ভাষা আল্লাহর একটি বিশেষ নিয়ামত

Telephone

আন্তর্জাতিক ভাষা গবেষণা প্রতিষ্ঠান এথনোলগ-এর তথ্যানুসারে পৃথিবীতে বর্তমানে মোট ভাষার সংখ্যা ৭,১০৫টি। [১] তন্মধ্যে বাংলাদেশেই আছে ৪৪টি। [২] ভাষাভাষীদের সংখ্যার দিক থেকে পৃথিবীতে বাংলা ভাষার অবস্থান ৭ম। পৃথিবীর ২০২ মিলিয়ন মানুষ এ ভাষায় কথা বলে, যা পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ৩.০৫ শতাংশ। বিস্তারিত পড়ুন

সবর ও শোকর

Summer sun

জীবনের গতিটাকে যদি পেনসিলের খোঁচায় আঁকতে হয়, তাহলে নিশ্চয় হৃত্স্পন্দনের উঁচু-নিচু রেখার মতোই হবে; কখনো ওপরে, কখনো নীচে, কখনো বা সমতলে চলতে থাকে জীবন-স্পন্দন। কখনো হাসি, কখনো কান্না। কখনো আশা, কখনো নিরাশা। কখনো ‘উসর, কখনো ইউসর।

94:6

নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে। (আল-কুরআন, ৯৪:৬)

তবে উভয় অবস্থাই মুমিনের জন্য কল্যাণকর।

عَنْ صُهَيْبٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : “عَجَبًا لأَمْرِ الْمُؤْمِنِ إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ خَيْرٌ وَلَيْسَ ذَاكَ لأَحَدٍ إِلاَّ لِلْمُؤْمِنِ إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ وَإِنْ أَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ صَبَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ”.

সুহাইব রা. বর্ণনা করেন, রাসূল সা. বলেছেন, “মুমিনের ব্যাপারটা বেশ দারুণ, তার সবকিছুই মঙ্গলজনক। এবং এমনটা মুমিন ছাড়া অন্য কারো ক্ষেত্রে হয় না। সে সুখে থাকলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, ফলে সেটা তার জন্য কল্যাণকর হয়। আবার সে দুখে থাকলে ধৈর্যধারণ করে, ফলে সেটাও তার জন্য ভালো হয়ে থাকে।” (সহীহ মুসলিম: ২৯৯৯)

অন্যভাবে বললে, বিস্তারিত পড়ুন

কুরবানী নিয়ে বহুল উত্থাপিত দুটো আপত্তি এবং তার জবাব

প্রতি বছর ঈদুল আযহার পূর্বে কিছু প্রশ্ন আশপাশ থেকে ভেসে আসে। সহজ ভাষায় সেরকম দুটো প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি।

আপত্তি ১: কুরবানীর ঈদকে কেন্দ্র করে প্রচুর আর্থিক ক্ষতি হয়।  

জবাব: কুরবানীর ঈদকে ঘিরে অনেক বেশি অর্থ সঞ্চালন হয়। যা যেকোনো অর্থ ব্যবস্থার জন্যই হট-কেকের মতো। একটি অর্থ ব্যবস্থায় যত বেশি অর্থের আদান-প্রদান হয়, সেটাকে তত শক্তিশালী মনে করা হয়।

কুরবানী ঈদকে টার্গেট করে একদল মানুষ গুরু-মহিষ-উট-ছাগল-ভেড়া-দুম্বা প্রতিপালন করে। ঈদের আগে তারা বিক্রয় করে। অপর দল সেগুলো গরুর হাটে নিয়ে আসে। কখনোবা মালিক নিজেই গরুর হাটে আনেন। পরিবহন শ্রমিক-ব্যবসায়ীরা গরু-ছাগল পরিবহন করেন। (পথিমধ্যেও কিছু মানুষের উপার্জনের ব্যবস্থা হয়, তবে হারাম উপায়ে, ঘুষ হিসেবে।)

একদল লোক হাটের ব্যবস্থা করেন। সেখানে বাঁশ, বিদ্যুৎ, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ইত্যাদি নিয়ে আরো অনেকের কর্মসংস্থান হয়। গরু-ছাগলের খাবার, দা-বটি-চাটাই -এসব নিয়েও একদল মানুষ ব্যবসা করেন। সবশেষে গরু-ছাগল ক্রয় করেন কুরবানীদাতা।

কুরবানী করার পর চামড়া ছাড়ানো-গোস্ত বানানো ইত্যাদির জন্য একদল মানুষের কর্মসংস্থান হয়। চামড়া আবার চলে যায় গরীবের কাছে। সে আবার বিক্রয় করে ট্যানারির কাছে। ট্যানারি প্রতিষ্ঠান তা পরিশোধন করে বিদেশে এক্সপোর্ট করে। এত মানুষের আয়-কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দেশ উপার্জন করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা। কুরবানীর বর্জ্য অপসারণেও কর্মসংস্থান হয় অনেকের।

এ তো গেল কুরবানীর পশুকে ঘিরে এত কিছু। এছাড়া ঈদের আনন্দকে আরো বাড়িয়ে তুলতে পোশাক-পরিচ্ছদসহ নানা কিছুর ক্রয়-বিক্রয় হয়। নগদ অর্থের বিরাট এ লেনদেন সামাল দিতে বিস্তারিত পড়ুন

ফাসাদের বিভিন্ন অর্থ এবং ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের পরিণাম

