-ভীতি নেই, তারা দুঃখিতও হবে না।” [সূরা বাকারা, আয়াত ৬২]

অত্যন্ত শক্তিশালী বাস্তব সত্য উপস্থাপন করা হয়েছে মাত্র তিনটি বাক্যাংশে: যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ও কিয়ামত দিবসের প্রতি এবং সৎকাজ করেছে । এটাই মুমিনের মানসিকতা। আর এই সবগুলো বিষয়ই পরস্পর সম্পর্কিত।

বিপরীত দিক থেকেও এটা সত্য।

আপনি যদি দেখেন যে আপনি বেশি বেশি ভালো কাজ [১] করছেন না তাহলে আপনার কোন বিষয়টি দুর্বল? এটা আখিরাতে বিশ্বাসের দুর্বলতা। তেমনটি হয়ে থাকলে আপনি নিশ্চিত নন যে, আপনি যা করছেন তার বিনিময় আপনি আসলেই পাবেন কি না। ফলে, এই উদ্দেশ্যে সময় ব্যয় করাকে আপনি লাভজনক বলে মনে করছেন না। অন্য আরও বিষয় আছে যেগুলোতে আপনি সময় ব্যয় করছেন, কেননা আপনার কাছে মনে হচ্ছে সেটাই সময়ের উত্তম ব্যবহার। অন্য কথায়, আপনি যখন আপনার ভালো কাজে দৃঢ় প্রত্যয় না দেখেন সেটা আসলে ভালো কাজ করার ক্ষেত্রে দুর্বলতা নয়, আসলে এটা পরকালে বিশ্বাসে দুর্বলতা। আপনার পরকালের স্মরণ যথেষ্ট হচ্ছে না। আর পরকালে বিশ্বাস যদি দুর্বল থাকে তা কী ইঙ্গিত করে জানেন? আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসে দুর্বলতা।

সুতরাং, আপনি যত বেশি ভালো কাজ করবেন আপনার পরকালে বিশ্বাস তত বেশি পোক্ত হবে। পরকালে বিশ্বাস দৃঢ় হলে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস আরও বদ্ধমূল হবে।

[১] ভালো কাজ বলতে এখানে ইসলামের দৃষ্টিতে ভালো কাজকে বোঝানো হয়েছে। এ বিষয়ে পড়ুন: নামাজ না পড়েও ‘ভালো’ হওয়া যায় কি?

বাংলা সাবটাইটেলসহ মূল লেকচারটি দেখুন এখানে:

আরও পড়ুন:

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s