Careless

আল-কুরআনে আল্লাহ তায়ালা অনেক আয়াতে ফাসাদের কথা উল্লেখ করেছেন। ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের তিনি পছন্দ করেন না বলে সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন। [৫:৬৪২৮:৭৭]

বিভিন্ন আয়াতে তিনি বিভিন্ন বিষয়ের সাথে ফাসাদের কথা মিলিয়ে উল্লেখ করেছেন, যা থেকে ফাসাদের বিভিন্ন অর্থ স্পষ্ট হয়। যেমন:

১. আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গিকার ভঙ্গ করা, আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করা [২:২৭]
২. রক্ত প্রবাহিত করা [২:৩০]
৩. শস্যক্ষেত্র নষ্ট করা ও প্রাণনাশ করা [২:২০৫]
৪. মাপে কম দেওয়া [৭:৮৫],[১১:৮৫]
৫. ঈমান না আনা, অবিশ্বাস করা [১০:৪০]
৬. জাদু করা/ অসত্যকে সত্যের মতো করে উপস্থাপন [১০:৮১]
৭. চুরি করা [১২:৭৩]
৮. কুফরী করা, অবাধ্যতা করা [১৬:৮৮], [১৭:৪]
৯. আল্লাহর পথে বাধা দেওয়া [১৬:৮৮]
১০. অহংকার করে প্রত্যাখ্যান করা [২৭:১৪]
১১. পৃথিবীতে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করা [২৮:৮৩]

এছাড়া ফাসাদের সাধারণ অর্থে বিভিন্ন আয়াতেই ব্যবহার হয়েছে। যেমন: বিস্তারিত পড়ুন

যাকাত সম্পর্কে যে বিষয়গুলো না জানলেই নয়

লেখকের “ইসলামী অর্থনীতিতে যাকাতের ভূমিকা ও যাকাতের খুঁটিনাটি” শিরোনামের একটি প্রবন্ধের নির্বাচিত কয়েকটি অনুচ্ছেদ এখানে পুনঃপ্রকাশ করা হলো। — সম্পাদক

Balancing the account

যাকাত কী?

যাকাত শব্দের অর্থ বৃদ্ধি পাওয়া। রিবা (সুদ) অর্থও বৃদ্ধি পাওয়া। তবে যাকাত আর রিবার বৃদ্ধির মাঝে পার্থক্য আছে। যাকাত সম্পদের বরকত ও ক্ষমতা বৃদ্ধি করে; সম্পদকে পবিত্র করে। অপরদিকে রিবা সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি করে, তবে বরকত নষ্ট করে দেয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আল্লাহ রিবার সম্পদ ধ্বংস করে দেন, আর যাকাত-সাদাকাতের সম্পদকে বৃদ্ধি করে দেন”।[1]

তিনি আরো বলেন, “আপনি তাদের সম্পদ থেকে সাদাকা-যাকাত উসুল করুন। এটা তাদেরকে পবিত্র করবে”।[2]

পরিভাষায় যাকাত হলো, শরীয়ত নির্ধারিত ব্যক্তিকে আল্লাহর সন্তুষ্টিচিত্তে শরীয়ত নির্ধারিত সম্পদের অংশের মালিক বানিয়ে দেয়া।

যাকাত হলো ধনীর সম্পদে গরীবের হক। আল্লাহ বলেন, “আর তাদের সম্পদে গরীব ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে”।[3] কাজেই যাকাত আদায় না করার অর্থ, গরীবকে প্রাপ্য হক থেকে বঞ্চিত করা।

যাকাত অনাদায়ের ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালা কঠিন শাস্তির ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “আর যারা স্বর্ণ ও রূপা জমা করে রাখে এবং তা ব্যয় করে না আল্লাহর পথে,তাদের কঠোর আযাবের সুসংবাদ শুনিয়ে দিন। সেদিন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং তার দ্বারা তাদের ললাট, পার্শ্ব ও পৃষ্ঠদেশকে দগ্ধ করা হবে। (সেদিন বলা হবে), এগুলো যা তোমরা নিজেদের জন্যে জমা রেখেছিলে, সুতরাং এক্ষণে আস্বাদ গ্রহণ কর জমা করে রাখার”।[4]

যাকাত কখন ফরয হয়?

প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমের ওপর যাকাত ফরয হয়, যদি তার কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ এক বছর পর্যন্ত থাকে।

নেসাবের ব্যাখ্যা: নেসাব হলো সম্পদের একটি পরিমাপ; সর্বনিম্ন যে পরিমাণ সম্পদ থাকলে ব্যক্তির ওপর যাকাত ফরয হয় এবং তাকে বলা হয় সাহিব-এ-নিসাব।

রাসূল স. সোনা-রূপা, পশু ও ফসলের ভিন্ন ভিন্ন নেসাব বর্ণনা করে গেছেন। তবে যেহেতু পশু ও ফসল ভিন্ন অন্য সব খাতে সোনা-রূপার নেসাবই ধর্তব্য, তাই আমরা কেবল সেটা নিয়েই আলোচনা করব।

রাসূল স. এর বর্ণিত হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে সোনার নেসাব হয় ৮৭.৪৮ গ্রাম বা ৭.৫ ভরি। আর রূপার নেসাব হয় ৬১২.৩৬ গ্রাম বা ৫২.৫ ভরি। বর্তমান বাজারমূল্য হিসেবে সোনার নেসাব দাঁড়ায় বিস্তারিত পড়ুন